অবহেলিত রূপের রাণী খাগড়াছড়ি


শেষ কবে সুর্য ওঠা দেখেছিলাম ঠিক মনে করতে পারছিনা।ব্যস্ত শহরে কাজ শেষ করতে করতেই কখন যে রাত ভোর হয়ে যায় ঠিক টের পাই না। তাই এবার ভেবেই রেখেছিলাম ঈদের পর যে দুটো দিন ছুটি আছে সেটা কাটিয়ে দেবো বন-পাহাড়ে। তবে দূর্গম কোন অরণ্যে হারাবার পরিকল্পনা করিনি, পছন্দমতো চলে এসেছি রূপের রাণী হিসেবে খ্যাত খাগড়াছড়িতে।

ঠিক রাত এগারোটা বাজতেই সেন্টমর্টিন বাস ছেড়েছিল রাজধানী আরামবাগ থেকে। তখন থেকেই আরামে চোখ বুজে আসছিল, ইশ্, রাস্তাটা যেন পুরো কার্পেট দিয়ে মোড়ানো! ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ে যে ফোর-লেন করা হয়েছে তা জানতামই না। কাঁচপুর ব্রীজের সেই অস্বাভাবিক জঞ্জাল নেই। মাত্র পাঁচ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে ২৬৬ কিলোমিটার পথ কীভাবে যে চলে এসেছি টেরই পেলাম না। সারা রাত মাথার পাশে পর্দা ফেলানো ছিল। আচমকা মনে হলো বাস কেমন করে যেন একবার নীচের দিকে নামছে আবার কিছু সময় পরে আবার উপর দিকে উঠছে। কি আশ্চর্য! আমরা কি পাহাড়ের ওপর নাকি! এবার সোজা হয়ে বসলাম-ভোর চারটে তখন।

বাম হাত দিয়ে পর্দাটা সরাতেই দেখলাম আকাশ ক্রমশ নীলচে রঙ ধারণ করছে। কালো অন্ধকারের মিচমিচে রঙ নিমিষেই সরে গিয়ে স্বচ্ছ সবুজ গাছগুলো যেন আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে। আষাঢ় মাসের শেষ দিক, খুব বৃষ্টি হয়েছে রাতে। পাশেই হাঁটতে থাকা ছোট ছোট পাহাড়গুলো কেমন নুয়ে পড়েছে, নীচের দিকে চোখ যেতেই বুঝতে পারলাম সমতল থেকে অনেকটাই উপরে চলে এসেছি। চেঙ্গী ও মাইনী উপত্যকার বিস্তীর্ণ সমতল পেরিয়ে খাগড়াছড়ি শহরের ভেতর প্রবেশ করছি এখন।
ভোর পাঁচটা। আকাশ এখন অনেকখানি পরিষ্কার। সেন্টমার্টিন আমাদের নামিয়ে দিল পর্যটন মোটেলের সামনে, এখান থেকে মূল শহর আরও দশ মিনিটের পথ। যারা ভূতের সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত তারা বিষয়টি ভালো বুঝতে পারবেন। দূরে একটি বাংলো বাড়ি, পীচ ঢালা রাস্তার উপর আমাদের দুটো মানুষকে একটি গাড়ি নামিয়ে দিয়ে আলো আঁধারিতে ফের হারিয়ে গেল। অচেনা শহর, চারপাশে আর কোন বাড়ি-ঘর নেই, কোন রিক্সা নেই, কোথাও কোন শব্দ অব্দি নেই। অনুভব করার চেষ্টা করুন কেমন লাগছে। আমি নিজের লাগেজে হাত রেখে বন্ধুকে অনুসরণ করলাম। মোটেলের পথ পাহাড়ের উপর, তাই টেনে টেনেই ব্যাগ ওঠাতে হলো। প্রধান ফটকে কোন দারোয়ান নেই, দরজা খোলা। হঠাৎ একটি কুকুর কোথা থেকে যেন লাফ দিয়ে সামনে এসে পড়লো। যতোটা পারি সরে গিয়ে একদম মোটেলের রিসেপশনের সামনে আমি চলে গেলাম।

রাত ছাড়া এই পথে আর কোন এসি বাস নেই, একথা সেন্টমর্টিন আমাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। যারা আরাম করে এখানে আসতে চান তারা ভোরেই এসে পৌঁছান। কিন্তু সেকি! জনমানবহীন এই ছোট্ট শহরে থাকবো কিভাবে? মাথার উপর একটি দেওয়াল ফ্যান ঘুরছে খুব দুর্বলভাবে, দেখেই মনে হচ্ছে, যে কোন সময়ে বন্ধ হয়ে যাবে। হঠাৎ একজন কম বয়সী ছেলে ঘুম-ঘুম চোখে এগিয়ে এলো। আমি তাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলাম- আপনাদের গেইটে কোন দারোয়ান লাগে না? সে হেসে উত্তর দিল- নাহ্, তেমন কেউ তো সকালে আসেন না। আর অনেক পর্যটক ঘুরতে বের হয়ে গেছেন, তাই দরজা খোলাই থাকে। খুব আগ্রহের সাথে প্রশ্ন করলাম- এতো সকালেই ঘুরতে গেছেন ওনারা? সে মনে হয় খুব একটা আগ্রহ পেল না-হুম, এখানে তো ঝর্ণা-পাহাড় অনেক কিছু আছে দেখার, তাই সবাই ভোর হতেই বেরিয়ে যান। আর সন্ধ্যার পর কোন বিদ্যুৎ থাকেনা, তাই আলো থাকতেই ফিরে আসেন সবাই। এবার আমার অবাক হবার পালা- পাশেই কাপ্তাই, তাহলে বিদ্যুৎ থাকবে না কেন? এবার যেন সে হারানো আগ্রহ ফিরে পেলো- এই যে ফ্যানটা দেখছেন, তাও কিছুক্ষণ পর বন্ধ হয়ে যাবে। চট্রগ্রাম থেকে বিদ্যুতের লাইন আসবে তারপর…
আমার তখন আশঙ্কার শুরু-তাহলে এসি রুম নাই এখানে?
-এসি আছে, কিন্তু চলার কোন ব্যবস্থা নেই।
-বলেন কি? এই জায়গায় হাসপাতাল নেই, অসুস্থ মানুষদের নিয়ে ডাক্তার কী করে?
-আছে। জেনারেটর বা সৌর-বিদ্যুৎ দিয়ে চলে।

আমি আর প্রশ্ন করতে পারছিনা। সারাদিন নাহয় প্রকৃতি দেখবো, কিন্তু সন্ধ্যার পর ঘরে ফিরে কি লুডু খেলবো কি না তাই ভাবতে ভাবতে যার যার রুমে চলে গেলাম। পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলে থাকার অভ্যেস আমার নতুন নয়। রুমে একটা টিভি আছে। কিন্তু ভয়েও হাত দিলাম না, কারণ সকাল আটটা বাজতেই বিদ্যুৎ নাই হয়ে গেল। আমি দ্রুত নাস্তা ব্যবস্থা করতে বললাম। বের হতে হবে, এই দূর্গম পাহাড় ঘুরে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে না আসতে পারলে বিপদ।

আমরা বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়ে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিলাম। কিন্তু যখন তিন চাকার সিএনজি নিয়ে আলুটিলার পথ ধরেছি তখন আমাদের মাথায় দ্রুত ফেরার কথা আর একবারও আসেনি। পাহাড়ের গাঁ ছুঁয়ে যে রাস্তাটা গেছে তা কোনোভাবেই বর্ণনা করার মতো না, মনে হচ্ছে, সবুজ অরণ্যের বুক চিরে ভেসে চলেছি এক অজানার উদ্দেশ্যে। আকাশ ছেয়ে আছে মেঘে, আর কিছু পর পর উপজাতিদের বাড়ি আর ছোট ছোট দোকান। জেলা শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে আলুটিলা। যেতে সময় লাগলো প্রায় চল্লিশ মিনিট। ১০ টাকার টিকিট কেটে ইটের রাস্তা মাড়িয়ে চলে গেলাম রহস্যময় গুহায়। আলুটিলা আলুর মতোন দেখতে কিনা জানি না, তবে টিলার ওপর থেকে শহরের পেছনের অনেকখানি জায়গা এক সাথে নজরে পড়ে। আর বর্ষা বলেই মেঘেদের এমন আনাগোনা স্পষ্ট। কতোভাবে যে ছবি নিলাম তার ইয়ত্তা নেই, মুহূর্তেই আকাশ কেঁপে শুরু হলো বৃষ্টি। কেউ কেউ মাথা গুজলো টিলার মাথার ছাউনিতে, আমাদের সিএনজিতেই অবস্থান করতে বলে দিল ড্রাইভার সুমন। আমি সুমনকে জিজ্ঞেস করলাম- এই যে পাহাড়ি রাস্তায় সিএনজি নিয়ে ওঠা-নামা করো, ভয় করে না? সে খুব করে হেসে দিলো- জন্মই হয়েছে পাহাড়ে, ভয় করবে কেন? আর এটা তো তেলে চলে। আমার অবাক প্রশ্ন- তুমি সাজেকের মতোন উঁচু পাহাড়েও কি এই সিএনজি নিয়ে যাও? সে হাসিমুখে মাথা নাড়লো।

খাগড়াছড়ির রাস্তাগুলো খুব খাড়া নয়, একটা পাহাড় থেকে আর একটা পাহাড়ে যেতে খুব যে বেগ পেতে হয় তা নয়। তবে বৃষ্টির সময় তো খুব রিস্ক হয়েই যায়, আর যেহেতু এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেই শীতে যখন বেলা আগেভাগে ডোবে, এরা যে কিভাবে চলাচল করে তাই ভাবছিলাম। বৃষ্টি থামতেই এডভেঞ্চার পাগল জনতা নেমে গেলাম গুহার রহস্য উদ্ধারে। মোটেও কৃত্রিম গুহা নয়, বিধাতার এক অমূল্য দান এই পার্বত্য অঞ্চল। প্রায় হাঁটু জল পানি গুহার ভেতর, দু’হাতে দশ টাকার দুটো মশাল ধরে গুহায় প্রবেশ করতে হয় মাথা নীচু করে। ঝর্ণা থেকে আগত পানি আর ছোট ছোট পাথর পেরিয়ে এই রহস্য যাত্রা চলে প্রায় পনের মিনিট। এই সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। নামার সময় যেমন সিঁড়ি মাড়িয়ে নামতে হয়, ওঠার সময় ততোটাই কষ্টের। মোট ২৬৬টা সিঁড়ি। তবে উপরে ওঠার পর যে বিস্ময় ভরা আনন্দ আপনার চোখে লেগে থাকবে তার কাছে এই কষ্ট খুব সামান্যই।

যে পথ দিয়ে আলুটিলা গেলাম সেই পথেই কিছু দূর গেলে দেবতার পুকুর। খাগড়াছড়ি – মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেঁষে মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১শ’ ফুট উপরে পাঁচ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই দেবতার পুকুর। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি মনে করে- তাদের পানির চাহিদা পুরণের জন্যই জলদেবতা সারা বছর তাদের এভাবে পানি দিয়ে আসছেন। চৈত্র সংক্রান্তিতে পূণ্য লাভের আশায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ দেবতার পুকুর পরিদর্শন করেন। স্বচ্ছ কাঁচের মতোন পানি দেখে মনে হচ্ছিল একটু ডুব দিয়ে নিই। কিন্তু ড্রাইভার সুমন মনে করিয়ে দিল রিসাং ঝর্না আছে সামনে। ভাবলাম গা ভেজানোর সুপ্ত ইচ্ছেটা তাহলে ওখানেই পূরণ করা যাবে।

কিন্তু আমরা যখন একদম ঝর্ণার মূল ফটকে এলাম তখন পুলিশ ভাইরা সিএনজি থেকে আমাদের নামিয়ে দিল। কারণ এ এক চড়াই-উৎড়াইয়ের রাস্তা, কোনোভাবেই সিএনজি যাবে না। লাগবে পাক্কা মোটরবাইক ড্রাইভার। জনপ্রতি তারা দু’শো টাকা করে নিচ্ছে, ড্রাইভারসহ তিন জনের যাত্রা প্রায় বিশ মিনিটের। রিছাং শব্দটি এসেছে মার্মা থেকে। রিং অর্থ পানি আর ছাং অর্থ ধারা- বেশ লাগছে এই অদ্ভূত পথ চলা। এক পাশে গিরি-খাদ আর অন্য পাশে ছোট ছোট পাহাড়, এ যেন রহস্য উপন্যাসের ভীতিময় পথ চলা। যারা খুব এডভেঞ্চার প্রিয় তারা এই ভ্রমণ মিস করবেন না, কারণ বাইক আপনাকে যেখানে নামিয়ে দেবে সেখান থেকে আরও দুই কিলোমিটার নীচু রাস্তায় পায়ে হেঁটে যেতে হবে ঝর্ণার পাদদেশে। এখানেই শেষ নয়, উঁচু থেকে ঝরতে থাকা পানিতে আপনি সহজেই ট্রাভেল কোস্টারের আমেজে খেলতে পারবেন। কোন চেঞ্জ করার ব্যবস্থা নেই, তাই আর পানিতে নামার সাহস দেখালাম না। পর্যটন কর্পোরেশন এই জায়গায় হাত দিলে বেশ ভালোভাবেই অর্থ উপার্জন করতে পারতো, কিন্তু কেন এখানে তাদের নজর পরেনি তা জানি না। এই রিছাং ঝর্ণাতে সারা বছর পানি থাকে, শীতের সময় পানি প্রবাহ কম। কিন্তু পর্যটক হয় ওই সময়ে বেশি, কোন বিদ্যুৎ নেই রাস্তায় । ভাবলেই ভয়ে শিহরিত হয়ে যাচ্ছি, পাহাড়ি খাদ পাশেই, বাচ্চাদের নিয়ে কোনো পরিবার এভাবে এখানে আসা বিপজ্জনক। আমি দ্রুত ফেরার পথ ধরলাম। সূর্য ডুবে যাওয়ার আগেই ঝুলন্ত ব্রীজ দেখতে চাই।

একদিনে পুরো খাগড়াছড়ি দেখার পরিকল্পনা বোকামি করা জানি, কিন্তু হাতে একদিন রেখেছি সাজেকের জন্য। চটপটে সুমন আমাদের সোজা নিয়ে গেল তাড়েং, এক অসাধারণ দৃশ্য তখন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল সেখানে। পাহাড়ের উপর সেনাবাহিনীর ছোট একটা ক্যাম্প, তার পেছনেই তাড়েং। সেখানে দাঁড়ালে পুরো খাগড়াছড়ি এক সাথে দেখা যায়। আষাঢ় মাসের উতলা বাতাস বারবার ভিজিয়ে দিচ্ছিল বৃষ্টিতে। যেখানে মেঘ ঘন হচ্ছিল সেই জায়গায় বৃষ্টি, আর রোদ যেখানে উঁকি দিচ্ছিল সে জায়গাটা পরিষ্কার। আকাশ আর মেঘের এমন লুকোচুরি খেলা সত্যি আগে কখনও দেখিনি।

ফিরতি পথে চোখ আটকে গেল স্বর্ণমন্দিরে। সমতল থেকে উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট। ছোট একটা পাহাড়ের উপর বেশ আয়োজন করেই বসে আছেন বুদ্ধ। সময় গড়িয়ে যাওয়াতে যে জায়গা গুলোতে নামতে পারিনি সেগুলো হলো তৈদুছড়া ,মহালছড়ি হ্রদ,শতায়ুবর্ষী বটগাছ, পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ভগবান টিলা, দুই-টিলা ও তিন-টিলা, মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি, বন ভান্তের প্রথম সাধনাস্থল এবং রামগড় লেক ও চা বাগান । আশা করছি আপনারা অবশ্যই দু’দিন সময় নিয়ে খাগড়াছড়ি ঘুরতে যাবেন।
শহর মাড়িয়ে আমরা যখন ঝুলন্ত ব্রীজে পৌঁছাই তখন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। ব্রীজের ওপারে বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে, আর সাথে আছে রেস্টুরেন্ট। এক পাশে বাচ্চাদের জন্য পার্ক, আর মাঝখানে গোল করে দোতলা চত্বর, ওখানে দাঁড়িয়ে অনেক দৃশ্য চোখের নাগালে পাওয়া যায়। এই শহরের সব চাইতে আকর্ষণীয় হচ্ছে ‘পথ’। যেদিকে যাই কেবল পথগুলো কেমন যেন সরু আর বাঁকা হয়ে যায়। রাঙ্গামাটির রাস্তার মতোন অনেক ঘোরানো নয়, কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় উঠতে বেশ ভয় লাগে। কিন্তু জায়গাটাতে যাবার পর ভয়টা একদম থাকে না, কেটে যায়।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করে ভারি খাবারের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। মোটেলে ফিরতেই দেখি জেনারেটর চলছে। ম্যানেজার ভাইয়ের কাছে তথ্য নিয়ে জানলাম, এখানেও উপজাতীয়দের রেস্টুরেন্ট আছে শহরের ভেতরে।

গোসল সেরে অন্ধকার রাস্তার পথ ধরেই পৌঁছে গেলাম সিস্টেম রেস্টুরেন্টে। এটা পাংখাইয়া পাড়ায় অবস্থিত, কেউ যদি যেতে চান তবে নম্বর রাখতে পারেন-০৩৭১-৬২৬৩৪, মোবাইল নম্বর-০১৫৫৬-৭৭৩৪৯৩, ০১৮৬৩-৬০৭০৯০। মং সম্প্রদায়ের প্রচুর কারুকার্য চোখে পড়লো এই রেস্টুরেন্টে, মনে হলো কোন এক দূর পাহাড়ের উপর ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করতে এসেছি। ছোট ছোট বাতি আর বাঁশের তৈরি সামগ্রী নিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো রেস্তোরাঁ, ঢাকার অনেক অভিজাত রেস্তোরাঁকেও সৌন্দর্য্যে হারিয়ে দেবে এই সিস্টেম।

আমরা কেবল বললাম রাতে খাবো, তোমাদের নিজস্ব কিছু মেন্যু দাও। ওয়েটার আর তেমন কিছু জানতে চাইলো না, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবেশন করে ফেললো নানান রকমের খাবার। তার কিছু চিনলাম, আবার কিছু চিনলাম না। তাই অবাক হয়ে একটা করে নাম জানতে চাইলাম, ও যেসব খাবারের নাম বলে গেল তার অনেকগুলোই বাঁশ দিয়ে করা। এতকাল জানতাম, মানুষকে মুলি বাঁশ দেওয়া যায়। সেটা যে খাওয়াও যায় আজ প্রথম জানলাম। নামগুলো ঠিক এই ধরণের-
১।Bamboo Shoot
২।Bamboo Chicken
৩।yellow flower mash
৪।Chicken Mash
৫।Thankuni Mash
৬।Bamboo Fish
৭।Bamboo shoot mash
৮।Boil Bamboo
৯.Turrbarik Mash
আমি যারপরনাই অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম যখন দেখলাম বাঁশের ভেতর থেকে আমার থালায় মুরগীর টুকরো ঢালা হচ্ছে। এই চমৎকার রান্নার রাঁধুনীর নাম-আচিং মারমা। বয়সে অত্যস্ত তরুণ, কিন্তু তার মেধাবি আধুনিক চোখ যেন বলে দেয় সে আরও অনেক রকমের রান্না জানে। কিন্তু এক রাতে তো আর সিস্টেমের সব রকমের রান্নার সিস্টেম জানা হবে না। তাই মনে মনে ঠিক করে ফেললাম- বিদ্যুৎ থাক আর নাই বা থাক, এই রেস্তোরাঁর সব খাবার গলাধঃকরণের জন্য হলেও আরও এক বার আমাকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে।

পরদিন সকাল সকালে রওনা দিলাম সাজেকের উদ্দেশ্যে, ওখান থেকেই ফিরে যাবো ঢাকায়। কিন্তু মনটা খুব বিষন্ন হয়ে গেল এতো চমৎকার একটা নৈসর্গিক শহরকে এমন অন্ধকারে ডুবে থাকতে দেখে। কেবল মনে হচ্ছিল আর একবার যদি রিছাং ঝর্ণার পাদদেশে যেতে পারতাম তবে স্নান করে পূণ্য সাধন করে নিতে পারতাম।

যারা খাগড়াছড়ি গিয়ে থাকতে চান তাদের জন্য বলছি,রাতের বাসে যাওয়াই ভালো এতে সময় কম লাগবে । ঢাকা থেকে শ্যামলী , সেন্টমর্টীন ,হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন ।খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে । দীঘিনালায় কয়েকটি হোটেল থাকলেও দীঘিনালা গেস্ট হাউজের মান কিছুটা ভালো ।

পর্যটন মোটেল শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে । মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার । মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে । ফোন নম্বর : ০৩৭১-৬২০৮৪, ০৩৭১-৬২০৮৫ ।



এই প্রতিবেদন টি 2416 বার পঠিত.