আওয়ামী লীগের রক্তপ্রবাহে শুধুই মুক্তির জয়যাত্রা

আওয়ামী লীগের রক্তপ্রবাহে শুধুই মুক্তির জয়যাত্রা
নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এম.পি
নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে যেসকল প্রস্তাব রেখেছিলেন বর্তমান সরকারের তিন বছর মেয়াদ অতিবাহিত হলে সেই সকল প্রস্তাবনার স্বচ্ছ চিত্র পেতে রাষ্ট্রের জনগণ তীব্র তাড়না অনুভব করে। ক্ষমতায় উত্তরণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী মেখ হাসিনা দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছেন মেট্রেওা রেল নির্মাণ, পদ্মা সেতু নির্মাণ ও রামপালে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ন্যায় কতিপয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে। পাশাপাশি ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির মধ্য দিয়ে টেকসই গণতন্ত্র সুনিশ্চিতকরণ ও টেকসই উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখাও সরকারের প্রধান কৌশল ছিল বিগত তিন বছর যা কিনা সরকারের আগামী দিনের ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালি করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি বিগত বছরের সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় চার লেন ও আট লেনের সড়ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায়। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে সরকারের ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপার্জন সংযোজিত হয়েছে নতুন লক্ষ্যমাত্রায়। এগিয়ে থাকা পোশাকখাতের গত বছরের অনাকাঙ্খিত ধ্বস পূনরায় ইউটার্ন নিয়েছে বলে সরকারের অভিমত পোশাক শিল্পকে উঠে দাড়ানোর নতুন শক্তি যুগিয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ গণতন্ত্রের ভিত্তিতে মজবুত করবে বলে সকলেই আশাবাদি। এর মধ্য দিয়ে সংবিধানের শর্তই শুধু পূরণ হয়নি বরং সংবিধানের মর্যাদাও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্মানিত সাংবাদিক ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম ১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে মহান সংসদে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি উত্থাপন করলে তিনি সেসব বিষয়ে তার স্বচ্ছ অভিমত ব্যক্ত করেছেন যা রেকর্ডে ধারণ করা হয় ও উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকাশিত করা হলো।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বর্তমান সরকার তার শাসনামলের তিন বছর অতিবাহিত করেছে ইতিমধ্যে। রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে ও অগ্রগতিতে সরকারের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে?
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ। প্রশ্নটি সময়োপযোগি ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের তিন বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। চলতি সংসদের তিন বছর এবং বিগত সরকারের পাঁচ বছর মোট আট বছর বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র সরকারের প্রধানদের প্রশংসা লাভ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসেও অতীতে রাষ্ট্রের এতটা সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি লাভ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। হয়তো বিগত সরকারগুলোর সেই প্রচেষ্টা ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন এজন্যই যে তিনি এদেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি ও মজবুত করতে চেয়েছিলেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নির্মাণে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মনোনিবেশ করেছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর এই অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করা হয়েছিলো স্বপরিবারে তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর ২১ বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকেছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। রাজাকার আর আল বদরবাহিনীর প্রধানরা মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিল এসময়। সেই প্রেক্ষাপট এখন নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে রয়েছে একটি প্রবাদ সকলকেই মনে রাখতে হবে। মার থেকে মাসির দরদ কখনো বেশী হতে পারে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বই বাংলাদেশ সফলতা এনে দিতে পারে সেটাই ইতিহাসের সত্য ও চরম বাস্তবতা। বিগত তিন বছরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিশ্বদরবারে আরও শক্তিশালি হয়েছে। সরকারের অভিজ্ঞতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। লুটতরাজ, সহিংসতা আওয়ামী লীগের লক্ষ্য নয়। দেশের মানুষের কল্যাণ ও দারিদ্র মুক্তির রাজনীতিই আওয়ামী লীগের রক্ত প্রবাহে পঞ্চাশের দশক থেকে প্রবাহিত। বঙ্গবন্ধু আদর্শের রাজনীতির করে আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করতে চিরকাল প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি তার নিজ পরিবারের খোঁজ খবর নিতেও ভুলে গিয়েছিলেন। মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে যেয়ে দীর্ঘ সময় তাকে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে জীবন কাটাতে হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ, একাত্তরে শহীদদের ঋণ ও বাংলাদেশের মুক্তিকামি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করে যাচ্ছেন। ইতিহাসে এই অধ্যায় ইতিবাচক হিসেবে চিরকাল অম্লান থাকবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ নতুন নির্বাচিত নির্বাচন কমিশনার জনাব নুরুল হুদাকে সকলেই সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন একজন সৎ মানুষ হিসেবে। টেকসই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে নব নির্বাচিত সিআইসির সঙ্গে আপনার দলের সম্পর্ককে কিভাবে নিরূপন করছেন?
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ মহামান্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সাংবিধানিক শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশনারকে বাংলাদেশ নিয়োগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগও জনাব নুরুল হুদাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। নতুন নির্বাচন কমিশনারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। স্বাগত জানাই নতুন সিআইসিকে। একটি রাষ্ট্র সাংবিধানিক রীতিনীতির বাইরে চলে গেলে সেই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করা সম্ভব হয় না। গণতন্ত্রকে টেকসই ও মজবুত করার জন্য রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতিতে এই উদ্যোগ ব্যাপক কল্যাণ বয়ে আনবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিশ্ব ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে বিবেচনা করবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। স্বাধীনতার মাসে আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ কি বাণী আপনি প্রকাশ করতে চান?
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে, জাতির কল্যাণে, দেশের ভাগ্যহত মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা অবদান রাখার জন্য শ্রেণি-পেশা-ধর্মের সকল মানুষ এগিয়ে আসব। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষনহীন সমাজ গড়তে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকব।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জয়যাত্রা কতটা সমুন্নত হয়েছে?
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান বৃদ্ধিতেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জয়যাত্রার শক্তি বৃদ্ধি হয় না। স্বাধীনতার জয়যাত্রা একটি ব্যাপক বিষয়। একথাও ঠিক মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকেছে, অপমান সহ্য করেছে। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল না তখনই তারা অবহেলিত ছিল, অপমানিত হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে নানাভাবে সম্মানিত করেছেন। গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান সরকার বসতভিটা নির্মাণ করে দিয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। প্রাপ্তির জন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তারপরও সরকার যখন আজ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে পেরেছে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি রাষ্ট্রপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি কি আগামী নির্বাচনে একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হবে?
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ কোন সভ্য দেশেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর নেই। এটা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় হাস্যকর একটি রাজনৈতিক ইস্যু। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সারা বিশ্বে সাংবিধানিক শর্তানুযায়ী নির্বাচন হয়। বাংলাদেশেও তাই হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার দেশবাসী ও এলাকাবাসীকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।



এই প্রতিবেদন টি 771 বার পঠিত.