ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি গঠন

প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হোয়াইট হাউজের এক কর্মীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ১৯ বছরের মাথায় এসে এবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও একই ধরণের আরেকটি গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়েছে।
নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদটি অলংকৃত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনিতেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ, হ্যাকিংসহ এবং বৃহত্তম রাষ্ট্রটির সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগে নাকাল ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গঠন করা হয়েছে গ্র্যান্ড জুরি। যা ঘটনাকে ভিন্ন মোড় দিয়েছে।
বিচার বিভাগের পরামর্শক সাবেক এফবিআই পরিচালক রবার্ট মুলার গ্র্যান্ড জুরি গঠন করেছেন যা ট্রাম্পের জন্য চূড়ান্ত হুমকি হতে পারে। এর আগে একই ধরনের গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং মনিকা লিউনিস্কি যৌন কেলেঙ্কারি তদন্তের জন্য।
২০১৬ সালের জুনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে এক রুশ আইনজীবীর বৈঠকের খবর সামনে আসার প্রেক্ষিতেই গ্র্যান্ড জুরি গঠন করা হয়েছে। তবে কখন এটি গঠন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
গ্র্যান্ড জুরি হলো সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের বাইরে নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল যারা কোনো একটি বিষয় তদন্ত করতে গিয়ে গোপনে কাজ করে।
মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তাতে আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টিই তদন্তে প্রাধান্য পাবে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার সহযোগিদের রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন ছিলো কিনা মুলারের নেতৃত্বে তা খতিয়ে দেখবে কমিটি ।
ক্লিনটনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি গঠনের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে। এটিকে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মনিকা লিউনিস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের অবৈধ যৌনতাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে গঠিত হয় গ্রান্ড জুরি। এ ঘটনার দীর্ঘদিন পর মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একই ধরণের গ্রান্ড জুরি গঠন করা হলো। ক্লিনটনকে সে সময় তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছিলো মি. প্রেসিডেন্টকে। জল এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছিলো যে এর কারণে তাকে অভিশংসনের প্রস্তাবও উঠেছিলো সে সময়। যদিও ভাগ্যক্রমে তাকে সে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে হয়নি।
কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আরও গুরুতর।
এবারও তাকে বিল ক্লিনটনের অভিজ্ঞতার বরণ করতে হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। যা শক্তিধর এ প্রেসিডেন্টের জন্য হবে অত্যন্ত অপমানজনক।



এই প্রতিবেদন টি 382 বার পঠিত.