সুযোগ এসেছে কাজে লাগাও, শিষ্যদের হাথুরা

লন্ডন থেকে সোমবার বিকালে বার্মিংহামে এসেছে ভারতীয দল। এখানে তো সবাই ব্যস্ত। তারপরেও কোহলিদের দেখতে বেশ কিছু ভারতীয় সমর্থক জড়ো হয়েছিল হোটেল সামনে। খেলোয়াড়রা একে একে বাস থেকে নামছিলেন আর সমর্থকরা নাম ধরে চিৎকার করছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। সুদর্শন কোহলিকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি ‘ক্রেজি’ ছিলেন সমর্থকরা। ভারতীয় দল হোটেলে ঢুকলেন সমর্থকদের ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া স্নোগান শুনতে শুনতে। ১৫ তারিখের ম্যাচে গ্যালারিতে ভারতীয়দেরই প্রাধান্য থাকবে, বুঝে নিলাম। বাংলাদেশ, তামিম, সাকিবদের নিয়ে যতটা স্লোগান হবে, তার কয়েকগুণে বেশি হবে ইন্ডিয়া, কোহলি যুবরাজদের নিয়ে। যতদূর জানা গেছে, সেমিফাইনালে গ্যালারিতে ভারতীয়দেরই জয়জয়াকার থাকবে। এই ম্যাচের বেশিরভাগ টিকিটই এখন ভারতীয় সমর্থকদের হাতে। ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে, এই হিসেব ধরে তারা বার্মিংহাম সেমিফাইনালের টিকিট কিনে নেন আগেভাগে। এবং সেটাই হয়েছে। তবে সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ যে বাংলাদেশ হবে, সেটা কেউ ভাবেননি।

অবশ্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে পেয়ে বরং খুশিই ভারতীয় সমর্থকরা। সাবেক ভারতীয় মারকুটে ওপেনার বিরেন্দর শেবাগ যেমন বাংলাদেশকে পাত্তা না দিয়ে ভারতের ফাইনাল দেখছেন এবং চ্যাম্পিনশিপের আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়ে রেখেছেন। সমর্থকরা শেবাগের মতো অতটা না গেলেও ভারতের নিশ্চিত ফাইনাল দেখছেন। তাদের এ হিসেবটা অবশ্য দোষের কিছু না। বড় ম্যাচ। বড় ম্যাচ তো বড় দলের জন্যই। ভারত যে মানের দল তাতে বাজির দরের চিত্র ১০০: ১০, এমন ধরে নিচ্ছেন অনেকে। দীপক পাণ্ডে নামের এক ভারতীয় সমর্থকের দৃষ্টিতে এই ম্যাচে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা আরও বেশি। ৯৯ শতাংশ। তিনি বললেন, ‘ভারতীয় দল এখন বিশ্বের এক নম্বর। আগে বোলিংয়ে সমস্যা ছিল। দেশের বাইরে পারফরম্যান্স ঝামেলা ছিল। কিন্তু এখন ভারত যে কোনো কন্ডিশনে শক্তিশালী দল। ভারতই চ্যাম্পিয়ন হবে।’

বাংলাদেশ দল নিয়ে ওই ভারতীয় সমর্থকের মূল্যায়ন হলো, ‘বাংলাদেশ অনেক ভালো দল হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলছে। সাকিব, তামিম মোস্তাফিজের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে। কিন্তু ভারতীয় দলের কাতারে আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। এই মুহূর্তে ভারত বহু গুণ এগিয়ে।’ আরেক ভারতীয় সমর্থক দুলদ্বীপ সাকসেনা, যিনি পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জানালেন, ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে ধরে নিয়ে তিনি আগেই টিকিট কিনে রেখেছিলেন। সেমিতে তিনিও বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন না। বললেন, ‘কয়েক দিন আগেই তো বাংলাদেশকে আমরা ৮৪ রানে অলআউট করে দিয়েছি। আমাদের বোলিং এখন অনেক ভালো। ব্যাটিং বোলিং কোনো বিভাগেই ভারতীয় দলের সঙ্গে বাংলাদেশ তুলনীয় নয়।’

এই দুজনের মতো অন্য ভারতীয় সমর্থদেরও একই অভিমত। তারা ভারতের ফাইনাল দেখছেন। ভারত-ইংল্যান্ড ফাইনাল। তাদের বেশিরভাগই জানালেন, বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালই বড় ব্যাপার। তাদের মতে, ফাইনাল বা চ্যাম্পিয়ন হবার মতো দল হয়ে ওঠেনি বাংলাদেশ।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে হাথুরাসিংহে আসছেন তা একদিন আগেই জানা ছিল। বুধবার তো অধিনায়ক আসবেন। মঙ্গলবার কোচ। বেশ ভালোই হলো। পরপর দুই দিন কোচ অধিনায়ককে পাওয়া গেল। দলের কথা কোচ এবং অধিনায়কের চেয়ে আর কে ভালো বলতে পারেন?

শিষ্যদর প্রাকটিসে সঙ্গ দিয়ে দুপুরে যখন সংবাদ সম্মেলন রুমে ঢুকলেন তখন তাকে খুব সুখী মানুষ মনে হচ্ছিলো। গর্বিত কোচ। আসলেই তো। তার চেয়ে সুখী মানুষ গর্বিত কোচ এই মুহুর্তে দ্বিতীয়জন কে? দায়িত্ব নেওয়ার পর আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকলো বাংলাদেশ দল।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। এরপর দেশের মাটিতে টানা সাফল্য। সাফল্য আসছে দেশের বাইরেও। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তো অতীতের সব সাফল্য পেছন ফেলে দিল।

বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। এই ম্যাচে বাজির দর নিশ্চিতভাবেই ভারতের পক্ষে। তবে সকল শক্তি নিয়ে চেষ্টা করে দেখতে চায় বাংলাদেশ। ভারতকে যে হারানোই যাবে না তা তো নয়। এটা যে সুবর্ণ সুযোগ। এক ম্যাচ জিতলেই নতুন ইতিহাস। ক্রিকেট দুনিয়াকে বিস্মিত করে ফাইনালে চলে যাবে বাংলাদেশ। আর এই সুযোগটাই খেলোয়াড়দের কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন কোচ চন্ডিকা হাথুরাসিংহে।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ বললেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের বলব, এটা তাদের জন্য ভালো একটা সুযোগ। এটাকে বড় ম্যাচ হিসেবে না দেখে বরং ভালো একটা সুযোগ হিসেবে দেখতে বলেছি তাদের। জুনিয়র সিনিয়র সবাইকে বলেছি যে, সুযোগটা কাজে লাগাও। বলেছি সুযোগটা দুই হাতে লুফে নাও।’

এক সময় দেশের মাটিতে ভালো করতো দল। এখন দেশের বাইরে ভালো করছে। বাংলাদেশ এখন বড় দলের কাতারে চলে গেছে। এই সাফল্যের রহস্য কী? ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলাকেই ভাইটাল মনে করছেন কোচ।

হাথুরাসিংহে বললেন, ‘আপনারা দেখছেন গত তিন বছর ধরে আমরা ভালো করছি। আসলে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলাম। আমরা নতুন পরিকল্পনা করলাম, দেশের মাটিতে ভালো করতে হবে। আমরা ভালো করলাম। এরপর দেশের বাইরে কীভাবে ভালো করা যায় সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করলাম। দেশের বাইরেও আমরা ভালো করতে শুরু করেছি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠলাম। এটা বড় পাওয়া।’



এই প্রতিবেদন টি 179 বার পঠিত.