অগ্নিকাণ্ড চুলা খোলা রাখায় ঘরে জমে থাকা গ‌্যাসের কারণে: পুলিশ কর্মকর্তা

পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন চট্টগ্রামে বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড চুলা খোলা রাখায় ঘরে জমে থাকা গ‌্যাসের কারণে হয়েছিল।

শুক্রবার ভোরে বিকট বিস্ফোরণের পর বন্দর নগরীর বাকলিয়ার দেওয়ান বাজার এলাকার ছয় তলা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন ধরে যায়।

অগ্নি নির্বাপক বাহিনী গিয়ে আগুন নিভিয়ে দগ্ধ তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তার মধ‌্যে দাদি ছমুদা খাতুন (৭০) ও নাতনি ইফতির (১৭) অবস্থা আশঙ্কাজন। নাতি আরিফও (২৬) চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনে এবং বিস্ফোরণের আলামত দেখে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সকাল থেকে সেখানে তল্লাশি শুরু করে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসাইন বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিআইডির ক্রাইম সিন টিম, ডিবির বোম্ব ডিসপোজল ইউনিট তল্লাশি করে বাসা থেকে কোনো ধরনের বিস্ফোরকের আলামত পায়নি।

“আমরা নিশ্চিত হয়েছি ঘরের ভেতর জমে থাকা গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।”

.

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটের জানালার কাচ ও দরজা ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণে ঘরটিরও বিভিন্ন দেয়ালও ধসে পড়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাইন বলেন, “ওই ঘরের গ্যাসের চুলার চাবি খোলা ছিল। সে কারণে ঘরে গ্যাস জমে যায়। দগ্ধ মেয়েটি ভোরে চুলা জ্বালানোর জন্য ম্যাচ জ্বালালে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়।”

আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের চন্দনপুরা স্টেশনের কর্মকর্তা রবিউল আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বাসাটিতে কোনো গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল না, বৈদ্যুতিক কোনো ত্রুটিও পাওয়া যায়নি।

আগুন লাগার আগে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের বর্ণনা দেন স্থানীয়রা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রবিউল বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশে পাশের ভবনের জানালার কাচও ভেঙে পড়ে। এরপর বাসাটিতে আগুন ধরে যায়।

‘মাদ্রাসা আরবিয়া খাইরিয়া এতিমখানা’ নামে ওই ভবন আবাসিক ভবনে হিসেবে ব‌্যবহৃত হয়। ভবনটির মালিক আনোয়ারার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালেহ। এই ভবনের ভাড়ার টাকায় আনোয়ারার ওই এতিমখানা ও মাদ্রাসা চলে বলে জানান তার ছেলে মোহাম্মদ সোহেল সালেহ। তিনি মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ।



এই প্রতিবেদন টি 575 বার পঠিত.