রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুঁলি শিগগিরই রায়ের আশা করছেন


২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুঁলি সৈয়দ রেজাউর রহমান জানান,খুব শিগগিরই তিনি রায়ের আশা করছেন ।

কবে নাগাদ রায় হবে- জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য স্পষ্ট করে কিছু বলতে চান নি।

তবে আমরা সবাই চেষ্টা করছি মামলা বিচার নিষ্পত্তির নিয়ম অনুযায়ী রায়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার ত্রয়োদশ বার্ষিকীর একদিন বাদে মঙ্গলবারই মামলা দুটির সাফাই সাক্ষ্যের দিন ধার্য রয়েছে।

গত বছর গ্রেনেড হামলার যুগ পূর্তির সময়ও ‘শিগগিরই’ রায়ের আশা দেখিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা; কিন্তু তা ফলেনি।

হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকীর আগের দিন রোববার মামলার হাল-হকিকতের খবর নিয়ে জানা যায়, আসামি পক্ষের জমা দেওয়া ২০ জনের সাফাই সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনেরই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এরপর হবে যুক্তিতর্কের শুনানি। তা শেষেই হবে রায়।

নথিপত্রে দেখা যায়, গত ১২ জুন মামলাটিতে জামিনে ও কারাগারে থাকা ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে উপস্থিত আসামিরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক আসামি আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ পাননি।

হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা দুটিতে রাষ্ট্রপক্ষে ৪৯১ সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এই আদালতের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে মামলাটির শুনানি নিচ্ছেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।

হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ জন আহত হন।

 

সন্ত্রাসবিরোধী ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণ শুরু হয়। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

এ ঘটনায় পরদিন মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে এই মামলাটির তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে, যা পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

থানা পুলিশ, ডিবির হাত ঘুরে সিআইডি এই মামলার তদন্তভার পায়। ঘটনার চার বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৮ সালের ১১ জুন মোট ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন সিআইডির জ্যেষ্ঠ এএসপি ফজলুল কবির।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। সিআইডির বিশেষ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই আসামির তালিকায় আরও ৩০ জনকে যোগ করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেন।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ তারিখে সম্পূরক অভিযোগপত্রের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। খালেদা জিয়ার ছেলে লন্ডনে থাকা তারেককে পলাতক দেখিয়ে তখন অভিযোগ গঠন হয়েছিল। খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউকও এই মামলার আসামি।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরীর সঙ্গে আসামির তালিকায় রয়েছেন জোট সরকার আমলের তিন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন, মুন্সি আতিকুর রহমান ও আব্দুর রশীদ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলামও এই মামলার আসামি।

আসামিদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মো. মুজাহিদের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

বাবর, পিন্টুসহ ২৩ আসামি রয়েছেন কারাগারে; জামিনে আছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফ ও সাবেক ৩ আইজিপিসহ আটজন। তারেক, কায়কোবাদসহ পলাতক আসামি ১৯ জন।



এই প্রতিবেদন টি 332 বার পঠিত.