‘জঙ্গি’ সাইফুলের সাত কাহন

কে এই জঙ্গি সাইফুল ? এটা এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমণ্ডি বত্রিশ নম্বরের জমায়েতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল সাইফুল ইসলাম নামের ওই জঙ্গির।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের নোয়াকাঠি গ্রামে। ওই এলাকার উলা দাখিল মজিদিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাসের পর তিনি সরকারি বিএল কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

নব্য জেএমবির সদস্য সাইফুল এক সময় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম ।

সাইফুলের বাবা আবুল খায়ের মোল্লা নোয়াকাঠির মাঠের হাট মসজিদের ইমাম এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল (কোষাধ্যক্ষ) সম্পাদক।

চাকরির খোঁজ করার কথা বলে ৭ অগাস্ট ঢাকায় আসেন সাইফুল। সোমবার তিনি ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ওঠেন।

ডুমুরিয়া থানা পুলিশ আবুল খায়ের মোল্লাকে থানায় নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এছাড়া সাইফুলের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ থাকায় নোয়াকাঠি গ্রামের আবু ওয়াহেদের ছেলে মো. সানি (২২) ও একই এলাকার জালাল সরদারের ছেলে ইসানকে (২১) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে সেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় হোটেলের চতুর্থ তলার রাস্তা সংলগ্ন দেয়াল ও গ্রিল ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ে। বিকট শব্দে তৈরি হয় আতঙ্ক। স্কয়ার হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে দিকে চলে যান।
বিস্ফোরণে ছিটকে পড়া ইটের টুকরো মাথায় লেগে আহত একজনকে সরিয়ে নিতে দেখা যায় রাস্তার ওপর থেকে।

আইজিপি বলেন, “বোঝা যাচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল। এটা যদি কোনো জনসভা বা সমাবেশে ব্লাস্ট করা হত, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হত। আল্লাহর রহমতে আমাদের গোয়েন্দা ও কাউন্টার টেররিজম পুলিশের চৌকস তৎপরতার কারণে এ বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।”

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, অভিযানের পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ওই হোটেল কক্ষে একটি ট্র্যাভেল ব্যাগে বোমার সন্ধান পান। পরে ওই অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রিতভাবে তাতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ছানোয়ার বলেন, ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে আর কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক তারা পাননি।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক তদন্ত সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, পান্থপথের ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের মালিক লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও। তিনি হোটেল এরাম ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল গোল্ডেন ড্রাগন ও হোটেল পিকক লিমিটেডেরও মালিক।



এই প্রতিবেদন টি 602 বার পঠিত.