শত শত বছরের প্রাচীন চকবাজার দূর্ভোগের শেকল থেকে মুক্ত

শত শত বছরের প্রাচীন চকবাজার দূর্ভোগের শেকল থেকে মুক্ত
সিরাজুল ইসলাম রাডো
পুরাতন ঢাকার চকবাজার নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। চকের ব্যবসা বাণিজ্য যদিও জৌলুস হারিয়েছে তবুও চকের গুরুত্ব এখনো কমেনি। একসময় এখানে ছিল কেন্দ্রিয় কারাগার। সেটি স্থানান্তরিত হয়েছে। কমেছে কোলাহল, কমেছে ট্রাফিক জ্যাম। অপরাধীদের পদচারণা নেই আর। সারা দেশের কুখ্যাত অপরাধীদের ধরে নিয়ে বন্দি রাখা হতো এই জেলে। রোজার মাসে ঢাকার দূর দূরান্ত থেকে চকে এসে মানুষ ইফতার কেনেন। রোজা, ঈদে কোলাহল কিছুটা বেড়ে যায়। কিন্তু নিত্যদিনের কোলাহল আর নেই কারাগার স্থানান্তরের জন্য। চকবাজার থেকেই সামান্য দূরেই বুড়িগঙ্গা। ঢাকার মেয়র সাহেব বুড়িগঙ্গার দুই পাড় ঘেষে পর্যটন উপযোগি পরিবেশ তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। বুড়িগঙ্গার পানি পরিশোধিত হবে। জেলের পরিত্যাক্ত খোলা জায়গায় সবুজ ঘাষের মাঠ নির্মাণ হবার কথা। পথে পথে এলইডি লাইটগুলো পুরাতন ঢাকার উজ্জলতা বৃদ্ধি করেছে। চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোঃ সিরাজুল ইসলাম রাডোর সঙ্গে তার দীর্ঘ পরিচিত বন্ধুবর সাংবাদিক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন শত শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বিজরিত চক বাজার এলাকার সাম্প্রতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে। দুজনের কথোপকথন এখানে পত্রস্ত করা হলো।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ পাকিস্তানী শোষক ও দেশি চক্রান্তকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করে চলেছে অদ্যাবধি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগের অবস্থানকে কিভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ প্রতিটি বাঙ্গালীরই আওয়ামী লীগকে মূল্যায়ন করা উচিত। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিম?েয় বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করা প্রতিটি বাঙ্গালীরই দায়িত্ব। বিশতম জাতীয় সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের চূড়ান্ত সফলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলেছেন। নির্বাচনের পরে বছর দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উপর বিএনপির কর্মিরা যে অন্যায় অত্যাচার করেছিল, যেভাবে মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে জীবন্ত দ্বগ্ধ করা হয়েছিল সেই ইতিহাস খুবই নির্মম। ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্যই দেশে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। সেই সহিংসতা জনগণ-সরকার-প্রশাসন প্রতিরোধ করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। ২০২১ সালের মধ্যেই আওয়ামী লীগের ভীশন বাস্তবায়িত হবে। জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ চায়। কল্যাণের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ তার শক্তি বৃদ্ধি করেই চলেছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে আওয়ামী লীগ দারুন একটি চমক দেখালো। আপনার দৃষ্টিতে কমিশন সম্পর্কে কি ধারণা জন্ম নিয়েছে?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ অত্যন্ত সুন্দর একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনই আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে। কমিশনের সদিচ্ছা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীতে গণতন্ত্র আরও টেকসই হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আগাী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কি পূনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে বলে আপনার ধারণা?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে উন্নয়নকে যেভাবে বাস্তবায়িত করেছেন তার প্রতিফলন নির্বাচনে পরবেই। বিগত সরকার এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে ছিল। জনগণ কল্যাণের রাজনীতিকেই সমর্থন দিবে। ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে আওয়ামী লীগ শাসনামলে, শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার বিচার কাজ চলছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যারা বাংলাদেশে ধ্বংসলীলা চালালো, মানুষ হত্যা করল তাদের কি বিচারের আওতায় আনা হবে?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ রাজনীতির শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার বলা হয়েছে তাদের বিচার করা হবে। যারা নিরীহ মানুষদের পেট্রোল বোমা দিয়ে জীবন্ত দ্বগ্ধ করে মেরেছে তারা এই স্বাধীন দেশে নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াতে পারে না। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আমি আহত হয়েছিলাম। আমার সারা শরীরে এখনও স্প্রিন্টার। যেহেতু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে সেহেতু এই নৃংশস হত্যাকান্ডেরও বিচার বাংলায় হবেই।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ স্বাধীনতার মাস বাঙ্গালী জাতির ঐতিহ্য ও গৌরবের মাস। আর্থ-সামাজিক পরিবেশে স্বাধীনতার গুরুত্ব কতটা?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মিরা ছাড়াও বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ স্বাধীনতা দিবসে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করে সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছিল। তার প্রথম জবাব শুরু হলো ২৬ মার্চ। শত্রুর মোকাবেলা করতে শুরু করা হলো বলেই ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বাঙ্গালী জাতি বিবেচনা করা হয়। স্বাধীনতা ও বাঙ্গালীর অস্তিত্ব খুবই নিবিড়। সাধারণ মানুষ গৌরব ও গর্বের সাথে স্বাধঘীনতা দিবসকে অনুভব করে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বর্তমান সরকারের শাসনামলে আপনার অঞ্চল থেকে কেন্দ্রিয় কারাগার স্থানান্তরিত হয়েছে। এর ফলে আপনারা কতটা সাচ্ছন্দ বোধ করছেন?
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ জেলখানার কারণে চক বাজার এলাকায় অপরাধীদের পরিজনদের আনাগোনায় দূর্বিসহ ট্রাফিক জ্যাম লেগেই থাকত। রাত দিন হট্টগোল ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কারাগার সরিয়ে নেয়ার ফলে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। এই এলাকা এখন নিরিবিলি। ট্রাফিক জ্যাম থেকে নিরসন পেয়েছে মানুষজন। পূর্বে একটি এ্যাম্বুলেন্স সহজেই যেতে পারত না। জেলখানায় একটি জাদুঘর করা হয়েছে। খোলা জায়গায় জনগণের দাবি একটি খেলার মাঠ। প্রাচীরটি ভেঙ্গে ফেললেই ভালো হয়। চকবাজারে একটি খেলার মাঠ থাকলে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে আশা করি।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
সিরাজুল ইসলাম রাডোঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 988 বার পঠিত.