একজন মায়া ওয়াহেদ

একজন মায়া ওয়াহেদ

জাহিদ হাসান রাজু:

মায়া ওয়াহেদ এর জন্ম সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর পরগনার মিঠাপাড়া গ্রামে। পাঁচ ভাই ও দু-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়, প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন নিজ পিতার স্কুলে, মাধ্যমিক শিক্ষা জ্ঞান অর্জন করেন আলী আমজদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, ১৯৬১ সালে মেট্রিক পাশ করে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজে ভর্তি হন। ঐ কলেজ থেকেই ১৯৬৫ সালে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬৬ সালে বিএড এ ভর্তি এবং ১৯৬৭ সালে পাস করেন। ১৯৬৯ সালে এমএ এবং ১৯৮৪ সালে এমএ-ইন- এডুকেশন পাস করেন।
মায়া ওয়াহেদ ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৬ সালের জুন পর্যন্ত হাফিজা খাতুন জুনিয়র স্কুলে প্রধান শিক্ষক, ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক হিসাবে আলী আমজদ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে, ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাস থেকে ১৯৮০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসাবে, ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সিলেট পি.টি আই এ ইন্সট্রাক্টর হিসেবে, ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৬ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত মৌলভীবাজার পি,টি আইএ, সহ-সুপার ও সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট পি,টি আইএ সুপারিন্টেনডেন্ট ও ২০০০ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সুনামগঞ্জ পি,টি আই থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দি ফ্লাওয়ার্স কেজি এন্ড হাই স্কুলের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং খেলাঘর আসরের সাথে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে, ১৯৭৬ সালে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক শফকতুল ওয়াহেদ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি প্রগতিশীল আন্দোলন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছেন। মায়া ওয়াহেদ নারী উন্নয়নে “নারী প্রগতি” নামক সংগঠন করেছেন। সেখান থেকে এ পর্যন্ত হাজার খানেক মহিলা আত্ম কর্মসংস্থান মূলক কাজে নিজেদের জড়িয়ে রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার শহরে সৈয়ারপুর এলাকায় ২০০৮ সালে শিশু কানন নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রতিষ্টাকালীন থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল পরিচালনা করছেন ।অই বিদ্যালয়ে ৩৭৯ জন শিক্ষার্থী এবং পাঠ দানের জন্য ২২জন শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। এছাড়া ও শিশু কানন-কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় করার জন্য ২৮ শতক জায়গা ক্রয় করেন বর্ষিজোড়া এলাকায় ৩৪ লাখ টাকা দিয়ে। ইতি মধ্যে পাঁচ তলা ভবনের কাজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।



এই প্রতিবেদন টি 3874 বার পঠিত.