যেভাবে হামলায় ব্যবহৃত তাজা গ্রেনেডগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল

২০০৪ সালে সেনাবাহিনীর ১৪ ব্রিগেডের অধীনে ৫৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন সামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী । সেসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক নিস্ক্রিয় করার দায়িত্ব ছিল তার কোম্পানির ওপর। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কয়েক মাসের মধ্যে অকালীন বাধ্যতামূলক অবসরে (প্রি-ম্যাচিউর কম্পোলসারি রিটায়ারমেন্ট) যাওয়া এই সেনা কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন সেসব দিনের অভিজ্ঞতার কথা। বর্তমানে জেনেটিক লিমিটেড নামে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা এক দুপুরে নিজের অফিসে বসে কথার ঝাঁপি খুলেছিলেন। জানিয়েছেন কীভাবে ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে সেদিন ঘটনাস্থলে পাওয়া হামলায় ব্যবহৃত তাজা গ্রেনেডগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে একুশ আগস্ট সন্ধ্যায় বাসায় ছিলেন তৎকালীন ক্যাপ্টেন সামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে ১৪ ব্রিগেড কমান্ডারের ফোন পান। ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা তাকে টেলিভিশনে খবর দেখার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা তরুণ সামসুদ্দীন বিস্ফোরক নিয়ে কাজ করতে করতে ততো দিনে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে ৫৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ওই সময় বোম্ব ডিসপোজাল ও সেনাবাহিনীর ম্যাপ ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ করত ওই কোম্পানি।
ওই বছরে সিলেটের অবকাশ সিনেমা হলে পাওয়া টাইম বোমা, ভৈরবে পাওয়া দীর্ঘদিনের পুরানো বিস্ফোরক, আমেরিকাসহ কয়েকটি দূতাবাসে পাওয়া বিস্ফোরক, আর্মি গলফ গ্রাউন্ডে বিস্ফোরক ভর্তি ব্যাগসহ নানা বিস্ফোরক নিস্ক্রিয় করার অভিজ্ঞতা ছিল এই কর্মকর্তার ঝুলিতে।
ব্রিগেড কমান্ডারের ফোন পাওয়ার পরের কথা বলতে থাকেন সামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ড্রয়িং রুমে ঢুকে টেলিভিশন খুলে দেখি হামলার ভয়াবহতা। সঙ্গে সঙ্গে অফিসে ফোন করে অধীনস্তদের গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করার নির্দেশ দেই। সব প্রস্তুতি শেষ করে অফিসে গিয়ে ব্রিগেড কমান্ডারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই।’
রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটা নাগাদ সেখানে পৌঁছান এই সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গিয়ে দেখলাম সুনসান নীরবতা। দূরে গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের ভিড়। চারদিকে রক্ত আর শত শত ছেঁড়া স্যান্ডেল। ভয়াবহ সেই পরিবেশের মধ্যে এক পুলিশ সদস্য এগিয়ে এসে খোলা রাস্তায় পাওয়া অবিস্ফোরিত একটি গ্রেনেডের কাছে নিয়ে গেলেন। কোনো লাশ আমি দেখিনি। আগেই হয়তো সেসব সরিয়ে ফেলা হয়েছিল’, যোগ করেন তিনি।
‘খোলা রাস্তার ওপরে গ্রেনেড দেখতে পেয়ে আমি ব্রিগেড কমান্ডারকে জানাই। তখন তিনি আমাকে সেটি বিস্ফোরণ ঘটানোর নির্দেশ দেন।’ সামসুদ্দিন বলতে থাকেন, ‘তখন গ্রেনেডটি সংরক্ষণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে তাকে বলি, `ইচ্ছা করলে এটিকে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।’ তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে তা বিস্ফোরণ ঘটানোর নির্দেশ দেন। বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেনেডটি সংরক্ষণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে জানানোর পরও তিনি একই নির্দেশ অব্যাহত রাখলেন। তখন যে জায়গায় গ্রেনেডটি ছিল সেই জায়গাতে রেখেই তার বিস্ফোরণ ঘটাই।’
সামসুদ্দিন বলেন, ‘বিস্ফোরণ ঘটানোর পর আমাকে জানানো হয় হকার্স মার্কেটের ভেতরে আরও একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গেছে। পরে সেখানে থাকা এক পুলিশ সদস্য আমাদের হকার্স মার্কেটে ওই গ্রেনেডটির কাছে নিয়ে যান। হকার্স মার্কেটের নিচ তলায় থাকা গ্রেনেডটির কাছে গিয়ে দেখলেই চিনতে পারি এটি কনভেনশনাল গ্রেনেড। সেফটি পিন লাগানো আছে। এই রিপোর্ট ব্রিগেড কমান্ডারকে জানানোর পর আগেরটির মতো একইভাবে তা বিস্ফোরণ ঘটাতে বলেন। তখন তাকে জানাই এটি সেভাবে করা সম্ভব নয়। কারণ হিসেবে জানাই, এটি মার্কেটের নিচ তলায় রয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটানো হলে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। এটা জানানোর বেশ কিছুক্ষণ পর তিনি ফোন করে জানান, একটু কাছে কোথাও খোলা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করো। পরে রেলওয়ে ভবনের কাছে একটি ছোট গর্তের মধ্যে তা নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে তা নিরাপদ বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তত করে আবারও ব্রিগেড কমান্ডারকে জানাই। পরে নির্দেশ পেলে তা বিস্ফোরণের ঘটানো হয়।’

সামসুদ্দিন বলতে থাকেন, ‘এর মধ্যে সাংবাদিকরা আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেন। কিন্তু আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পাওয়া নির্দেশ অনুসারে তা এড়িয়ে চলতে থাকি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হতে থাকলে ব্রিগেড কমান্ডার আবারও আমাকে ফোন করেন। তিনি ‘অল্প কথায়’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনুমতি দিলেন। সাংবাদিকরা বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের এটি গ্রেনেড বলে তাদের নিশ্চিত করে জানাই যে, এটি সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’
গ্রেনেড পাওয়া গেল পরদিনও
‘সেদিন অনেক রাতে বাসায় ফেরার কারণে পরের দিন দেরিতে ঘুম থেকে উঠি। সকালে আবারও ব্রিগেড কমান্ডারের ফোন পাই। তিনি আরও দুটি বিস্ফোরক পাওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত অফিসে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অফিসে যাওয়ার পর আগের দিনের দুটি গ্রেনেড অক্ষত রাখার বিষয়ে আমার আগ্রহের কথা বিবেচনায় তিনি নিরাপদ থাকলে তা বহন করে নিয়ে আসার নির্দেশনা দিলেন। সেখানেই আমাকে জানানো হয়, হকার্স মার্কেটের দোতলার টয়লেটের ঝুঁড়িতে একটি ও কারাগারের ভেতরে অপর একটি বিস্ফোরক পাওয়া গেছে’, যোগ করেন সামসুদ্দিন আহমেদ।
গ্রেনেড উদ্ধারের কথা বলতে থাকেন তিনি, ‘পরে হকার্স মার্কেটে গিয়ে দেখি গতকাল ধ্বংস করা গ্রেনেডের মতো এটিও আরেকটি। সেটিকে বহন করে নিয়ে যাই জেলখানায়। সেখানে জেল সুপার আমাদের নিয়ে বিস্ফোরকের স্থানে নিয়ে যান। পরে দেওয়ালের কাছে পড়ে থাকা অবস্থায় সেখান থেকে সেটিও উদ্ধার করি।’

এদিন সাংবাদিকদের ছবি তোলায় বাধা দেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলখানা এলাকায় সাংবাদিকরা আমাকে নানা রকম প্রশ্ন করতে থাকেন। এ দিন কথা বলার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় গ্রেনেডের ছবি তোলায় সাংবাদিকদের আর কোনো বাধা দেইনি। তারা নানারকম ছবি তুলে গ্রেনেডের গায়ে থাকা লেখাগুলোর বিষয়ে তথ্য নিতে থাকেন। আমি গাড়িতে বসে দুয়েকটি তথ্য তাদের দেই।’
পরে দুপুর একটার দিকে গ্রেনেডগুলো উদ্ধার করে কোম্পানির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানানো হলো, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এটি দেখতে আসবেন। তখন অফিসের সামনে একটি প্যান্ডেল করে তার নিচে গ্রেনেড দুটি নিরাপদে রেখে দেওয়া হলো। পরে ডিজিএফআইসহ নানা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা তা দেখে ছবি তুলে নিয়ে গেলেন।’
‘পরে আমাকে জানানো হলো আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (এএফডি-পিএসও) বিকেলে এটি দেখতে আসবেন। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাকে আসতে না দেখে ব্রিগেড কমান্ডারকে জানাই। তিনি কিছুক্ষণ পর আমাকে জানাবেন বলে জানালেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ফোন করে জানালেন, ‘তিনি আসবেন না। তোমরা এ দুটিকে এখন ডেমোলিশ (ধ্বংস) করে ফেলো।’ পরে আমরা অফিসের সামনে একটি খোলা মাঠে নিয়ে ধ্বংস করে ফেললাম,’ বলেন সামসুদ্দিন।
কয়েকদিন পর বিভিন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা আসলে গ্রেনেডগুলোর তুলে রাখা ছবি তারা দেখতে চান। তাদের সেগুলো দেখানো হয়। পরে তারা এগুলো বিস্ফোরণ ঘটানোর স্থানও দেখতে চাইলে তাদের সেসব স্থানেও নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
গ্রেনেড সংরক্ষণে কী লাভ ছিল?
২১ আগস্টের হামলায় ব্যবহার হওয়া গ্রেনেডগুলো সংরক্ষণ প্রসঙ্গে সামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেনেড সংরক্ষণে খুব বেশি লাভ হতো তা বলা যাবে না। তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট বা এই রকম সুক্ষ্ম জিনিসগুলো পেতে চাইলে সেভাবে সংরক্ষণ করতে হতো। একটা জিনিস আমার মনে হয়, এটা সংরক্ষণের তাগিদ পুলিশের পক্ষ থেকে আসা উচিত ছিল। তারা টেকনিক্যাল সাপোর্ট চাইলে আমরা তা করতে পারতাম। কিন্তু তখন তা করা হয়নি।’
তিনি জানান, মামলার আলামত হিসেবে গ্রেনেডগুলোর আলাদা মূল্য ছিল। আলামত সংরক্ষণের জন্য তারা যেকোনো সহায়তা চাইলে সেনাবাহিনী তা করতে পারত। এ ছাড়া ততোদিনে সামসুদ্দিন নিজেই অন্তত চারশ’ এসআই পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বোম্ব ডিসপোজাল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সুতরাং এসব জিনিস সংরক্ষণে পুলিশের দক্ষ লোকবল ছিল। কিন্তু তারা এটা কেন করেনি তা জানা নেই বলে জানান তিনি।

‘আমাদের সেনাবাহিনীতে এই ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার করে ট্রেনিং করানো হয়ে থাকে। এই গ্রেনেডগুলোর অরিজিন (উৎপত্তি) কোথায় সেসম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলেও বলা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গ্রেনেডের ভেতরে অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার স্প্লিন্টার বিস্ফোরক মোড়ানো অবস্থায় থাকে। বিস্ফোরণের পর নির্দিষ্ট কৌনিক দূরত্বে প্রবল বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন সেগুলো আশেপাশে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। ধারণা করা যেতে পারে এই গ্রেনেডগুলোও যুদ্ধাবস্থায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে’, বলেন গ্রেনেড উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা।

ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় হোক একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় গ্রেনেড উদ্ধারে জড়িয়ে পড়েছিলেন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা। মেজর পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা এই কর্মকর্তার জীবনে এরপর নেমে আসতে থাকে একের পর এক বিপর্যয়। তিনি বলতে থাকেন, ‘২৫ আগস্ট চট্টগ্রামের বাড়ি থেকে আম্মা ফোনে জানালেন ডিজিএফআই-এর দুইজন সদস্য সেখানে গিয়ে বিভিন্ন খোঁজখবর নিয়েছেন। ২৮ আগস্ট জানলাম নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে আমাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে আমাকে ৫৭ কোম্পানি থেকে বিদায় দেওয়ার পর নাটোরে যোগ দিলাম।’
‘পরের বছরের জানুয়ারির ২৬ তারিখে সকালে পাওয়া ফ্যাক্স বার্তায় আমাকে জানানো হলো, পরের দিন বিকেল থেকে আমি আর সেনাবাহিনীতে নাই। আমাকে প্রি ম্যাচিউর কমপোলসারি রিটায়ারমেন্টে (অকালীন বাধ্যতামূলক অবসর) পাঠানো হলো’, নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে অবসরে পাঠানোর কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন।
‘আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করা হয়নি। কেন চাকরি হারালাম সেটাও কখনও জানতে পারিনি। পরিবার আর সন্তান নিয়ে সেই বিপর্যয়ে পড়ার কিছুদিনের মধ্যে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করি।’ সেখানে কয়েকমাস কাটিয়ে পরে তিনি যোগ দেন জেনেটিক লিমিটেড নামের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে।

তিনি বলেন, কাদিরাবাদ যাওয়ার পরে ঢাকায় বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা এড়িয়ে চলতে চাইত তা বুঝতে পারতাম। পরে ফ্যাক্স আসার পর এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম।
২০১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার তাকে অবসরের দিন ঠিক রেখে মেজর পদে পদোন্নতি দেয়।
সেসময় জোট সরকারের আমলে নিয়ম বর্হিভূতভাবে সেনাবাহিনী থেকে বাদ দেওয়া ৩৬ কর্মকর্তাকে অবসরের দিন ঠিক রেখে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ আয়োজিত জঙ্গিবিরোধী একটি সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ সেই হামলায় প্রাণ হারান মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী। জোট সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় জজ মিয়া নামের এক হতদরিদ্রকে আসামি বানিয়ে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে জানা যায়, সেসময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে এই হামলা চালিয়েছিল জঙ্গি গোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৩৬জন এই মামলার আসামি হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। ওই মামলার ৪৬১ সাক্ষীর শততম স্বাক্ষী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।সুত্র ঃপ্রিয়।কম



এই প্রতিবেদন টি 401 বার পঠিত.