আমার সুরঞ্জিত কাকু

সৌমিত্র দেব
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঝানু পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যেদিন মারা গেলেন আমি তখন বিছানায় । অসুস্থ হয়ে প্রায় অচেতন । এরি মধ্যে শোক সংবাদটা পেয়ে মন্ টা আরো খারাপ হয়ে গেল ।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্তকে আমি কাকু ডাকতাম । তিনি ছিলেন আমার ছোটকাকু ,সিলেটের খ্যাতিমান আইনজ্ঞ এডভোকেট সুবিমল দেব এর ঘনিষ্ট বন্ধু । যদিও রাজনৈতিক ভাবে তার আরো বেশী ঘনিষ্ট ছিলেন আমার সেজো কাকু সুনির্মল দেব মীন । তিনি ন্যাপ এর মনোনীত প্রার্থী হয়ে ১৯৭৯ সালে মৌলভীবাজার ২ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন । কিন্তু সুরঞ্জিত কাকুর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমার ছোটকাকুর । তাই মৃত্যু সংবাদ পেতেই আমার ছোটভাই রাজ দেব রাজু লন্ডন বসে ফেসবুকে মর্মস্পর্শী স্ট্যাটাস দিয়েছে । সে লিখেছে Dear Suranjit uncle, I’ll personally miss you a lot …, Thanks for everything.. I feel sorry for those bloggers, who wrote cheap and rubbish stuff ( soapy and cheesy things in order to get more likes ) about you… The nation will always remember you for who you were for dacades. It’s sad for us that we lost a father figure.
পারিবারিক ভাবে ঘনিষ্ট হলেও আমি সুরঞ্জিতকাকুর খুব কাছের লোক ছিলাম না ।তবে তার সম্পরকে খোজ খবর রাখতাম । ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন । ছিলেন ভাল একজন নাট্য করমী ও । ১৯৭০ সালে তিনি কি ভাবে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য হলেন , কয়েকটি প্রভাবশালী মুসলিম পরিবার কিভাবে তাকে সহযোগিতা করেছিল ,কিভাবে সামাদ আজাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল এ সব নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি । বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ও তার নৌকা প্রতীকের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্যে কুড়েঘর প্রতীক নিয়ে সুরঞ্জিতের বিজয়ী হয়ে আসা ছিল এক বিরল ঘটনা ।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন । মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল(অব) এম এ জি ওসমানী তার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন । অবশ্য যুদ্ধ চলা কালে পাক বাহিনীর প্রধান শত্রু ছিল হিন্দু সম্প্রদায় । এই সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য খোলা ছিল দুটি মাত্র পথ। হয় ভারতে গিয়ে শরণার্থী হউ আর না হলে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দাও। সংখ্যাগুরু মুসলমান জনগোস্টির তখনো রাজাকার হবার পথ খোলা ছিল। এমনকি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পর্যন্ত পাক বাহিনীর সহযোগী হতে পেরেছিলেন। কিন্তু হিন্দুদের পক্ষে সেটা সম্ভব ছিলনা। আমার পিশতুতো দাদা পরবর্তী কালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব)জয়ন্ত কুমার সেন ও তখন কলেজের ছাত্র অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। সুরঞ্জিতের মতো নেতার পক্ষেও তাই মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে সেদিন উপায় ছিল না। তবে সংঠক হিসেবে সেদিন তিনি অসাধারণ অবদান রাখতে পেরেছিলেন ।
স্বাধীনতার পর আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেন । আমাদের সংবিধান প্রণয়নে তার ভুমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । সংসদে তিনি একাই সরকারের সমালোচনা করতেন । ওয়াকআউট করতেন । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেও সংসদে তুলোধুনো করতে ছাড়তেন না । স্বাধীনতা বিরোধী ও প্রতিবিপ্লবীদের মোকাবেলা করতে গিয়ে ঐক্যের প্রয়োজন অনুভব করেন বঙ্গবন্ধু ।গড়ে ওথে আওয়ামীলীগ ,ন্যাপ ও সিপিবি মিলে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট । এরি পথ ধরে আসে বাকশাল কর্মসূচী ।তবু শেষ রক্ষা হয় না .১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য বংবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। শুরু হয় সেনা অভ্যুত্থানের রাজনীতি । বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক ঘোলাজলে তিনি মাছ শিকারে নামেন নি ।
তবু জিয়া সরকার সংসদকে প্রাণবন্ত করতে সুরঞ্জিত সেনকে সহযোগিতা করতে চেয়েছেন । ব্যাক্তি জীবনে সুরঞ্জিতের সঙ্গে জিয়ার ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তাদের সম্পর্ক হয়েছিল সেই মুক্তিযুদ্ধের সময় কাল থেকে । এই সত্য স্বীকারে কোন কার্পণ্য ছিল না সুরঞ্জিতের। কিন্তু তার অবস্থান কখনই জিয়ার রাজনীতিকে সমর্থন করেনি । জিয়ার মৃত্যুর পর সংসদে সুরঞ্জিতের ভাষণ ইতিহাস হয়ে আছে ।
এরশাদের নয় বছরের শাসন কালে সুরঞ্জিত গনতন্ত্রী পার্টির নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার পাশেই অবস্থান করেছেন । ছিয়াশীর সংসদে নিয়মিত দেখা যেত শেখ হাসিনার দুই পাশে দুই বাম নেতা, সুরঞ্জিত সেন আর কমরেড ফরহাদ ।

নব্বইএর স্বৈরাচার পতনের পর জোটের মার্কা নৌকা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন সুরঞ্জিত । সে সময় তার পরিচিতি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তাকে বলেন ,ছোট পার্টির বড় নেতা। কিন্তু ওই নির্বাচনে বড় পার্টির অনেক বড় নেতাও শোচনীয় ভাবে হেরে গিয়েছিলেন । সেই নির্বাচনে প্রমাণ করেছিলেন সুরঞ্জিত,দল বা মার্কা কোন ফ্যাক্টর নয় । ন্যাপ,একতা পার্টি,গণতন্ত্রী পার্টি এসব ছোট পার্টি থেকেই বারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি । কিন্তু পরে যখন সরাসরি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হন,১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তখনই হেরে গিয়েছিলেন তিনি। হয় তো তার সংসদীয় এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই-শাল্লার মানুষ তার বড় দলে যোগ দেয়াটা মেনে নিতে পারেন নি। পরে অবশ্য উপনির্বাচনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি । পরবর্তী নির্বাচন গুলোতে তার নিজের আসন থেকেই আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে জিতে আসেন ।
সুরঞ্জিতের আওয়ামীলীগে যোগ দেয়ার ঘটনাটা বেশ মজার .১৯৯১ পরবর্তী খালেদা জিয়ার শাসনকাল। এ সময় একদিন জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিটিভির এক অনুষ্ঠানে অতিথি হন সুরঞ্জিত । এতে করে ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রলীগের অতি উৎসাহী কিছু কর্মী । তারা সুরঞ্জিতের বাড়িতে হামলা চালায় । অপমানিত বোধ করেন সুরঞ্জিত । আমরা ভেবেছিলাম তিনি হয় তো এই ঘটনার কারণে হাসিনার জোট ছেড়ে সরাসরি বিএনপিতে যাবেন ।কিন্তু দেখা গেল তিনি বিএনপির দিকে না গিয়ে সরাসরি আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন । কয়েক বছর পর আমার সঙ্গে একান্ত আড্ডায় তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন । বলেছেন ,তার বিরুদ্ধে অইদিন ছাত্রলীগের একাংশকে ব্যাবহার করেছেন আওয়ামীলীগ নেতা সামাদ আজাদ । তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই সামাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলেন ।যারা তার বাড়িতে হামলা করেছিল তিনি হয়ে গেলেন তাদের ই নেতা। সুরঞ্জিত কাকুর সঙ্গে সরাসরি আমার পরিচয় হয়েছিল মানবজমিন পত্রিকা অফিসে । তিনি এসেছিলেন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর কাছে । কিন্তু মতিউর রহমান অফিসে না থাকায় সহকারি সম্পাদক হিসেবে আমি তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ছিলাম । আমার পারিবারিক পরিচয় পেয়ে তিনি খুব খুশী হয়েছিলেন । দীর্ঘ আড্ডায় তার জীবন ও রাজনীতির অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছিল সেদিন । এর পর আরো কয়েকবার টেলিফোনে তার কমেন্টস নিয়েছি।সব সময় ই তার কথাবার্তার মধ্যে পেয়েছি হিউমার। তিনি সামাদ আজাদের নাম বিকৃত করে বলতেন সামাইদ্যা । আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলের নাম বলতে গিয়ে বলতেন জইল্যা ।
সুরঞ্জিত কাকুর স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা ব্রাকে চাকরি করেন । এক অসাধারণ ভালো মানুষ আমার এই কাকিমা । তিনি পি এইচ ডি করেছেন মধ্যযুগের লোক সাহিত্য মনসা মঙ্গল নিয়ে ।

ওয়ান ইলেভেনের সময় সুরঞ্জিত কাকুর পরিচিতি দাঁড়ায় সংস্কারপন্থী হিসেবে ।সুরঞ্জিত- তোফায়েল- আমু- রাজজাক আওয়ামী লীগ রাজনীতির এই চার স্টার রাতারাতি দলের মূলধারার কাছে পরিচিত হলেন র‍্যাটস নামে। এ সময় সুরঞ্জিত কাকু তার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাহসের সঙ্গে বলেন আমি হাসিনাকে ভালোবাসি ।তবে দেশকে ভালোবাসি তার চে ও বেশী।
এরপর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে এই চার নেতা উপেক্ষিত হন । মহাজোটের মন্ত্রীসভাকে কচিকাঁচার আসর বলে রসিকতা করেন সুরঞ্জিত । তবে সংস্কারপন্থীদের মধ্যে প্রথম মন্ত্রীত্ব লাভ করেন তিনি। । রেল মন্ত্রী হিসেবে তিনি অল্প সময়ে ব্যাপক সাফল্য দেখান । কিন্তু গভীর ষড়ুযন্ত্রের শিকার হয়ে দপ্তর ছাড়তে হয় তাকে । বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হয় কলঙ্ক লেপন । মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি ।
কিন্তু এর পরেও বাঘের হুঙ্কার থেমে যায় না। সাংবাদিক প্রবীর শিকদারকে যখন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস লেখার কারণে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর আবার তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত । তখনই গর্জে ওঠেন সুরঞ্জিত । স্পষ্ট করে বলেন, এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তারপরি রিমান্ডের আসামীকে জামিন দেয় আদালত । মুক্তি পান প্রবীর ।
তবে পরবর্তীকালে একটি ঘটনায় সুরঞ্জিত কাকুর ওপরে খুব অভিমান হয়েছিল আমার । সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলি মারা যাবার পর ঢাকায় তার প্রথম শোকসভা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি।মহসিন আলি ছিলেন আমার খুব আপনজন। তাকে চাচা ডাকতাম । তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা তখন শোকাহত। । এরি মধ্যে গন্ধ পাচ্ছিলাম নানা ষড়যন্ত্রের । তাই লাশ দাফনের আগেই শোকসভার জন্য বুকিং দিয়েছিলাম জাতীয় প্রেসক্লাব । উদ্দেশ্য ছিল একই সঙ্গে চাচার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো। এবং মন্ত্রী,এম পি ও বিশিষ্ট জনদের আলোচনায় চাচাকে এমন ভাবে ফোকাস করা যাতে করে উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে আমার চাচী সৈয়দা সায়রা মহসিনের নাম সামনে চলে আসে । মহসিন চাচা ছিলেন সুরঞ্জিত কাকুর খুব কাছের মানুষ । তাই তাকে অনুষ্ঠানের অন্যতম অতিথি করতে চেয়েছিলাম । আমার সঙ্গে সেদিন ছিলেন ডক্টর গোলাম মোস্তফা ও গোলাম কবীর আহমেদ চৌধুরী । আমরা সেদিন সুরঞ্জিত কাকুর সংসদ অফিসে বসেছিলাম । তিনি হঠাত আমাকে চমকে দিয়ে প্রশ্ন করেন,ঢাকায় শোকসভা করতে চাও কেন ? মহসিন কি জাতীয় নেতা?
আমি বললাম একজন তৃনমূলের নেতা যখন তার আপন যোগ্যতায় দেশের মন্ত্রী হয়ে ওঠেন তিনি অবশই জাতীয় নেতা । তার মেজাজ বোধ হয় সেদিন খারাপ ছিল। তিনি ধমকের সুরে আমাকে বলেন, দেখ ভাতিজা, পন্ডিতি করোনা । মহসিন ছিল তৃনমূলের নেতা। সহজ সরল মানুষ । কপাল ভালো ছিল। শেখ হাসিনা তারে মন্ত্রী বানাইসে । মন্ত্রী থাকা অবস্থায় মারা গেসে । সরবোচ্চ সম্মান পাইসে । এখন তার শোক সভা করলে সেটা হবে তার এলাকায় । স্থানীয় আওয়ামী লীগ যদি তার শোক সভা করে আমাকে ডাকে তাহলে আমি যাবো ।জাতীয় ভাবে এ ধরণের অনুষ্ঠানে আমি নাই । একটু থেমে আবার বলেন তুমি তো সাংবাদিক । মহসিনের শোক সভা মৌলভীবাজার হলে মিডিয়ায় যে গুরুত্ব পাবে ঢাকায় করলে কি তা মিলবে ? তিনি নিজেই হয় তো বুঝতে পারছিলেন কথাগুলো যুক্তি সঙ্গত হছেনা ।পরে বলেন , শুধু মহসিন বলে বলছি না । আমি মরলেও আমার শেষ ঠিকানা সুনামগঞ্জ । কাকুর আচরনে খুব ব্যাথিত হয়েছিলাম। তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে না এলেও আমাদেই আয়োজনে ঢাকায় পাবলিক লাইব্রেরীতে মহসিন আলির আরেকটি শোক সভায় এসেছিলেন।তিনি তার বক্ত্রিতায় বলেন , আমি আশা করেছিলাম মহসিনের কথা বলতে আমি তার এলাকায় যাবো । কিন্তু মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগ বোধ হয় কোন্দলের কারণে শোকসভা করলো না । । তিনি আমাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন । পরে শুনেছি আমার চাচী সৈয়দা সায়রা মহসিনের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ও তিনি জোরালো ভুমিকা পালন করেন ।
মৃত্যুর পরে জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের শেষ ঠিকানা এখন সুনামগঞ্জ ।তিনি তার কথা রেখেছেন । মহসিন আলির মতো তিনি ও চলে গেছেন তৃণমূলের কাছে । কিন্তু আমার সুরঞ্জিত কাকুর ঠিকানা যেখানেই হোক তিনি যে জাতীয় নেতা এটা তো বলাই বাহুল্য।



এই প্রতিবেদন টি 3156 বার পঠিত.