‘রক্তঘ্রাণ‘-সোনালী দাসের কবিতা

রক্তঘ্রাণ

-সোনালী দাস

সুবিন্যস্ত শুয়ে আছে বৃকোদর কুমির
দুচোখে সংগুপ্ত লালা
ও জানে আমায় নামতেই হবে পুরোনো নৌকো থেকে
উঠতেই হবে।

রতনপল্লীর এক নিরালা দুপুরে সে সাঁওতাল ছেলে
হাতে ধরিয়েছিলে ভেঁটফুলগোছ
তার হাতের তাপে কিছু জ্বর এসেছিল;
তার লোমহীন কপাট বুকের পানে পিছু ঘুরে
খুব চেয়েছিলেম খোঁপা সাজিয়ে নিতে,
কুমির হতে পারেনি সে.. অসভ্যেরা পারেনা

বসে আছি ভিক্ষাকর
অসতর্ক নৌকোর গলুইয়ে। প্রেমের জন্য
প্রেমের জন্য নীল দানিয়্যুবের গোছালো পাড়ে
আমারই মতোন পরিত্যক্ত এক ভাঙা নৌকোয়।
রূপালো ভিয়েনার অতাম্রলিপ্ত বিভঙ্গ হেথা নেই
প্রেমের জন্য রোব্বারের নিঃসঙ্গ বিকেলে

বসে আছি ভিক্ষাকর
হাউরাইজের পায়ে হেথা সুবিন্যস্ত হেজেরা
প্রজাপতিহীন
যদি দেখা পাই একটিরও!

এখন কুমিরটির একপাশে সূর্যাস্তের ছিট আলো
হাঁ চোয়াল, রক্তঘ্রাণ স্থির জিভ।
কাউণ্টডাউন
আমি এবার নামছি নিশ্চিত।

উঠছি..

ধরে নেবে সভ্যতা আমায়
ওই কৃকলাশ সেতুদের মতো শুয়ে থাকা
হামবুর্গ পোতাশ্রয়ের অক্টোপেশে উজ্জ্বল সড়কের ঝাঁক
ঝাঁপিয়েছে প্রপাত, সুসভ্য দানবীয় কংক্রিটের পায়ে
আলক্ত আদিম নদীকে সে ধর্ষণ করছে কাল থেকে।
মানুষ সভ্য হয়েছে যত
প্রাগৈতিহাসিক কুমির হয়েছে অনিবার

 

 

সোনালী দাস।
কলকাতা,ভারত।



এই প্রতিবেদন টি 276 বার পঠিত.