উদ্দেশ্য ছিল অপহরণ

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্যই তার মেয়েকে মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার এই আইনজীবী বলেন , ঘটনাটি অনেক বড় হতে পারত। তারা গাড়ি ও আরও লোক ব্যবহার করেছে। অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এটা করা।
২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে নগরীর চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় নিজ বাসভবনে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওয়াজেদ আলী খোকন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মেয়ের মা সেলিনা ওয়াজেদ মিনু বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মায়েশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আমার নানুর বাসা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামি। তখন একটি লোক এসে বলে, মামণি আমাকে চিনেছ? তখন আমি তাকে বলি, আমি তো আংকেল আপনাকে চিনি না। সেই লোকটি তখন বলে, আমি তোমার বাবার বন্ধু। সে খুব ভালো পোশাকে ছিল। সে বলল, সে নাকি আমাদের বাসায় আসত, আড্ডা দিত, সবার নাম বলল। তাজুল আংকেল, দিপু আংকেল তাদের সবার নাম বলল। তখন আমার একটু বিশ্বাস হলো।’
তিনি বলেন, ‘সে তখন বলল, তোমার বাবা তো ভালো কাজ করেছেন। নাও, একটি মিষ্টি খাও। আমি খেতে না চাইলে সে কথা বলার সময় এমনভাবে মিষ্টিটা মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দেয় যে আমি তখন গিলেই ফেলি। সে চাচ্ছিল আরও কিছুক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বলতে। পরে আমি তাকে সাইড কাটিয়ে চলে আসি, একটা রিকশা নিয়ে গলাচিপা মোড়ে চলে আসি।’
আমার বুক, পেট ও গলা জ্বালাপোড়া করছিল। আমি যখন রিকশায় করে চলে আসছিলাম, তখন দেখি পেছনে দিকে তাকিয়ে দেখি, ওই লোক গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। ওই গাড়িতে কয়েকজন লোক ছিল। সেখানে এসে আমার বাবাকে ফোন করি বলেও জানান মায়েশা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি অপহরণের চেষ্টা, নাকি অন্য কিছু—সব বিষয় মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও সেখানে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।’
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন পারভেজ বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। বিষজাতীয় জিনিস খাইয়ে অচেতন করতে পারলে হয়তো তাকে অপহরণ করা হতে পারত।’



এই প্রতিবেদন টি 449 বার পঠিত.