আবার কক্সবাজার সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল

আবার কক্সবাজার সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নেমেছে।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এক রাতে ৩০টি পুলিশ পোস্টে হামলার ঘটনার পর উত্তেজনা আর শঙ্কার মধ্যে আছে তারা। আর তাই উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে । এখন নাফ নদীর প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীরে বসে আছে সহায় সম্বলহীন কয়েক হাজার মানুষ । সরেজমিনে দেখা যায় পালংখালী ইউনিয়নে সীমান্তের এপারে নাফ নদীর তীরে লাইন ধরে বসে আছে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ, শিশু। এপাশে মাছের ঘের, জলাশয় ও খোলা জমি পেরিয়ে তারা লোকালয়ের দিকে আসতে পারছে না । আর এদিকে মোটামুটি এক কিলোমিটার দূরত্বে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আছে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনতা ।

 

বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেছেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহেই সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছিলেন তারা । বৃহস্পতিবার রাতে রাখাইনের ঘটনার পর সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে ।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে । শরণার্থী বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গত বছরের শেষ দিকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হলে আরও ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে প্রবেশ করে ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে সমন্বিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে, যার দায় স্বীকার করেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামে একটি সংগঠন ।
মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্য সহ অন্তত ৭১ জন নিহত হয়েছে ।
মিয়ানমার সরকার দিন দশেক আগে রাখাইনে বিপুল সংখ্যক সেনা নামানোর পর থেকে বহু রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে ।

উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। এরপর শুক্রবার ভোর থেকে সীমান্তে রোহিঙ্গাদের চাপ বাড়তে থাকে। রহমত বিল থেকে শুরু করে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় নাফ নদী পেরিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

 

 

কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, আমরা এদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করব। আর যাতে কেউ না আসতে পারে সেজন্য আমাদের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।



এই প্রতিবেদন টি 266 বার পঠিত.