যারা ২১ আগষ্ট রচনা করে তাদের সাথে সমঝোতা নয়


আব্দুল হাই
আব্দুল হাই শুধু শৈলকুপার নেতা নন। তিনি শুধুমাত্র ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সভাপতিই নন। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে ৫৩ বছর পূর্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের পর তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের মিয়াওয়ারী কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৮ জানুয়ারী, ১৯৭২ সালে। ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু স্বাধীন রাষ্ট্রে ফিরে এসেই ভাগাড়ে পরিণত বাংলাদেশকে পূনর্গঠনের কাজে হাত দিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তাকে ১৯৭৫ সালে হত্যা করে।
১৯৭৪ সালে আব্দুল হাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৫ এর হত্যাকান্ডের পর পালিয়ে ভারত চলে গেলেন তিনি। প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আর ফিরে আসা হলো না। একসময় দেশে যখন ফিরে এলেন তখন সামরিক শাসকেরা দেশ লুটে খাচ্ছে।আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগকে তখন সংগঠিত করছেন। লড়াই, সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়েই এগুতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না এদেশে তাহলে কার আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ চলবে? এদেশে কখনই বঙ্গবন্ধুর বিকল্প রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ছিল না। মানুষের কল্যাণ সাধন, রাষ্ট্রের অগ্রগতি সাধন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আদর্শ নেতৃত্ব ও লক্ষ্য লাগে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ ও নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের ডিজিটাল রাষ্ট্র। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী মহান সংসদে ২১ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার এই কালো দিনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের। রেকর্ড থেকে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত করা হলো এখানে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আজ ২১ আগষ্ট। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় ও ঘৃনিত অধ্যায়। ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ-এ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলা করে তৎকালিন সরকার এর পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে। আওয়ামী লীগ কি বিএনপির সাথে আগামী নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক সমঝোতা করবে তাহলে?
আব্দুল হাইঃ ধন্যবাদ আপনাকে। আপনাদের মাধ্যমে আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। আজ ২১ আগষ্ট। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। এদিন গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সভায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য একটি ঘৃণ্যতম হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। বিশ্ব বিবেক এই হামলাটিকে কিভাবে ধিক্কার জানাবে তা জানি না। তবে এতবড় জঘন্য হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। একটি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদ ক্ষমতায় এসে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার শপথ গ্রহণ করে থাকে। সবার প্রতি সমান আচরণ করার শপথ বাক্য তারা পাঠ করেন। এই পবিত্র শপথ ভঙ্গ করে সেদিন ২১ আগষ্ট তৎকালিন শাসক গোষ্ঠীর প্রধান ম্যাডাম খালেদা জিয়ার দলের বেশকিছু নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইঙ্গিতে এই নিমর্ম গ্রেনেড হামলাটি সংগঠিত হয়েছিল। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রদূত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও রাজনৈতিক সঙ্গি আইভি রহমান সহ প্রায় ২৪ জন নেতা-কর্মী। হামলায় আহত হয়েছিল পাঁচ শতাধিক মানুষ। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে লক্ষ্য করে তিনটি বুলেট ছোড়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার দেহরক্ষী নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে সেদিন তাকে রক্ষা করেছিল। ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের নেত্রীকে রাজনৈতিক সভার মঞ্চে এভাবে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়ে সেদিন প্রমাণ করেছিল বাংলাদেশে তারা সুষ্ঠ রাজনীতির ধারাবাহিকতা চায়নি। যারা আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার্থে ব্যর্থ হয়, যারা দেশের অভ্যন্তরে দশ ট্রাক অস্ত্র ঢুকিয়েছিল, যারা পথে-প্রান্তরে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজ্য কায়েম করেছিল, যারা জুলুম-দুঃশাসন প্রতিষ্ঠা করে বিরোধী দলের নেত্রীকে পর্যন্ত হত্যার প্রচেষ্টায় নিয়েছিল তাদের সাথে সমঝোতা হবার কথা নয় কখনই। যারা আওয়ামী লীগকে ১৯৭৫ থেকে শুরু করে বারবার নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল তাদের সাথে সংলাপে বসার কোন পথ খোলা নেই। মূলত সমঝোতা ও সংলাপের কোন যৌক্তিক কারণ নেই। ২১ আগষ্ট এর গ্রেনেড হামলা সমঝোতার সকল পথ অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আবারও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুকে সামনে এনেছে ১৯ আগষ্ট। খন্দকার মোশাররফ বলেছেন এটাই নাকি মূল লক্ষ্য তাদের। আপনারা কি বলবেন?
আব্দুল হাইঃ বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল। বেশ কিছু জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই সংগঠিত হয়েছে। তবে হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের মূল নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আর সমর্থনও করে না। সেই বিধানটি অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। যারা যখন ক্ষমতায় থাকবে তারাই জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করবে। দশম জাতীয় নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হয়েছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও তাই হবে। সেটা নির্বাচনকালীন একটি অন্তরবর্তী সরকার।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আগষ্ট শোকের মাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠি কতটা মূল্যায়ন করতে পেরেছে?
আব্দুল হাইঃ ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সাল। একদল ঘাতক-দুষ্কৃতিকারী জাতির জনককে হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্মই হতো না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের মূল ভিত্তিকেই হত্যা করা হয়েছিল। হত্যা করা হয়েছিল গণতন্ত্র, সুশাসন ও আদর্শকে। হত্যা করা হয়েছিল বাঙ্গালীর অহংকারকে। এই অহংকার আমরা অর্জন করেছিলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। ৩০ লক্ষ মানুষ স্বাধীনতার জন্য জীবন আত্মত্যাগ করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর আওয়ামী লীগ লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছিল ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের পর। তারপর পেয়েছিলাম স্বাধীনতা। তারপর পেয়েছিলাম সংবিধান ও গনতন্ত্র। আর পেয়েছিলাম স্বাধীন ভূখন্ডের মানচিত্র ও পতাকা। পৃথিবীর মানুষ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে। সাড়ে তিন বছর অতিবাহিত না হতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকের দল ভেবেছিল আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংস করা যাবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও বাংলাদেশ থেকে তার আদর্শকে ধ্বংস করতে পারেনি ঘাতকেরা। সারা দেশে আগষ্ট এলেই মানুষ শোক পালন করে থাকে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাতে হয় প্রার্থনা। আমার নির্বাচনী এলাকায় ৩১২ গ্রাম। ২৮৮টি মূল গ্রাম। বাকীগুলো ছোট ছোট পাড়া। প্রায় ২৫০টি স্থানে মাস ব্যাপি শোক দিবস পালিত হয়েছে চলতি বছরে এই অঞ্চলে। এদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার শক্তি এই পৃথিবীতে কোন গোষ্ঠি বা দলের নেই। ষড়যন্ত্র চলতেই পারে। বঙ্গবন্ধুর নাম চিরকাল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধু নির্যাতিত মানুষের নেতা ছিলেন।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাই-এ রেমিটেন্স ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। ১১১ কোটি ৭০ লক্ষ মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে জুলাই মাসে। পাশাপাশি রপ্তানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুলাই মাসে রপ্তানি করেছে ৩৭০ কোটি ৪২ লক্ষ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে?
আব্দুল হাইঃ ২০৫০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৩তম ধনী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার করেছেন। বাংলাদেশের আরেকটি ভিশন হচ্ছে ২০৪১। যখন বাংলাদেশ পরিণত হবে উন্নত রাষ্ট্রে। মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশিত হতে হলে যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত করা প্রযোজন বাংলাদেশ সেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত করে চলেছে। ২০২১ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে উন্নত রাষ্ট্রের অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রশাসনিক শক্তি অর্জন। বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ এর উৎপাদন বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরেই উন্নয়ন সংগঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের শাসনামলে সর্বোচ্চ দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন আজ দশ্যমান। কলেজ ও স্কুলগুলোর নতুন একাডেমি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ হয়েছে। প্রায় ৫০টি প্রাইমারী স্কুলের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যে। ২৫টি গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি ৩১২টি গ্রামের মধ্যে। আগামী বছর এই গ্রামগুলোতেও বিদ্যুৎ পৌঁছাবে। এই উন্নয়ন জনগণের জন্যই। কল্যাণের রাজনীতির ফসল হচ্ছে এই উন্নয়ন। আমার অঞ্চলের মত প্রতিটি অঞ্চলেই আজ দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্রের মেরুদন্ড। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও আপনাকে নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
আব্দুল হাইঃ বাংলাদেশে রাজনৈতিক মত পার্থক্য থাকতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ থাকতে পারে ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর। আমার প্রত্যাশা একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হোক। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠ হবে সেটা প্রত্যাশা করি। সকল নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভেদহীন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি। রাজনীতিতে বিরোধীতা থাকে সবসময়ই। বিরোধীদের প্রতি আমরা উদার আচরণে বিশ্বাসী। আমার নির্বাচনী আসনটি ২০০১ সালে বিএনপি থেকে আমি উদ্্যধার করেছিলাম। চলতি শতক জুড়েই এই আসনটি আওয়ামী লীগের। জনগণের কাছে আগামীতেও আমার প্রত্যাশা ইতিবাচক।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনি দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। আওয়ামী লীগ ৬৮ বছরে কতটা সুসংগঠিত হয়েছে। বলে আপনার ধারণা?
আব্দুল হাইঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও লড়াই এর ইতিহাস এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করেছে বিগত সাত দশক। ব্যাক ডোরের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী নয়। দযা ও অনুকম্পা নিয়ে আওয়াম?ী লীগ রাজনীতি করে না। লড়াই-সংগ্রাম করেই আওয়ামী লীগ অধিকার প্রতিষ্ঠা করে চলেছে আজও। বঙ্গবন্ধুকে চার বার ফাঁসির মঞ্চের কাছাকাছি যেতে হয়েছিল। দেশের জনগণই বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করেছে বারবার। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার লক্ষ্যে এদেশের মানুষজনকে প্রস্তুত করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। সমগ্র মানুষ যখন একটি মোহনায় পৌঁছে গেল তখনই তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশ রচিত করেছিল একটি শক্তিশালী সংবিধান। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয়েও পাকিস্তান তার সংবিধান রচনা করেছিল ১৯৫৬ সালে। পাকিস্তান সংবিধান হাতে পেয়েও বারবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হোচট খেয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও সামরিক শাসকবৃন্দ অনেক আচড় বসিয়েছিলেন। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে সংবিধানে পরিবর্তন এনেছিল স্বৈরশাসকেরা। আওয়ামী লীগ শুধুই একটি রাজনৈতিক দল বা মঞ্চের ইতিহাস নয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অন্তর্নিহিত। পাঁচ দশকের বেশী সময় ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। ৫৩ বছরে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাকে। স্বাধীনতার আগেও আওয়ামী লীগ থেকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন আবার স্বাধীনতার পরেও অনেকে আওয়ামী লীগ থেকে সরে পরেছেন। সারাজীবন আওয়ামী লীগের মূল ধারার সাথেই সম্পৃক্ত থেকেছি। আওয়ামী লীগের মূল ধারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনে বিশ্বাস করে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে তিনবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি তিনবারই নির্বাচনে জয় এনে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার আমাকে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকার অন্তর্ভূক্ত।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ ২৮ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন। বঙ্গবন্ধু জন্মেছিলেন তাই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আর শেখ হাসিনা জন্মেছিলেন বলেই বাংলাদেশের আজ কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্বের অধ্যায়কে ইতিহাস কিভাবে বিবেচনা করবে?
আব্দুল হাইঃ শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তিনি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মেছিলেন। তাঁর আদশ্য ও যোগ্য নেতৃত্বে আজ বাংলার কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দু’টো স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন আমাদের। একটি স্বাধীনতার স্বপ্ন ও অন্যটি উন্নত একটি রাষ্ট্রে। যাকে আমরা বলি ‘সোনার বাংলা’। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারিনি। ঘাতকেরা তাকে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন তখন থেকেই তিনি এই রাষ্ট্রের পরিবর্তন এর জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। আর তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপরিচিত। শেখ হাসিনার গ্রান্ড ডিজাইন আজ সারা বিশ্বে আলোচিত। বিশ্ব নেতারা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অগ্রগতি দেখে প্রশংসায় মুখর। রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধন করতে হলে দেশপ্রেম থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সাহসী মানুষ। পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত সৎ ও আদর্শবান। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
আব্দুল হাইঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 288 বার পঠিত.