এখন ডিজিটাল মাধ্যামে বই পড়ার অনেক সুযোগ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ভাষার মাসের প্রত্যয় হচ্ছে, কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ”।

বুধবার বিকালে বাংলা একাডেমির মূল চত্বরে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাহিত্যই বাংলাদেশের বিপথগামী ছেলে-মেয়ের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার পরেও বইয়ের পাতা উল্টে বই পড়ার মজাই আলাদা। এ কারণেই আমি চাই প্রতিবছর আরো নতুন নতুন বই ছাপ হোক এবং বর্তমান প্রজন্মের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠুক।

বাঙালির কোনো অর্জনই রক্তবিহীন হয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, মায়ের ভাষাও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। রক্ত দিয়েই বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা একাডেমি আমাদের ভাষাকে উন্নত করতে অনেক সুযোগ করে দিচ্ছে। অমর একুশে গ্রন্থ মেলা তার যাত্রা শুরু তিন দশক পেরিয়ে পৃথিবী ব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি দৃষ্টি প্রতিবন্দী ভাই-বোনদের জন্য একটি ব্রেইল প্রকাশনা করেছে। এই উদ্যোগ দৃষ্টি প্রতিবন্দীদের মনে আলো যোগাবে। খুব শিগগির ‘বিষাদ সিন্ধু’র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমার সরকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা সরকার গঠন করতে না পারায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমায় এসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা আবার সেই কাজ শুরু করি। এই ইনস্টিটিউট এখন ইউনেস্কোর ক্যাটাগড়ি-২ মর্যাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির আয়োজনে একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে।

একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর একাডেমি চত্বরে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি ইউনিটসহ মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।



এই প্রতিবেদন টি 784 বার পঠিত.