জীবন থাকতে বাংলা ভাগ হতে দেবেন না মমতা

জীবন থাকতে বাংলা ভাগ হতে দেবেন না মমতা । উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের জানিয়ে দিযেছেন, জীবন থাকতে বাংলা ভাগ হতে দেব না। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় এক জনসভায় তিনি বলেছেন, পাহাড় বাংলারই থাকবে। সেখানে শান্তি ফেরাতে হবেই। তিনি গোর্খাবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমার সরকারের কাছে কিছু চাওয়ার থাকলে চাইবেন। যেটা করতে পারব, সেটা অবশ্যই করব। কিন্তু এমন কিছু করতে পারব না, যার জেরে মানুষের ভোগান্তি হয়, হিংসা তৈরি হয়। ্ওদিন তিনি আরও বলেছেন, জনতার ভালোর জন্য কাজ করাই হল সমস্ত আন্দোলনের উদ্দেশ্য। জনতা খেতে পাবে না, ভোগান্তি হবে, আর রাজনীতির জন্য আন্দোলন চলবে এটা ঠিক নয়। আমি আজ আবার সমস্ত রাজনৈতিক দলকে বলছি, পাহাড়ে শান্তি আনুন, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন। এদিকে গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দার্জিংলিংয়ের আন্দোলনকারীদের সমন্বয় কমিটির বৈঠক পাহাড়ে আপাতত বন্ধ প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কমিটি বন্ধ প্রত্যাহারের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে দুটি ‘কঠিন’ শর্ত আরোপ করেছে। বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক তথা মোর্চার সহ–সভাপতি কল্যান দিওয়ান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দার্জিলিংয়ে বন্ধের পথেই হাঁটা হবে, তবে দুটি শর্ত পূরণ করলে বন্ধের পথ থেকে সরে আসবেন আন্দোলনকারীরা। প্রথম শর্ত, পাহাড় থেকে অবিলম্বে সমস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এবং দ্বিতীয় শর্তটি হল, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে বৈঠকের উদ্যোগ নিতে হবে কেন্দীয় সরকারকে। মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, বিজেপি, কংগ্রেস এবং এনসিপি সহ ১৫টি সংগঠনের নেতারা। বৈঠকে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করবেন। সেইসঙ্গে জাতীয় স্তরে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীদের সঙ্গেও দেখা করবেন। গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে দলগুলির সমর্থন আদায়ে বিশেষ জোর দেবে ওই দলটি। ৪ঠা আগস্ট, শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনে বসবেন এই কমিটির সদস্যরা। গত মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এনসিপি সাংসদ মজিদ মেমন দার্জিলিংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপেই জিটিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এখন দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অশান্তি চলছে। কেন্দ্র মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে না। বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ হওয়া উচিত।



এই প্রতিবেদন টি 418 বার পঠিত.