‘বঙ্গবন্ধু’ একটি বিশ্ব স্লোগান- কাজী কেরামত আলী

১৫ আগষ্ট ১৯৭৫। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সকালে প্রাতঃরাশ এর জন্য তিনি টেবিলে উপস্থিত হলেন। মিঃ ধর মিসেস গান্ধিকে জানালেন বাংলাদেশে স্বপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দি নেলসন ম্যান্ডেলা। রোবেন দ্বীপে ম্যান্ডেলার কাছে খবর পৌঁছে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রিটোরিয়াতে নিজ বাড়িতে বসে নেলসন ম্যান্ডেলা যখন স্মরণ করছিলেন তখন তাঁর দুটো চোখ পানিতে ভিজে উঠেছিল। এভাবেই ফিদেল কাস্ত্রো, ইয়াসির আরাফাত সহ বিশ্ব নেতারা জেনেছিলেন ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ এর ভয়াবহ হত্যাকান্ডের ইতিহাস। ১৯৪৮ সালে ৩০ জানুয়ারী নাথুরাম গডসে হত্যা করেছিল মহা ভারতের কিংবদন্তী নেতা, অহিংসবাদের প্রাণপুরুষ মহাত্মা গান্ধীকে। ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির পিটারসন হাউসে আততায়ীর গুলিতে হত্যার শিকার হন সেদেশের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। আর আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে টেক্সাসের ডালাসে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর হত্যা করা হয়েছিল। বিগত দেড় শতাব্দী জুড়ে এমনিভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন পৃথিবীর আরো অনেক প্রখ্যাত নেতা। ইতিহাস বারবার তাদের স্মরণ করবে শ্রদ্ধাভরে।
কিন্তু গান্ধি, লিংকন ও কেনেডির মৃত্যু আজো তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে জাতীয় শোকে পরিণত হয়নি। রচিত হয়নি একটি কবিতা, একটি গান। ভূমিষ্ঠ লাভ করেনি একটি জাতীয় আর্তনাদ ও কান্না। শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, একটি স্বাধীন পতাকা ও একটি শক্তিশালী সংবিধান রেখে গেছেন কোটি কোটি বাঙালীর কাছে। আগষ্ট এলেই স্বাধীন রাষ্ট্র, লাল-সবুজ পাতাকা, সংবিধান ও কোটি মানুষ কেঁদে উঠে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য। কান্না আর আর্তনাদ পরিণত হয়ে উঠে জাতীয় শোকে। তিনি বঙ্গবন্ধু। শিশুদের মুজিব, বৃদ্ধদের মুজিব, আমার তোমার সকলের মুজিব। শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হলেও তিনি অনেক সাধারণ মানুষের সাথে অনেক সাধারণ কথা বলে ফেলতেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরেও তাঁর কথা মানুষ মানুতেন, ভাবতেন। ‘তোরা পারবি তো’ ‘তোগোরে কিছু দিতে পারলাম না’, ‘এত চোর বাড়ছে’ এই জাতীয় কথাগুলোতে সবসময়ই দেখা যেতো মানুষের সমর্থন ও হ্যাঁ সূচক সমর্থন। আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর কণ্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এই দেশ, এই দেশের মানুষ ও এই গোটা বিশ্বেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া আর অন্য কিছু বোঝেন না। তার এই জীবনের পথে যোগ হয়েছে আজ লক্ষ-কোটি জনতা, মজলুম, হতদরিদ্র, অশিক্ষিত, চামার-কুমার-জেলে-তাঁতী, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক-সাংবাদিক, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ও আরও কত কি! শেখ হাসিনা এগুচ্ছেন, দেশ এগুচ্ছে, সকলেই এগুচ্ছে। সমৃদ্ধির পথে এই যাত্রা দোষে-গুণে, হাসি-কান্নায়, নর-নারীতে এক অপূর্ব স্লোগানে পরিণত হয়ে গিয়েছে। নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা দিবসে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন নিয়ে মহা সংসদে সাক্ষাৎ করেছেন মাননীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে। রেকর্ড এ ধারণকৃত সাক্ষাৎকারটি এখানে প্রকাশ করা হলো।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আগষ্ট শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় তার নিজ বাড়িতে। ভারতের সর্বকালের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও আব্রাহাম লিংকনকেও হত্যা করা হয়েছিল। আজও ভারতে গান্ধি হত্যাকান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে কেনেডি, লিংকন হত্যাকান্ড জাতীয় শোকে পরিণত হয়নি। বাংলাদেশে সেটা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও অবস্থানকে বিশ্ব ইতিহাস কিভাবে বিবেচনা করছে?
কাজী কেরামত আলীঃ সর্ব ভারতে মহাত্মা গান্ধি যতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ও প্রেসিডেন্ট জন. এফ. কেনেডিও ততটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছিলেন। ইতিহাস তাদের আজও স্মরণ করে। কিন্তু নিজ নিজ দেশে এই হত্যাকান্ডগুলো জাতীয় শোকে পরিণত হয়নি। সেটা হয়েছে বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট। যতবার বাংলায় আগষ্ট ঘুরে ফিরে আসে ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, জনতা, রাজনীতিবিদরা ততবারই শোকে শোকাতুর হয়। আগষ্ট পরিণত হয় শোকের মাসে। বাঙ্গালী জাতির জন্য আগষ্ট মাস বেদনার মাস। কষ্টের মাস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন আত্মত্যাগ করে। ১৯৭১ সালে বিজয়ের পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর মাত্র সাড়ে ৩ বছর প্রায় এক যুগ কারাবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিলেন। বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পূনঃগঠনে তিনি যেভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সমৃদ্ধশালী হতো। কিন্তু মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলো। হত্যা করা হলো বাংলাদেশের এগিয়ে চলার মূল শক্তিকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি মূলত বঙ্গবন্ধুর ডিজাইন। এই রাষ্ট্রের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক নীতি ও মুদ্রানীতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুই ভেবেছিলেন। রাষ্ট্রের অবকাঠামোতে যখন বঙ্গবন্ধুর হাত পরেছিল তখনই শুরু হয়েছিল হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর মিলিটারি ব্যবস্থা বাংলাদেশকে ভাগাড়ে পরিণত করেছিল। বঙ্গবন্দু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর গ্রান্ড ডিজাইনটি নিয়েই অগ্রসর হলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তাঁর অসমাপ্ত কাজে তিনি পিতার মতই আত্মনিয়োগ করলেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব পাবার পর বাংলাদেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরেছেন। বাস্তবায়িত করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। প্রতিষ্ঠিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধের শক্তি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র ও ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। আওয়ামী লীগ কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের জন্য রাজনীতি করে। বঙ্গবন্ধুও সেটা করতেন। শেখ হাসিনাও তাই করেন। ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। তারা দেশকে অস্থীতিশীল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৫ আগষ্ট বেগম খালেদা জিয়া জন্মদিনের কেক কাটেন। এদেশের রাজনীতিবিদদের বঙ্গবন্ধুর প্রতি অতন্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বাজেট পাস হতে না হতেই জলবায়ুর পরিবর্তনে বর্ষা ঋতু শুরু হয়েছে। উন্নয়ন কাজে তার প্রভাব পরছে নিশ্চয়ই?
কাজী কেরামত আলীঃ আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশী। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বৃহৎ বাজেটের গুরুত্ব অপরিসীম। অবকাঠামোগত অগ্রগতির জন্য বৃহৎ বাজেটের বিকল্প নেই। বৃহৎ বাজেট বাস্তবায়ন করা যায় না এ জাতীয় কথা যুক্তিনির্ভর নয়। দেশে অগ্রগতি দৃশ্যমান। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগুচ্ছে। মানুষের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু দৌলদিয়া-পাটুরিয়া নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ১ম পদ্মা সেতুর কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন হলে ২য় পদ্মা সেতু দৌলদিয়া-পাটুরিয়ার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিবে সরকার। পৃথিবীর কোন অঞ্চলেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ নিমন্ত্রণ পত্র দিয়ে আসে না। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অত্যন্ত বেশী। সরকারের উপর এজন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কৃষি-স্বাস্থ্যসেবা-শিক্ষা-সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পরেছে। বিটুমিনের পক্ষে পানির দ্বারা সৃষ্ট আঘাত সহ্য করা সম্ভব নয়। এজন্যই সড়কগুলোতে নতুন নতুন ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দ্রুত মেরামত এর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ আমার নির্বাচনী অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল। ২০১৭ সালের ১ আগষ্ট একনেক বৈঠকে ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প বিলটি পাস হয়েছে। এটি ৩ বছর মেয়াদের প্রকল্প ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন প্রকল্পটি এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। চলতি বছর কাজ শুরু হলে আগামী বর্ষার আগেই শহর রক্ষার বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান। শ্রীপুর থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে যাতায়াত ব্যবস্থায় কালজয়ী অধ্যায় রচিত হবে এই অঞ্চলে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নমুখী সরকার ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। পূর্বের সরকার জনগণকে দৃশ্যমান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ নির্বাচন নিয়ে দেশে বিভ্রান্তি কাটেনি। নির্বাচন কি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে? নির্বাচনের নীতিমালা কি সংবিধানের শর্তাবলী রক্ষা করে এগারতম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন?
কাজী কেরামত আলীঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংবিধানের শর্ত পূরণ করেই নির্বাচন করবে। শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। এটা তাদের রাজনৈতিক ভুল ছিল। আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে। জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। এটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বিচারক বিভাগ পুত ও পবিত্র। সাম্প্রতিককালে প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক বক্তব্র দিযে আসছেন এবং সরকারের সমালোচনা করে চলেছেন। ষোড়শ সংশোধনী ও প্রধান বিচারপতি সাহেবের রাজনৈতিক বক্তব্য আমাদের কিছুটা আশংকায় ফেলেছে। বিচার বিভাগ যখন আইন বিভাগের মুখোমুখি হয় রাষ্ট্রের জন্য সেটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
কাজী কেরামত আলীঃ এদেশের সকলেরই সংবিধানকে মেনে চলা উচিত। আমি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমার বাবা তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনোই আমি প্রধান বিচারপতিকে এভাবে ফ্রন্ট লাইনে কথা বলতে দেখিনি। ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্ট পাস করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক সংবিধানের বাইরে গিয়ে কখনই সংবিধানকে শক্তিশালী করা যায় না। একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হবে য্যখন কিনা সেই রাষ্ট্রের সংবিধান অধিক শক্তিশালী। অর্থাৎ সংবিধানের শক্তিকে অটুট রাখতে হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন আইন বিভাগ প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি কার্যকর করে থাকে। আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগের সঙ্গে যে কোন বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে পারে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রত্য্যাশা সম্পর্কে আপনার অভিমত ব্যক্ত করবেন কি?
কাজী কেরামত আলীঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী দলীয় কোন্দল ও গ্রুপি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন। মনোনয়ন দেয়ার পূর্বে বিভিন্ন জরিপ হবে। জরিপের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে। আমি মনে করি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে জনগণকেও সেটা উপলব্ধি করতে হবে। যে সকল প্রকল্প শেখ হাসিনা হাতে নিয়েছেন সরকার গঠন না করতে পারলে এসব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদক-সমাজ-পরিবার-রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার অঞ্চল সম্পর্কে কিছু জানাবেন কি?
কাজী কেরামত আলীঃ সরকার মৌলবাদ ও সন্ত্রাস অনেকটাই দমন করেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে অনেক কঠিন। আগে ফেনসিডিল সেবন যারা করত তারা বেশী মাদক নিয়ে চলাফেরা করতে পারত না। এখন সবাই ইয়াবাতে ঝুঁকে পড়েছে। ইয়াবা টেবলেট ছোট ছোট। তাই এসব মাদক পারাপার ও সেবন অনেক সহজ। যুব সমাজ ইয়াবার নীল দংশনে ধ্বংসের মুখোমুখি আজ। আইনের প্রয়োগ কঠিন হওয়া উচিত। মাদক ব্যবসায়িদের মৃত্যুদন্ড দেয়া উচিত। দেশ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে এই আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। সরকার আইনটি পাস করবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
কাজী কেরামত আলীঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 641 বার পঠিত.