বাংলাদেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে

বাংলাদেশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে
মুহিবুর রহমান মানিক,এম.পি
একটি অনুন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে ধীরে ধীরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র ও ক্ষুদা বাংলাদেশের প্রধান শত্রু থাকা সত্ত্ওে বারবার এদেশের জনগণ আশাবাদি থেকেছে দেশের উন্œয়নে। জনগণের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও তা পূরণ হয়নি বিগত সরকারগুলোর শাসনামলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তার মেয়াদের তিন বছর অতিবাহিত করলে একটি প্রশ্ন আমাদের সামনে চলে এসেছে। কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যত। ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারছে। নাকি বাংলাদেশ ফিরে যাবে সহিংসতার দিকে। মহান জাতীয় সংসদে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী মুখোমুখি হয়েছিলেন সুনামগঞ্জের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের। তাদের দুজনের একান্ত আলাপচারিতা রেকর্ড থেকে পাঠকবৃন্দের জন্য উপস্থাপন করা হলো রেডটাইমসের বরাত দিয়ে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বর্তমান সরকারের তৃতীয় বছর অতিবাহিত হয়েছে ধারাবাহিক বহুমুখি অগ্রগতির মধ্য দিয়ে। এই অধ্যায়কে কিভাবে মূল্যায়ন করা যায়?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ছিল অবধারিত একটি অধ্যায়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হতো। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যেতো না। মাননীয প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের মেযাদ তিন বছর পূর্ণ করেছে। রাষ্ট্রের গণতন্ত্র বিকাশের মধ্য দিয়েও সংবিধানের শর্ত পূরণের যে অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সেটা ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে বিবেচিত থাকবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংবিধানে বারবার সংশোধনী আনা হয়েছিল সংবিধান পরিবর্তনের পেছনে মূল উদ্দেশ্যটি ছিল ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার বিষয়টি। ক্ষমতায় এসেই এজন্য সংবিধান সংশোধন করেছিল সামরিক শাসকরা। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বয়কট ও দেশে সহিংসতার পেছনেও অশুভ শক্তির একটি পরিকল্পনা ছিল অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই রাষ্ট্র অনাকাক্সিক্ষত অশুভ শক্তির হাত হতে রক্ষা পায়। নির্বাচনে বেশ ক’টি দল অংশগ্রহণ করেছে এবং কয়েকটি দল নির্বাচন বয়কট করেছে। মূলত এই নির্বাচনের পর বিগত তিন বছর বাংলাদেশে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। মেয়াদ পরপূর্ণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশও পূর্বের চেয়ে আরও বেশী স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করবে। বাংলাদেশ বর্তমানে নি¤œ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র। আগামীতে জিডিপি আরও বৃদ্ধি পাবে। বৈদেশিক অর্থ আয় আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে রপ্তানিমুখি পণ্যের চাহিদা বৈদেশিক বাজারে আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভবপর হবে। সুনামগঞ্জ জেলা পল্লি বিদ্যুতের আওতার বাইরে ছিল। ১৯৭৮ সালে পল্লি বিদ্যুতের যাত্রা শুরু হলেও সুনামগঞ্জ জেলায় পল্লি বিদ্যুৎ পৌঁছেছিল ১৯৯৭-৯৮ সালে। সারা বাংলাদেশে সুনামগঞ্জ জেলা ছিল ৫৪ নম্বরে যেখানে পল্লি বিদ্যুৎ পৌঁছেছিল। ২০১৮ সালের মধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ও সংযোগ পেয়েছে। সারা দেশেই নানামুখি উন্নয়ন বাংলাদেশের মানচিত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সম্ভব হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। আজ বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই পৌঁছতে সক্ষম হচ্ছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল হক চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলার আসামী মুফতি হান্নানের ফাঁসির রায় পূনঃবহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। রায়টি বাস্তবায়িত হবে কি?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল হক চৌধুরী বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সুনামগঞ্জের সন্তান। তাঁর জন্ম সুনামগঞ্জে। পরবর্তীতে তাঁর পিতা-মাতার সাথে তিনি লন্ডনে বসবাস করেন এবং ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরে একজন ব্যক্তিত্ববান কূটনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি যখন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সেসময় ৩৬০ আউলিয়ার জেলা সিলেটের হযরত শাহজালাল (রাঃ) এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। সেদিনটি ছিল শুক্রবার। জুম্মার নামাজের পর তাঁর উপর গ্রেনেড হামলা চালানো হলো। হামলায় তিনি বেঁচে গেলেও তাঁর পাশে থাকা অনেকেই প্রাণ হারান। অনেকে এখনো মৃত্যুর সঙ্গে অবিরত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।
সেই সরকারের শাসনামলে ৬৩ জেলায় একই সময়ে সিরিজ বোমা হামলাও হয়েছিল। বিএনপি ও চার দলীয় জোট সরকার এসব ঘটনায় তাদের সম্পৃক্তি অস্বীকার করেছে। সেই সরকার উত্তরাঞ্চলের বাংলা ভাইকে মিডিয়ার সৃষ্টি বলেছিল। শায়েখ আব্দুর রহমানকে তারা মিডিয়ার সৃষ্টি বলেছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে শায়েখ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাই গ্রেফতার হয়। তাদের বিচার হয়। তাদের ফাঁসিও হয়। মুফতি হান্নানও গ্রেফতার হয়েছে। তার বিচার হয়েছে। ফাঁসিও হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শাসনামল থেকে বাংলাদেশে ধাপে ধাপে সৃষ্ট জঙ্গিবাদ এদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনাকে কতটা বাধাগ্রস্থ করেছে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বারবার এদেশে বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবতন করে কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযম। নিজামি-মুজাহিদ-শাহ আজিজ-সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী-মাওলানা মান্নান জাতীয় রাজনীতিতে পূনর্বাবিসত হলো তাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। সেসময় পূনরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথ চলা শুরু করে। আবারও ২০০১ সালের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের কাছে বাংলাদেশ হোচট খায়। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে পূনরায় ক্ষমতায় এলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন করে উদ্বুদ্ধ হয়। ঐক্যবদ্ধ হয় মুক্তির জয় গানে। ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ অঙ্গীকারবদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করত একসময়। অথচ এখন তারা শুধু সম্মানিত নন তারা এখন ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ হয়েছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ সংবিধান, নির্বাচন ও ধারাবাহিক উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে সহিংস রাজনীতির সুযোগ রয়েছে কি?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার কোন স্থান নেই। সহিংসতা, জঙ্গিবাদ গণতন্ত্রের পরিপন্থি। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সন্ত্রাসের কোন স্থান হতে পারে না।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ মাননীয় সংসদ সদস্য।
মুহিবুর রহমান মানিকঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 728 বার পঠিত.