শেষটা রাঙিয়েছেন মাশরাফি

বাংলাদেশী দর্সশক মুনিম সিদ্দিকী বলেন, সবাই মিলে সৌমকে দোষারোপ করছেন কেন? সৌমের জায়গায় তামিম হলে কি বলতেন?
এইটি সাম্প্রদায়িকতা। এই মনমানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। আমাদের দল মুলত সেমিফাইনাল খেলার মত মানসিক চাপ নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। মাসরাফি আর তামিম ছাড়া পীঠ টান করে পীচে দাঁড়াতে পারেনি।
আজকের পরাজয় আমাদেরকে আগামীর জয়ের দিকে নিয়ে যাবে। ভুলে যাচ্ছেন কেন ভারত বনাম বাংলাদেশের খেলা মানে ২৬:১ এর খেলা। বাংলাদেশের আয়তনের মত ২৬ টি রাজ্য থেকে বাছাই করা সেরা খেলওয়ারদের সাথে টেক্কা দিয়ে খেলা সেটি কি কম বড় সাহস?

এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে ২৬৪ রানের সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। শেষটা রাঙিয়েছেন মাশরাফি। এরআগে ব্যাট হাতে দলের রান চাকা ঘুরিয়েছেন ওপেনার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। সাত উইকেটে ২৬৪ রানের সংগ্রহ গড়ার পথে তাদের দুই হাফ সেঞ্চুরি টনিক হিসেবেই কাজ করেছে। এবার লড়াই মুস্তাফিজ, তাসকিন, ‍রুবেল, সাকিবদের। ফাইনালের টিকেট কাটতে বল হাতে জাদু দেখাতে হবে এদের।

বার্মিংহামের এজবাস্টনে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই দিক হারায়। প্রথম ওভারেই ফিরে যান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের ছায়া হয়ে থাকা ওপেনার সৌম্য সরকার। এমন দুঃস্বপ্নের শুরুর পরও দলকে বুঝতে দিলেন না সাব্বির রহমান। তামিম ইকবালকে এক পাশে রেখে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

তাতে পাঁচ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে জমা হলো ৩১ রান। কিন্তু ঝড় তুলেই নিজেই দিক হারালেন সাব্বির। সাব্বিরের শিকারিও ভারত পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ডানহাতি এই পেসারের করা শর্ট ডেলিভারি চার হাঁকাতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশের মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

১৯ রান করে ফিরে যাওয়া সাব্বিরের প্রস্থান অবশ্য বুঝতে দেননি তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। ৩১ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারালেও দলকে দারুণ ছন্দ এনে দেন অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যান। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ঘোরাতে থাকেন দলের রান চাকা। তৃতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন তামিম-মুশফিক।

এই জুটিতে দেড়’শ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। মাঝে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম, মুশফিক দু‘জনই। বাংলাদেশও তখন দারুণ ছন্দে। এমন সময় উমেশ যাদবের বলে পরাস্থ তামিম। তবে এরআগেই ৭২ বলে সাত চার ও এক ছয়ে ৭০ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রানের মালিক। এই ইনিংস দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন তামিম। এবারের আসরে তামিমের করা ২৯৪ রানই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা সাকিব আল হাসান এদিনও আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯ রান করেই বিদায় নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর দিক হারান ২৬তম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া মুশফিকও। ৮৫ বলে চার চারে ৬১ রান করা মুশফিক ফিরতেই এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২১ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১৫ রান করে ফিরে গেলে মনে হয়েছিলো ২৪০ রান পাড়ি দিতে পারবে না বাংলাদেশ। কিন্তু আলোক বর্তিকা হাতে বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাসকিন আহমেদও অধিনায়ককে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। অষ্টম উইকেটে মাশরাফি-তাসকিন ৩৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ২৬৪ রানে পৌঁছে দেন। মাশরাফি ২৫ বলে পাঁচ চারে ৩০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। তাসকিন ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ ও উমেশ যাদব দুটি করে উইকেট নেন।



এই প্রতিবেদন টি 434 বার পঠিত.