বর্তমান সরকার সফলতার সাথেই টিকে আছে :হাবিবুর রহমান মোল্লা, এম.পি

বর্তমান সরকার সফলতার সাথেই টিকে আছে
হাবিবুর রহমান মোল্লা, এম.পি
ঢাকা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের শহর। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে গড়ে ওঠা ঢাকা বিস্তার লাভ করতে করতে টঙ্গির তুরাগ নদীর পাড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। বেড়েছে শহরের সীমানা ও জনসংখ্যা। বর্তমান সরকার ঢাকার মেট্রোরেল করছে। চালু হয়েছে একাধিক ফ্লাইওভার। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রভূমি ঢাকা। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর দখলদার বাহিনীর সাথে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায়। ঢাকার সমাজব্যবস্থায় আবহকাল থেকেই বড় বড় রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের একেকটি রাজনৈতিক ইতিহাস সৃষ্টি ও পরিবর্তনে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৫ সালে যখন বিএনপি অবরোধ কর্মসূচি ডেকে সারা দেশ অচল করে দিয়েছিল তখনও ঢাকা প্রতিদিন অবমুক্ত থেকেছে। জনগণ তার চূড়ান্ত মেন্ডেট জানিয়েছিল ঢাকা থেকেই। সেই সরকার তার তিন বছর মেয়াদ অতিক্রম করেছে। সারা দেশে সরকার তার নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে দেয়া ওয়াদা পূরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহান সংসদে সম্মানিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী ঢাকা ৫ আসনের বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য জনাব হাবিবুর রহমান মোল্লার সাথে সরকারের বিগত ৩ বছরের রাজনৈতিক অঙ্গিকার পূরণের প্রতিশ্রুতি বিষয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ এই সাক্ষাৎকারটি রেকর্ড থেকে প্রকাশিত করা হলো।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বর্তমান সরকারের শাসনামলের মেয়াদ পূর্ণ করেছে তিন বছর। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনে সরকারের ভূমিকা আপনি কিভাবে বিশ্লেষণ করছেন?
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ তিন বছর পূর্বে ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছিল সেখানে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় এদেশের অনেকেই ভেবেছিলেন সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছিল সেই সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হবে। সেই ধারণাটি সঠিক ছিল না। অন্যদিকে ২০১৪ সালে নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র বিপর্যস্ত হতো। সৃষ্টি হতো সাংবিধানিক শূন্যতা। এজন্যই নির্বাচনটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পার্টি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল এবং অন্যদিকে জগণ সরকারকে গ্রহণ করে নিয়েছিল। নির্বাচনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের কল্যাণে ও অগ্রগতিতে যেভাবে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তিনি যেমন আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তেমনি দেশকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত হবার পথে। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হবে। মূল বিষয় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়াটি চলমান। বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি একটি বড় সাফল্য। রাজধানী ঢাকায় বেশ কিছু উড়াল সেতু ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরির ট্রাফিক জ্যাম সংকট নিরসনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে। ধীরে ধীরে ঢাকার সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি ফিরে এসেছে। সামাজিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবার ফলে নাগরিক সমাজ শক্তিশালি হয়েছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সম্পর্কটি কেমন হবে?
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ আওয়ামী লীগ ইতিপূর্বে প্রায় সকল নির্বাচন কমিশনের সাথেই সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করতে পেরেছিল। নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণে আওয়ামী লীগ সচেতনতা রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু বিএনপির ইতিহাস ঠিক এর বিপরীত। যদি তাদের পছন্দের কমিশনও গঠিত হতো তবুও তারা সমালোচনাই করত। এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তিহীন। নব নির্বাচিত নির্বাচন কমিশনটি সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়েছে। প্রধান বিষয় হচ্্েযছ এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আগামীতে কাজ করবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জনাব নুরুল হুদা দায়িত্বগ্রহণের মাত্র দুদিন পরই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন। তার বক্তব্য নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে রেখেছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস। স্বাধীনতার মাসে বাঙ্গালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মূলত কি বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে পারে?
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ সুখিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এটা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূল স্বপ্ন। বিএনপি সবসময় বিরোরীধা করবেই। তারাতো কোন কিছুই সমর্থন করবে না। তাদের বিরোধীতায় ইনশাল্লাহ কিছু আসা যায় না। জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই সুতোয় গাঁথা পুষ্পমাল্য।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ টেকসই গণতন্ত্র রক্ষার্থে আপনাদের ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করবেন কি?
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি। নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করি গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বজায় রেখে। রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্রকেই আমরা প্রাধান্য দিব। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বাংলাদেশে অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের কোন বার্তা কি আপনাদের কাছে রয়েছে যা কিনা সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করতে সক্ষম?
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা এনে। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধনই আমাদের লক্ষ্য। ষড়যন্ত্র কোনদিন আমাদের দূর্বল করতে পারবে না।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
হাবিবুর রহমান মোল্লাঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 778 বার পঠিত.