মৌলভীবাজারে ঝিমিয়ে পড়ছে বিএনপি’র রাজনীতি!

স্টাফ রিপোর্টার (মৌলভীবাজার)
মৌলভীবাজারে ঝিমিয়ে পড়ছে বিএনপি’র রাজনৈতিক কর্মকান্ড। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা সময় দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক কাজে। দীর্ঘ সময় ধরে জেলা বিএনপি’র কমিটি না থাকায় অনেক নেতারা নিস্ক্রীয় হয়ে পড়ছেন দলীয় কাজে । অনেকে আবার রাজনৈতিক হয়রানী মূলক মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, একসময় সমগ্র জেলার রাজনীতির মাঠে দুর্দান্ত গতিতে ধাপিয়ে বেড়ানো দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক এদলের অবস্থা বর্তমানে একেবারেই করুন। যার মূল কারন অভ্যান্তরিন দলীয় কোন্দল। দলের তৃনমূলেও বিরাজ করছে চরম হতাশা, যা নিয়ে দলের একান্ত অনুসারী ও সূধী মহল বেশ চিন্তিত। অতছ বৃহত্তর সিলেট বিভাগের অধিকাংশ উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি সরকারের শাষনামলে। সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে নব্বই পরবর্তি সময়ে মৌলভীবাজারে বিএনপি দুর্গ হিসেবে গড়ে উঠে,জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে দলের তৃনমুলের ভিত অনেকটা মজবুত হতে সক্ষম হয়। বিস্তার করে ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপাত্য। যা নিয়ে এক সময়ে জেলায় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ে।

এক-এগারো পরবর্তি সময়ে দলের নেতা কর্মীদের উপর তৎকালিন সেনা সমর্তিত সরকারের দমন নিপিড়নে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারের অনেক নেতারা দুর্নীতির নানান অভিযোগে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মাসের পর মাস কাটান। সে সময় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর অনেকে জামিনে বেড়িয়ে আসেন পরবর্তি সময়ে। পরবর্তিতে তৎকালিন সেনা সমর্তিত তত্তাবধায়ক সরকার নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষনা করলে দলের নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মী সহ সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা উজ্জিবিত হয়ে দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রীয় হয়ে নামেন । তবে বিশাল ভোটের ব্যাবধানে জেলার রাজনীতির কান্ডারী, উন্নয়নের রুপকার, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী প্রয়াত এম,সাইফুর রহমানকে হাড়িয়ে সদর ৩ আসনের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন মৌলভীবাজার পৌরসভার তিন বারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান,বীর মুক্তি ও সাবেক সমাজকল্যানমন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী।
তৎকালীন সময়ে বিএনপি’র হেভিয়েট প্রার্থী এম সাইফুর রহমানের এ পরাজয়ে সাইফুরপন্থী ভোটার ও সমর্তকদের মাঝে নেমে আসে দীর্ঘ হতাশা,যার প্রভাব পরে দলের তৃনমূল পর্যায়ে।

এর পর থেকেই কার্যত মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপি’র রাজনীতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। বড়ধরনের কোন কর্মসূচীও প্রায় নেই বললেই চলে, এর সাথে যোগ হয় বিভক্তি ও দলীয় কোন্দল। সেই সাথে দলের নেতাকর্মীরাও প্রধানত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক গ্র“পের নেতৃত্ত দিচ্ছেন প্রয়াত সাইফুর রহমান পুত্র সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম নাসের রহমান আর অপর গ্র“পের নেতৃত্ত দিচ্ছেন, সাবেক কেন্দ্রীয় বিএনপি’র মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বেগম খালেদা রব্বানী। নেতৃত্তের দন্দে দিন দিন দলের মধ্যে বিভাজন প্রকট আকার ধারন করতে থাকে। এ নিয়ে কয়েক বছর পূর্বে দলের কর্মী সভাকে কেন্দ্রকরে একাধিকবার সোডাউন পাল্টা সোডাউন সহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় গ্র“পের মধ্যে প্রায় ছয়টি পাল্টাপাল্টি মামলাও দায়ের করা হয়। তবে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীরা রয়েছেন বেগম খালেদা রব্বানীর নেতৃত্তে। দু গ্র“পের নেতাদের এক করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এ নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হতাশায় পড়েন । জেলা সদরে কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচী দিলে দু গ্র“পের নেতারাই পৃথক পৃথক কর্মসুচী পালন করেন । তবে দন্দ মুলত হয়েছে সাবেক সাংসদ নাসের রহমানের কারনে, তার বিরুদ্ধে অপর গ্রুপের অভিযোগ তিনি দলকে দিধাবিভক্ত করেছেন এবং দলীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। এ অবস্থায় জেলার রাজনীতিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে বিভিন্ন বিভক্তি থাকলেও একচ্ছত্র আধিপাত্ত বিস্তার করতে সক্ষম হয় ।

এদিকে বিএনপির দলীয় বিভক্তির ফলে জেলায় বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সুবিধাজনক অবস্থান করতে পারেনি। এসব নির্বাচনে কোন্দল থাকায় শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারেনি, আবার কিছু কিছু এলাকায় শক্তিশালী প্রার্থী দিলেও বিভক্তির কারনে দল সমর্তিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার ফলে বিজয় নিশ্চিত করতে পারেননি। দীর্ঘদিন যাবত দলীয় কোন্দল থাকার কারনে জেলা বিএনপি’র সম্মেলন হয়নি । দু একবার সম্মেলনের গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত সম্মেলন হয়নি । জেলার শীর্ষ নেতৃত্তের কোন্দলের প্রভাব পরে বিভিন্ন উপজেলার রাজনীতিতে,যার কারনে জেলার সাতটি উপজেলায় অদ্যবধি পর্যন্ত সম্মেলন হয়নি।,জেলা সদরে কেন্দ্রীয় কর্মসুচী নামকাওয়াস্থে মাঝে মধ্যে পালন করলেও বিভিন্ন উপজেলায় এখন পর্যন্ত দলীয় কর্মসুচী পালন খুব একটা চোখে পড়েনি । দলীয় কোন্দল মিটিয়ে জেলায় ভোটের মাঠে ব্যাপক জনসমর্তন থাকা বিএনপি’র বর্তমান দুরাবস্থা কতখানি কাটিয়ে উঠতে পারবে তা নিয়ে রিতিমত সন্ধিহান রাজনৈতিক সচেতন মহল । দলের অঙ্গ সংগঠনগুলোর অবস্থাও বেশ নাজুক। ছাত্রদল,যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দলের কর্মকান্ড মাঝে মধ্যে জানান দিলেও সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত তাদের কোন কমিটি হয়নি আজও।

বিএনপি সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ও বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রুপকার প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে আশা মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন মৌলভীবাজারে বিএনপি’র রাজনীতি ঝিমিয়ে পরার বিষয়টি স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে জানান,মৌলভীবাজারে বিএনপি’র রাজনীতিতো প্রায় নেই বললেই চলে, এর পিছনে মূল কারণ হলো গ্র“পিং আর দলীয় বিভক্তি। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ হলে এর সুন্দর সমাধান হবে এবং তারা দু পক্ষকে এক সাথে বসিয়ে সুন্দর একটি কমিটি উপহার দিতে পারেন বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি দাবী করে বলেন, কেন্দ্র জেলা বিএনপি’র দলীয় কোন্দল নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নেতারা এসে পর্যবেক্ষন করে গেছেন কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যেগ তারা এখন পর্যন্ত নেননি। আর দলের কোন্দলের বিষয়ে কে দায়ী সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোন নেতার নাম উল্যেখ না করে তিনি জেলার শীর্ষ নেতাদের দায়ী করেন, কারন হিসেবে তিনি বলেন, দলের জুনিয়র সারির কোন নেতারাতো কোন্দল করেননা,কোন্দল করেন সিনিয়র নেতারা । তিনি আরো বলেন, মৌলভীবাজারে বিএনপি’র এঅবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে নাসের রহমান ও খালেদা রব্বানীকে এক টেবিলে বসে সমাধানের পথ খুজতে হবে।



এই প্রতিবেদন টি 814 বার পঠিত.