প্রেমনগর চাবাগানের রাস্তার বেহাল দশা

 

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২ নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ দিয়ে মোকামবাজার এলাকার ভিতর দিয়ে অবস্থিত প্রেমনগর চাবাগান-কমলগঞ্জ সড়কটির প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার হচ্ছেনা। জেলা সদরের মোকামবাজার থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত রয়েছে এ সড়কের সংযোগস্থল । সরেজমিনে দেখা গেছে দেওরাছড়া বাগান এলাকাটি কমলগঞ্জ উপজেলার আওতাধিন হওয়ায় সেখান থেকে রাস্তার কার্পেটিং সহ সার্বিক সংস্কার কাজ অনেক আগে শেষ হলেও সদর উপজেলার আওতাধিন এলাকার দুই কিলোমিটার জুরে সংস্কার হয়নি আজও। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের দুই কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে সদর উপজেলার আওতাধিন। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই রাতদিন দীর্ঘ এসড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন দু’টি
চা বাগানের শতশত চা শ্রমিক,পর্যটক,কৃষক,ব্যবসায়ী,স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) তত্ত্বাবধানে নিয়ন্ত্রনাধিন এসড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ার কারনে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটু পরপর রাস্তার বিশাল যায়গা জুরে গর্ত তৈরি হয়েছে সড়কটিতে। বিশেষ করে রাতের বেলা যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে নানান প্রতিবন্ধকতা, অনেক সময় সিএনজি অটোরিক্সা, চা বাগানের ট্রাক্টর,কার ও লাইটেসজাতীয় ব্যক্তিগত গাড়ী এসব গর্তের মধ্যে পরে কারনে অকারনে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে। সূত্রে জানা গেছে উন্নয়নের রুপকার,জেলার মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম, সাইফুর রহমানের প্রানান্তর প্রচেষ্টায় বিগত বিএনপি নেতৃত্তাধিন চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে এ জেলার রাস্তাঘাট,অবকাটামো সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পরে শহর থেকে গ্রামীন জনপদে। তৈরি হয় নতুন নতুন রাস্তাঘাট,এরই ধারাবাহিকতায় ঐ সময় এ সড়কটিতে নতুন করে কার্পেটিং সহ ব্যাপক সংস্কার করা হয়। এর পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটি আজও সংস্কার হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ভারি বৃষ্টির কারনে বর্তমানে রাস্তার কার্পের্টি উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। এসব কারনে বর্তমানে এ রাস্তাটি সাধারণ মানুষ সহ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে । স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাট্যব্যক্তিত্ত্ব আলমগীর হেসেন এ প্রতিবেদককে জানান, এ সড়কটি শুধু মাত্র আমাদের এলাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য নয়, এ রাস্তা দিয়ে দেওরাছড়া ও প্রেমনগর নামক দুটি চাবাগানের মনোরম দৃশ্য, মৌভ্যালী পার্ক সহ কমলগঞ্জের লউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেখতে প্রতিদিনই দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক পর্যটক দেখতে আসেন, তবে রাস্তার অবস্থা ভাল না হওয়ায় এখন আর আগের মতো পর্যটকরা খুব একটা আসেন না। তিনি আরো বলেন, জেলা শহরের সাথে কমলগঞ্জ উপজেলার, রহিমপুর ইউনিয়নের কালেঙ্গা, মুন্সিবাজার,শমসেরনগর ও ভানুগাছ বাজার পর্যন্ত যাতায়াতের সুবিধার জন্য একসময় এ সড়ক দিয়ে দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ও উপজেলা শহরের নানান শ্রেনী পেশার মানুষ খুব সহযে যাতায়াত করলেও বর্তমানে রাস্তাটির বেহাল দশার কারনে এখন আর আগের মতো এসব এলাকার মানুষজন খুব একটা যাতায়াত করেন না। অন্যদিকে ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধিন প্রেমনগর চা বাগানের ম্যানেজার দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার কারনে এখন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ছে, এটাকে এখন আর কোনভাবেই রাস্তা বলার সুযোগ নেই কারন, আমাদের চা বাগানের কোন গাড়ির চালান ও রুগিবাহী এম্বুল্যান্সও সময় মতো পৌছানো যাচ্ছেনা গন্তব্যস্থানে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ সড়কটির অবস্থান বা সংস্কার সম্পর্কে তিনি জানেন না, তিনি বলেন এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনিই ভাল বলতে পারবেন।

এদিকে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জহীর মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মোকামবাজার থেকে প্রেমনগর বাগানের সহকারী ম্যানেজারের বাঙলো পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা জুরে নতুন করে কার্পেটিং সহ সংস্কারের জন্য আগামী আগষ্ট মাসের শেষ সাপ্তাহে টেন্ডার দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আশা করি বর্ষা মৌসুম শেষ হলে আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।



এই প্রতিবেদন টি 489 বার পঠিত.