সংকট মোকাবেলার পথযাত্রায় শেখ হাসিনার ভূমিকা সক্রিয়: ফরিদুল হক


বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান সম্প্রদায় মাহে রমজান উদযাপন করছে। রমজানে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কালোবাজারী বন্ধের জন্য সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দেশের সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই মাঝে বাংলাদেশে এখন ঋতু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। টানা তিন মাস বর্ষার কারণে বাংলার পথ প্রান্তর জলরাশিতে ভরে উঠে। এসময় বাংলাদেশে ডাকাতের উপদ্রুপ বৃদ্ধি পায়। এজন্য সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি সম্পর্কে নতুন এজেন্ডা এসেছে। মাদক পাচার ও সেবন নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্ধে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-কে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কমিটির সভায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংসদের বিশেষ প্রতিনিধি লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী মাননীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব ফরিদুল হক দুলালের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে একান্ত আলাপচারিতায় সরকারের ও দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় দিক চিহ্নিত করেছেন। এখানে বিষয়গুলো প্রকাশিত করা হলো ধারণকৃত রেকর্ড থেকে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ ১৯৪৯-২০১৭ দীর্ঘ ৬৮ বছরে আওয়ামী লীগ কতটা সুসংগঠিত বলে মনে হয় আপনার?
ফরিদুল হকঃ আপনাকে ধন্যবাদ। চলতি মাসের ২০ মে বর্ধিত সভায় গণভবনে বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনকে উপলব্ধি করেই আওয়ামী লীগকে দলের গঠনতন্ত্র ও আদর্শের ভিত্তিতে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করেছে। কাউন্সিলের পর ছয় মাস অতিবাহিত না হতেই সভানেত্রী শেখ হাসিনা বর্ধিত সভা সম্পন্ন করে আওয়ামী লীগের ইতিহাসকে উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে ইতিপূর্বে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবার পর বছরের পর বছর দলীয় কর্মীরা প্রতিক্ষায় থেকেছে বর্ধিত সভার জন্য। সেই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অসন্তোষ লক্ষ্য করা যেত স্পষ্টভাবেই। রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও দলের গণতন্ত্রের অবস্থান পূর্বের অবস্থানে নেই। রাষ্ট্রের ভীত মজবুত করার প্রধান শর্ত যদি হয়ে থাকে গণতন্ত্রের ভীত মজবুত করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আভিধানিক অর্থেই রাজনৈতিক এই সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে সচেতন ও মনোযোগি। এশিয়া মহাদেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দলগুলোর একটি আওয়ামী লীগ। দলের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর বিস্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি হিসেবেই বর্ধিত সভায় সভানেত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এগারতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। সে কারণেই আওয়ামী লীগ গঠনতন্ত্র ও আদর্শের অনুসরণ করে সক্ষমতার নেতৃত্বকে বিকশিত করার ধারায় অগ্রসর হতে আরেক ধাপ এগিয়েছে বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তগুলোর মধ্য দিয়ে। দল সংগঠিত না হলে সেটা বিপর্যয় ডেকে আনবে। আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে হবে সেই সিদ্ধান্তটিই গৃহিত হয়েছে বর্ধিত সভায়। পবিত্র রমজানে প্রতিটি ইউনিয়নেই ইফতার ও সভার আয়োজন করেছে সংগঠনের নেতা কর্মীরা। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে বিতর্কিত হয়েছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন বাংলাদেশের মৌলিক অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করেছে। বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যাগুলোর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা সমস্যা, খাদ্য ঘাটতি সমস্যা, স্বাস্থ্য সমস্যা, শিক্ষার হার সমস্যাসহ দারিদ্রতার দুষ্টচক্র অক্টোপাসের ন্যায় রাষ্ট্রের মূলশক্তিকে অকার্যকর করে তুলেছিল। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি বাংলাদেশকে সকল সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দল ও সরকারের পক্ষ থেকে থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয় নাই। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর এর নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠি প্রত্যাশা পূরণের আকাংখায় শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। বাংলাদেশের সংকট মোকাবেলার পথযাত্রার এখানেই সূত্রপাত। পূর্বেও অগ্রগতি হয়েছিল তবে সেই উন্নয়ন সার্বিক রাষ্ট্রক্ষমতার পক্ষে ছিল না। সেটা ছিল বিক্ষিপ্তভাবে উন্নয়নের নামে আই ওয়াশ। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত অধ্যায় বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। অতীত সরকারগুলোর রাষ্ট্রের প্রতি যে অবদান রাখার ইতিহাস তার সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যবধান অনেক বেশী। ২০০৮ সালে বিদ্যুৎ ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে সেটা প্রায় ১৫ হাজার। এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আওয়ামী লীগের মূল সংগঠন বর্তমানে পূর্বের চেয়ে অধীক সংগঠিত ও সক্ষমতার সাক্ষর রাখছে। রাষ্ট্রের অগ্রগতির পাশাপাশি শেখ হাসিনার আদর্শিক নেতৃত্ব দলের মৌলিক শক্তিকে অনেক বৃদ্ধি করেছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আদর্শিক রাজনীতির যোগসাজসে আওয়ামী লীগ সংকট মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা যতদিন থাকবেন রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা উর্দ্ধমুখি সূচকের সঙ্গেই সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সক্ষম নেতৃত্বই আওয়ামী লীগকে মূলত সুসংগঠিত রেখেছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ বেশ কয়েকবছর পর বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগের। উপকূলীয় বাংলাদেশ, হাওরাঞ্চল প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে চরমভাবে আজ ক্ষতিগ্রস্ত। মূল সংকট এখন খাদ্য সংকট। খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আপনারা কি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত?
ফরিদুল হকঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনের উপর প্রাকৃতিক দূর্যোগের প্রভাব পরেছে। আইলা ঘূর্ণিঝড়ের মত মোরা ঘূর্ণিঝড়েও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ইতিপূর্বে তলিয়ে গিয়েছে হাওরাঞ্চলের কৃষি সম্পদ। সিলেট সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নালিতাবাড়ি, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জের কৃষি জমিগুলো ফসলসহ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে সম্পূর্ণ। জামালপুরেও কিছুটা প্রভাব পরেছে। সরকার সুনির্দিষ্টভাবে সংকট মোকাবেলা করেছে দূর্গত অঞ্চলে। প্রতিবছরই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রচুর সম্পদের ক্ষতি সাধন হয়। সরকারের সচেতনতার কারণেই প্রাণহানীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ঘটেছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ী ঢলে আমাদের অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বোরো আবাদ যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৮ ধানের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি সাধিত হয়েছে জামালপুরের প্রতিটি অঞ্চলে। ইরি আবাদ এর কোন ক্ষতি হয়নি অতি প্লাবনে এই অঞ্চলে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও খাদ্য ঘাটতি হতেই পারে। কিন্তু কৃষির ক্ষতিসাধন হওয়ার সাথে সাথেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। খাদ্য ঘাটতি নিয়ে সরকার কোনভাবেই চিন্তিত নয়।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা একটি অপরটির পরিপূরক। জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে স্বাধীনতার জয়গান গাওয়া অযৌক্তিক। বিএনপি-জামাত জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সমালোচনায় যেভাবে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?
ফরিদুল হকঃ বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে তাদের দলে ও জোটে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র প্রবেশ করেছিল। সে কারণেই শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা-ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের বাছাই কমিটি গঠিত হয়েছে অমুক্তিযোদ্ধাদের মূল তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য। তবে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের সংখ্যা নিয়ে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার সন্দিহান মোটেও ঠিক না। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি এই বিষয়ে কোনদিনও বিতর্কে যায়নি।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আওয়ামী লীগের ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ এর মাঝখানে খালেদা জিয়ার ২০৩০ ভিশন ঘোষণা কি প্রহসন নাকি রাষ্ট্রের কাছে প্রতিশ্রুতি?
ফরিদুল হকঃ বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের শাসকই নয় শুধু তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভীত রচনা করার লক্ষ্যে তার রাজনৈতিক দর্শন দ্বারা ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কয়েক বছর আগেই ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার আরেকটি ঘোষণা আসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যা ভিশন ২০৪১ নামে অভিহিত হয়েছে। বাংলাদেশের সমকালিন অর্থনীতি মূলত এই দুটো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের উপরই ভর করে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছেন কেন তা বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান সংসদে বিষয়টি সম্পর্কে বলেছেন আওয়ামী লীগই ভিশন-২০৩০ সফল করে ফেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। অতএব বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন জনগণকে কতটাই উজ্জীবিত করতে পারে আগামি নির্বাচনে সেটা নিয়ে সকল মহলেই সন্দিহান থাকবে। বিএনপি পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক চেতনা থেকে বের হয়ে এসে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশে জনস্বার্থের রাজনীতিতে অবদান রাখলে তাদের জনসমর্থন বাড়বে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ২০৩০ ভিশন কার্যকর করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান এর কনফেডারেশন করতে পারবে শুধু। অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশের জন্মের সাথেই শেখ হাসিনার সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১ এর স্বপ্নদ্রষ্টা। ২০১৬ সালেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচক পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে নি¤œ মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নের দিকে যেভাবে অগ্রসর তাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। একটি রাষ্ট্রকে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে উপণিত হতে হলে কতগুলো শর্ত পূরণের মধ্য দিয়ে সেটা অর্জন করতে হয়। এসডিজি গোল বাস্তবায়ন তার মধ্যে অন্যতম। এজন্যই শেখ হাসিনা নির্বাচিত আইন প্রণেতাদের এসডিজি গোলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিশেষভাবে অবদান রাখার নির্দেশ দিয়েছেন গত বছর। বাংলাদেশ ২০১৯ সালেই ভিশন-২০২১ বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল। হরতাল, অবরোধ বাংলাদেশে নিত্যনৈমিত্তিক রাজনৈতিক ইস্যু না। হরতাল ও অবরোধের মাধ্যমেই একমাত্র বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতিপূর্বে। শিল্প উৎপাদন ও কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশে এখন অনেকটাই অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এদেশে বর্তমান সরকার ১০০টি আঞ্চলিক জোন প্রতিষ্ঠা করেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্যই বাংলাদেশের দরজা এখন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথেই অর্থনীতির সূচক উর্দ্ধমুখি হয়ে উঠবে দ্রুত। পদ্মা সেতু এক্ষেত্রে কালজয়ী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের বন্দরগুলোও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সৃষ্টি করা হচ্ছে নতুন নতুন বন্দর। এসব সুবিধা সৃষ্টির পূর্বেই দেশকে ডিজিটাল রাষ্ট্র করা হয়েছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে সে বিষয়ে আমাদের কোন তাত্ত্বিক সন্দেহ নেই। দেশে বিদ্যুৎতের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে এটাই মূল কারণ। রাষ্ট্রের বাজেট বৃদ্ধি পেে য়ছে বেশ কিছু বছর যাবত। বাংলাদেশের জিডিপি ও মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভ বেড়েছে। খাদ্য ঘাটতি নেই বর্তমানে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনি স্বরাষ্ট্র সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। আজকের সভায় কি কি এজেন্ডা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সে ব্যাপারে অবহিত করবেন কি?
ফরিদুল হকঃ বাংলাদেশের জনসংখ্যার অধিকাংশ জনগোষ্ঠি মুসলিম। বাংলাদেশের জনগণ পবিত্র মাহে রমজানে নানামুখি চক্রের দ্বারা নাজেহাল হয়। পবিত্র রমজান মাস আমরা অতিবাহিত করছি। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দ্রব্য মূল্যের নিয়ন্ত্রণ, টিকেট কালোবাজারী রোধ করার বিষয়গুলো প্রথমেই আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। যানজট নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারেও নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গাড়ীতে ফ্লাগ স্ট্যান্ড এর ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ আইন আনছে সরকার। মাদক ও জঙ্গিবাদ ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। চোরাচালান বন্ধের জন্য বিজিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন বর্ষাকাল। চরগুলোতে ডাকাতের উপদ্রব দেখা যায় এখন। এজন্য সরকার পুলিশ প্রশাসনকে সতকৃ নজরদারি বৃদ্ধি করতে নির্দেশ প্রদান করেছে। বর্ষার সময় পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
ফরিদুল হকঃ আপনাকেও ধন্যবাদ। আগাম ঈদের শুভেচ্ছা রইল দেশবাসির জন্য।



এই প্রতিবেদন টি 607 বার পঠিত.