ঈদ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ যাত্রায় আশঙ্কা

ঈদ উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ যাত্রায় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । বন্যা উত্তর পরিস্থিতির পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাকের চাপ ও খানাখন্দে ভরা মহাসড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়কের জন্য বছরজুড়ে ভারী বর্ষণকে দায়ী করা হলেও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জোড়াতালির সংস্কার কাজ। টাঙ্গাইলে মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলায় ঢাকা যমুনা সেতু হয়ে থেকে উত্তরের পথে চলাচলকারী ২০ জেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে যমুনা সেতুতে যেতে আবদুল্লাহপুর হয়ে বাইপাইল মোড় দিয়ে চন্দ্রা ও নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়ক ব্যবহার হয়। ঢাকা শহরের যাত্রীদের সঙ্গে যোগ হয় আশুলিয়া ও সাভার শিল্পাঞ্চলের কয়েক লাখ পোশাক শ্রমিক।
নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল, ডিইপিজেড ও জিরানী এলাকায় ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বাইপাইল আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের জামগড়া ও জিরাবো এলাকায়ও রয়েছে খানাখন্দ। এর সঙ্গে রয়েছে ওই অবৈধ অটোরিকশার অবাধ চলাচল।
ওই মহাসড়কের গর্ত সংস্কারে কোনো কোনো এলাকায় সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে ঈদযাত্রার পথে এই সংস্কার কাজ হয়ে উঠতে পারে দুর্ভোগের আরেক কারণ।
এছাড়া আশুলিয়া ও সাভার এলাকার রাস্তার পাশে গড়ে অবৈধ ওঠা বাস কাউন্টারগুলো ভেঙে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। যানজট নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে পোশাক শ্রমিকদের বাসের জন্য অপেক্ষা কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে।
সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানিয়েছেন, নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়ের বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দ সংস্কার করা হলেও টানা বৃষ্টিতে আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কষ্ট বাড়াবে নির্মাণাধীন চার লেন
গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী রাস্তার পাশে ফেলে রাখা, আর মূল সড়কে সংস্কার কাজ এই সড়কের গতি কমিয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর সংযোগ মহাসড়কেও রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সবখানেই চলছে সংস্কার কাজ। তবে তা ঈদযাত্রার আগে শেষ করা আর বৃষ্টিপাতের মধ্যে তা টিকে থাকা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, পৌলী, রসুলপুর, বিক্রমহাটী, রাবনা, মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় খানাখন্দ মেরামত কাজ চলছে।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম নুর ই আলম বলেন, ‘সড়কের খানাখন্দ মেরামত এর কাজ চলছে। বড় অংশগুলো মেরামত শেষ হয়েছে। এখন ফিনিশিং চলছে। বৃষ্টির কারণে কোথাও খানাখন্দ সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামত করা হবে।’
সিরাজগঞ্জের যন্ত্রণা হাটিকুমরুল
উত্তরাঞ্চলের গাড়িগুলো রাজশাহী আর বগুড়ার পথে ভাগ হয়ে যায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় থেকে। তবে এবারে এই মোড় এবং সংশ্লিষ্ট সড়কে খানখন্দ থাকায় দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলার কন্ট্রিবিউটর সিরাজুল ইসলাম শিশির জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টিতে হাটিকুমরুল মোড়, উল্লাপাড়া, চান্দাইকোনা-ঘুড়কা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের মহিষলুটি-খালকুলা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সংস্কার চালালেও ঈদযাত্রার আগে তা শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

হাটিকুমরুল থেকে বনপাড়া-নাটোর অভিমুখে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ইট দিয়ে কোনোরকমে সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। হাটিকুমরুল-বগুড়া মহাসড়কের উল্লাপাড়ার শ্রীকোলা মোড় থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশের বিটুমিনের স্তর তুলে কংক্রিট-বালু দিয়ে মসৃণ করা হচ্ছে। হাটিকুমরুল মোড় থেকে নলকা সেতু পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশের কিছু কিছু স্থানে ইটের মেরামত করা কাজের কঙ্কাল বের হয়ে আছে, সেখানে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাজহারুল হায়দার কিছু সংস্কার কাজ বাকি থাকার দাবি করে আগামী তিন দিনে তা শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রবেশদ্বার নাটোর। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার অংশ খানাখন্দে ভরা। এর মধ্যে ১২ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। নাটোরের দত্তপাড়া থেকে বড়াইগ্রামের বনপাড়া পর্যন্ত রাস্তায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে বিটুমিন ছাড়াই সড়কে ইট-বালু দিয়ে মসৃণ করার চেষ্টা চলছে। জেলার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছি। ঈদের পরে পাথর-পিচ (বিটুমিন) দিয়ে সংস্কার কাজ করা হবে।
প্রসঙ্গত, এবারে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মীদের ২৪ ঘন্টা রাস্তায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পটরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২৬ আগস্ট শনিবার চট্টগ্রাম সফরের সময় এই বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বৃষ্টির কোন অজুহাত মানতে চান না তিনি।



এই প্রতিবেদন টি 195 বার পঠিত.