চাঁদপুরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাহিদুল ইসলাম এর গল্প

চাঁদপুরের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাহিদুল ইসলাম এর গল্প

রিফাত কান্তি সেন-
বাস্তব জীবনে আমাদের দেশে এমন অনেকেই আছেন,যিনি তার জীবনটাকে সামলে নিচ্ছেন বহুপ্রতিকুলতাকে অগ্রাহ্য করে। আবার কেউ,কেউ প্রতিকুলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাফল্যের চুঁড়ায় পৌছে গেছে। প্রতিকুলতাকে জয় করা তেমনই এক যুবক;দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জাহিদুল ইসলাম। তাঁর বাড়ি চাঁদপুর জেলার ,ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাছিয়াখালী গ্রামে। জাহিদুল ইসলাম একজন কোরআনে হাফেজ । তাঁর বয়স যখন দুই কি তিন ,তখনই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। জাহিদুল ইসলামের জন্ম ১৯৮২ সালে।বাবা আবু তালেব ও মাতা লুৎফুর নাহারের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন জাহিদ। চার ভাই এক বোনের মাঝে মেজ সে। জন্মের পর পৃথিবীর আলো দেখা হলে ও তা বেশী দিন দেখা হয়নি তাঁর। হঠাৎ ই দু’বছরের মাথায় অজান্তা রোগে চোখ দুটি নষ্ট হয়ে যায় তাঁর। বহু চিকিৎসা করিয়েও তাঁর চোখ দুটোকে ভাল করা যায় নি! আর তাইতো সে দৃষ্টি হারিয়ে পৃথিবীর আলো আর দেখতে পারেনি। কিন্ত চোখের দৃষ্টি না থাকলেও তাঁর মনের জোড় ছিলো খুবই শক্তিশালী।পরিবারের সকলের চেয়ে মেধাবী তিনি। চোখ না থাকলে ও শিক্ষার প্রতি তাঁর ছিলো প্রচন্ড আগ্রহ। আগ্রহ দেখে অভাবগত সংসারের মধ্যেও, পিতা তাকে স্থানীয় পশ্চিম দায়চরা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। সে থেকে তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু। বহু প্রতিকুলতাকে পারি দিতে হয়েছে তাকে তাঁর শিক্ষা জীবনে। শিক্ষকরা পড়ে শেনাতেন, আর তিনি তা মুখস্ত করে শিখে ফেলতেন।শিক্ষা জীবনে তিনি লাউতলী,হুগলী মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন।মেধাবী জাহিদুল ইসলাম শোনে,শোনেই আয়ত্ব করতেন পড়া।প্রচন্ড প্রতিকুলতাকে জয় করে হাফেজি পাস করেন তিনি। শিক্ষা জীবনে তিনি বেশীরভাগ সময় বোডিং এ থেকেই দিন,রাত্র যাপন করতেন। কর্মজীবন শুরু হয় হুগলী মাদ্রাসা থেকে। ৪ বছর সেখানে শিক্ষকতা ও করেন। বর্তমানে তিনি মসজিদের ইমামতি করছেন(সাছিয়াখালী বায়তুল আকসা মসজিদ)। ইসলামের প্রতি তাঁর প্রচন্ড ভালবাসা। তিনি নিজ গ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন যায়গায় ওয়াজ মাহফিল করেন। নিজ এলাকার বাহিরে প্রধান মেহমান হয়ে মাহফিলে বক্তৃতা করেন। চমৎকার তার কন্ঠস্বর। অন্ধ হাফেজ নামেই তাঁর নাম-ডাক। একান্ত কথা হয় এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেধাবী যুবকের সাথে। কেমন আছেন?
জাহিদুল: আল্লাহর রহমতে ভাল আছি ।

আচ্ছা জাহিদ সাহেব আপনি তো চোখে দেখেন না। এ নিয়ে কি আপনার কোন আক্ষেপ নেই?
জাহিদুল: না’ আক্ষেপ থাকবে কেনো? মহান আল্লাহ চেয়েছেন বলেই আমি দৃষ্টিহীন। কিন্তু আর সব অঙ্গতো আমার ঠিকই আছে। মনের জোড়,সবচেয়ে বড় জোড়।
আপনার কি কোন দুঃখ আছে?
জাহিদুল: তা ও নেই। আল্লাহ যা ভাল মনে করেছেন;তা ই করেছেন। এতে দুঃখের কিছুই নেই।
বিয়ে করেছেন?
একটু লাজুক হেসে, জাহিদুল: হ্যাঁ! দুটি সন্তান ও আছে। এক মেয়ে,এক ছেলে। মেয়েটা চাঁদপুরের একটি মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
আমরা জানতে পেরেছি যে, আপনি আপনার গ্রামের বাহিরে ও ওয়াজÑমাহফিলে অংশ নেন। বিশেষ করে প্রধান বক্তা হিসেবেই।আরো জানলাম যে আপনার ছোট্ট একটি নূরানী মাদ্রাসা ও আছে। তো এ নিয়ে কিছু বলবেন কি?
জাহিদুল: হ্যাঁ ,আল্লাহ আমাকে অনেক মানুষের ভালবাসা প্ওায়ায় জন্য তৌফিক দান করেছেন। আমি “আল্লাহ” তায়ালার কাছে চির কৃতজ্ঞ। আমার একটি নূরানী মাদ্রসা আছে । সেখানে ৪০ এর মত বাচ্ছা শিক্ষা গ্রহন করছে।
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী কি কখনো আপনাকে হেয় করেছে?
জাহিদুল: না,আমার স্ত্রী খবই ভাল মানুষ।
ভবিষৎ কোন পরিকল্পনা আছে কি?
জাহিদুল: হ্যাঁ আছে,আমি আমার দেয়া নূরানী মাদ্রাসাটিকে অনেক পথ এগিয়ে নিতে চাই। ইসলামের শিক্ষা বিলাতে চাই প্রজন্মের মাঝে।
আমরা ্ও আপনার স্বপ্ন বান্তবায়ন হোক সে প্রার্থনা করি। ভাল কাজের জন্য মানুষের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকুন ;প্রত্যাশা এটাই।
প্রিয় পাঠক; জেনে খুশি হবেন যে অনেক ইংলিশ মিডিয়াম যখন বাংলা পড়ায় না ঠিক তখন জাহিদুল ইসলাম তাঁর মাদ্রসায় বাংলা শেখার ্ও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।আপন আলোয় নিজেকে মেলে ধরেছেন জাহিদুল। সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে এ যুবক। ভাল কাজে মননিবেশ করে হয়েছেন প্রশংসিত।
বর্তমানে তাঁর থেকে নতুন প্রজন্মের অনেকেরই উচিত শিক্ষা নেয়া।



এই প্রতিবেদন টি 336 বার পঠিত.