সাংবাদিকদের কেন একটা পক্ষ হিসেবে দাড় করাচ্ছেন?

পুলক ঘটক 

আকস্মিকভাবে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। কেন? এর মধ্যে সাংবাদিকতা বা সাংবাদিক সমাজের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় আছে কি? বিচারবিভাগের সাথে নির্বাহীবিভাগের চলমান দ্বন্দের মধ্যে সাংবাদিকদের কেন একটা পক্ষ হিসেবে দাড় করাচ্ছেন ডিইউজের নেতৃবৃন্দ? বিচারবিভাগ, নির্বাহীবিভাগ এবং সংসদের বাইরে সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন যদি সাংবাদিক সমাজকে বিচারবিভাগের মুখোমুখী দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সংকট আরো ঘনিভূত হবে। সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিতত্বশীল সংগঠন হিসেবে ডিইউজে এটা করতে পারেনা। এধরণের কর্মসূচী সাংবাদিক সমাজের স্বার্থের অনুকূল নয়। একটি ত্রিশঙ্কু সময়ে সাংবাদিক সমাজের পরিপক্ব নেতৃত্ব সরকার ও গণতন্ত্রের কল্যাণে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এধরণের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত তথা কর্মসূচীর কারণে সেই সম্ভাবনাও তিরোহিত হয়। সমাজের কাছে সাংবাদিক নেতৃত্বের বিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
দীর্ঘকাল যাবত ইউনিয়নের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ডিইউজের কর্মকান্ডে আমি নিজেও প্রশ্নের মুখোমুখী হচ্ছি। সংগত কারণেই বিষয়টি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান পরিস্কার করছি। এই কর্মসূচীর ব্যাপারে আমার তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং আমি এতে অংশ নেবনা। বিচারবিভাগের সাথে বিরোধাত্মক অবস্থানে যাওয়ার আগে যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করার জন্য ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীসহ নির্বাহি পরিষদের সকলের প্রতি আবারো বিনীত অনুরোধ রাখছি।
বিচারবিভাগের সাথে রাষ্ট্রের নির্বাহীবিভাগের দৃশ্যমান দ্বৈরথ নিরসনের জন্য উভয় বিভাগেই বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তারা আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ থেকে প্রয়োজনীয় সংযম ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম বলে আমি মনে করি। সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক নেতৃত্ব বিরোধের অংশ না হয়ে গণতন্ত্রের জন্য দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করলে সেটাই মঙ্গল।



এই প্রতিবেদন টি 372 বার পঠিত.