উপমহাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব?

উপমহাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব?

শিরিণ ওসমান

ভারতীয় উপমহাদেশ নিদারুন দারিদ্র সীমার মাঝে কাল যাপন করে মোট জনসাধারণের অর্ধেকের বেশী হবে। কিন্তু দেশগুলিতে ধনীর সংখ্যা এবং তাদের আয় এত আকাশচুম্বী যে সাধারন জনগন ধারনাও করতে পারবে না। ভারতে মধ্যবিত্য যারা কর্পোরেট জগতের বাসিন্দা তাদের আয় এবং লাক্সারী জীবন যাপন সাধারন মানুষের ধরা ছোয়ার বাইরে। এদের সংখ্যা বিশাল। পুঁজিপতিরা তাদের মেধা ও কর্মক্ষমতার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

আম্বানি, টাটা বিড়লার নাম সবাই জানে। আরো অনেক ধনীক শ্রেনী ভারতে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনীতিবিদরা এই শ্রেনীর স্বার্থে বিন্দু মাত্র প্রভাব খাটাতে পারে কিনা সন্দেহ আছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে আজো বৃটিশ কলোনিয়াল সিস্টেম বজায় আছে। এই আমলারাও ধনি পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষা করে চলে। রাজনীতিবিদরা এই দুই গ্রুপকে চটিয়ে কোন বিপ্লব সাধন করতে পারে বলে মনে হয় না। পাকিস্তান এবং ভারত দুটি দেশ আনবিক শক্তি সম্পন্ন। দেশ দুটি আবার বিশাল আর্মি লালন পালন করে। যতনা দেখায় যুদ্ধের জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছে, তার থেকে তারা বেশী গরীব প্রদেশগুলির ক্ষোব এবং ক্ষোবের প্রতিক্রিয়া কে সাইজ করতে সদা ব্যস্ত। দেশের সিংহ ভাগ অর্থ আর্মির পেছনে ব্যয় হয়।
সরকার চাইলও দারিদ্রকে একটা সহনীয় মাত্রায় আনতে পারবে বলে মনে হয় না।

কারন ধনীক শ্রেনী তথা কর্পোরেট সোসাইটি চায় না ধনি গরিবের বিভেদ কাটুক। কুসংস্কারের অবসান হোক। এই কুসংস্কার তাদের জন্য আশির্বাদ। পুজা পার্বনে তারা বড় বড় চাঁদা দেয়। এবং পুজা পার্বন নিয়ে থাকুক এটাই তারা চায়।
মুসলমান গোষ্ঠী মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে পড়ে থাকুক আর সুচি কাজ এবং দর্জিগিরি করে কালাতিপাত করুক এতে তারা সুখী।

৭০ বৎসর ধরে ভারতে গনতন্ত্র চলছে। গরীব জনতার ভাগ্য পরিবর্তন আর হয় না। কারন ঔপনোবেশিক সিস্টেম আজো বর্তমান। কোন স্থানে ফিউডাল সিস্টেম এখনো জারি আছে।
বাংলাদেশ তার থেকে ব্যতিক্রম নয়। কমবেশী একি সিস্টেমে দেশগুলো চলছে। আর পাকিস্তান বারবার সামরিক শাসনে দেশটির সংকট আরো বেশী এবং বিভিন্ন মৌলবাদী টেররিরিস্ট দ্বারা আক্রান্তl চ্যালেন্জ মোকাবিলায় পাকিস্তান নামক দেশটি আজ শত বাধার সম্মুখীন।

অনেকে ভাবতে পারেন আমি তো এমন বিজ্ঞ কেও নই। রাজা উজির নিয়ে এত কথা কেন বলছি।আমি একজন সাধারন মানুষ। কিন্তু চোখে দেখি কানে শুনি,কাজ করে খাই। মানুষ হিসাবে সাধারন বুদ্ধিটুকুর সদ্বব্যবহার করার অধিকার আছে।

রাস্ট্র যদি মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় মানুষের মৌলিক চাহিদা পুর্ন করতে ৭০ বছরেও সম্ভব করতে পারে না। দুই বেলা খাবার এবং একটুখানি আশ্রয় পেতে দিনরাত খেটে মরে তবে দেশ দেশ করে কি হবে?

সম্পদের সুসম বন্টন করতে যদি রাস্ট্র না পারে কোটি কোটি জনতা প্রতিরোজ নাখেয়ে জীবন কাটায়, তবে বৃহৎ শক্তি হয়েও লাভ নেই।

আন্ডারগ্রাউন্ড সিস্টেম যদি চালিকা শক্তি হয়, কর্পোরেট ধনিক চক্র যদি আমলাদের এবং রাজনীতিবিদদের কন্ট্রোল করে তবে মানুষে সত্যিকারের স্বাধীন জীবন নিরাপদ জীবন খেয়ে পড়ে শান্তিতে ঘর সংসার করে বেঁচে থাকার অধিকার কোনদিন পাবে না।
নৈতিকতা শব্দটি নিছক শব্দ মাত্র। যা কোনদিন সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ে কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না।



এই প্রতিবেদন টি 692 বার পঠিত.