বন্ধু মুসা ইব্রাহিম ও আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি

সৌমিত্র দেব

আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির মধ্যে গোড়ায় গলদ আছে । শিশু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে এখানে কলুর বলদের মতো বই-পুস্তক চাপিয়ে দেয়া হয়। তাকে তোতা পাখির মতো মুখস্ত বিদ্যা রপ্ত করতে হয়।আমার নিজের অভিজ্ঞতাই এখানে খুব সুখকর ছিল না।আমি আমার অনেক সহপাঠীকেই প্রতিটি ক্লাশে ঝরে পড়তে দেখেছি। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান তৃষ্ণা নিবারণ করতে না পারলে শিক্ষকেরা বেত্রদণ্ড দিয়ে থামানোর চেস্টা করতেন । এ সব দেখে দেখে শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে আমার বিতৃষ্ণা জমেছে ।
তার ওপরে দেখেছি আমাদের শিক্ষার মাধ্যম ও আমাদের শ্রেনী বিভক্ত সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করছে । দরিদ্র শ্রেণীর জন্য মাদ্রাসায় আরবী মাধ্যম । অভিজাত শ্রেণীর জন্য কিন্ডারগার্টেনে ইংরেজী মাধ্যম ।আর মধ্যবিত্তের জন্য প্রচলিত স্কুল-কলেজে বাংলা মাধ্যম। এর মধ্যে প্রথমোক্ত দুটি মাধ্যমের শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। আমি নিজে আগাগোড়া বাংলা মাধ্যমের ছাত্র ।তবে অই দুটি মাধ্যম ও যে খুব ভাল কিছু করছে সেটা তাদের কারযকলাপে মনে হচ্ছে না।দেখা গেছে এই দুটি মাধ্যম থেকে জঙ্গি তৈরি হচ্ছে।নিজেদের সংস্কৃতি ,ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা পদ্ধতি থাকলে নিশ্চয়ই তাদের এই দশা হতো না।সে যাই হোক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে এতো কথা বলার কারণ আমার প্রিয় বন্ধু এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম । তিনি সম্প্রতি শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবছেন একটি মহত উদ্যোগ হাতে নিয়ে । আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ হল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন মুসা । তার নিজের জবানীতেই দেখি তিনি কি করতে চাইছেন ।

 

প্রিয় সৌমিত্রদা,

শুভেচ্ছা নিয়েন।

আল্লাহর ইচ্ছায় আর আপনাদের শুভকামনা, দোয়াকে মাথায় নিয়ে আমরা একটা স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি – শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে। শিক্ষায় কেনো নিজেকে যুক্ত করছি? – এর উত্তরটা মনে হয় নতুন করে আর দেয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে আপনার যে চিন্তা, তা যদি অনুগ্রহ করে আমাকে কয়েক কলম লিখে দিতেন, খুবই উপকৃত হবো। আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের নতুন স্কুল ও কলেজ কেমন হলে ভালো, তার রূপরেখা নির্ধারণে দেশের শিক্ষাবিদদের প্রকাশিত লেখা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।

আপনিও যদি বিভিন্ন সময়ে লিখে চলা শিক্ষা নিয়ে আপনার চিন্তাগুলো লিখে দেন, তাহলে উপকৃত হবো।

বিনীত-
মুসা

আমি শিক্ষাবিদ নই । যদিও মুজিব নগর আনন্দবাস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সভাপতি ছিলাম।নিজের এলাকায় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার করণধারদের সঙ্গে আমার ভালোই সম্পর্ক ।তবু শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কিছু লেখা ধৃষ্টতার শামিল। তবু বন্ধুর দাবি বলে কথা।রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন আমাকে মুগ্ধ করে । তিনি চেয়েছেন শিক্ষা পদ্ধতিকে আনন্দদায়ক করতে। শিক্ষক হবেন একজন মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক। তিনি শিক্ষারথীক আনন্দ দানের মাধ্যমে পড়াবেন।তার ভেতরে জানার তৃষ্ণা জাগাবেন। শিশু শিক্ষার্থী বড় হয়ে বিশেষজ্ঞ হোক কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষায় তাকে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে । পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি বিদ্যার প্রাথমিক ধারণা তাকে শুরু থেকেই দিতে হবে ,যাতে করে শিক্ষার্থীকে কখনই বেকার জীবনের অন্ধকারে হারিয়ে  যেতে না হয় ।



এই প্রতিবেদন টি 1404 বার পঠিত.