শিরিন ওসমান এর কলাম

উচ্চশিক্ষিত এবং কর্মসংস্থান


বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশীর ভাগ ছাত্র ঢাকার বাইরে থেকে আসা। মফস্বল শহরে নয়তো গ্রাম থেকে আসা মেধাবী ছাত্ররা। এই ছাত্ররা পাশ করার পর বেশীর ভাগ চাকুরীর অন্বেষণে ঘুরতে থাকে।
অল্পসংখ্যক ছাত্র বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হয়। চাকুরী যাদের মিলে না তারা হতাশায় ডুবে থাকে। শেষ পর্যন্ত হয়ত চাকুরী মিলেও যায়, যদিও সেই চাকুরী আশাপ্রদ মনে করেনা।
কিছু উদ্যোগী ছাত্র ব্যবসায় নামে। আমি টেন্ডারবাজী ব্যবসা এখানে আনছি না।কয়জন পার্টনার মিলে কিছু একটা দাঁড় করাতে চায়। ব্যবসায় মার খায়। আবার উঠে দাঁড়ায়।নতুন করে ভাবে কী করা যায়। পেছনের ক’দিনের অভিজ্ঞতা বৃথা যায় না। উদ্যোগী মন পথ খুঁজতে থাকে।দেখতে দেখতে পথ খুঁজে পায়। বিদেশী কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ রাখতে থাকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের সাথে ব্যবসায় পার্টনার হয়। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সাফল্য এসে যায়। তাদেক এগিয়ে চলা চলতে থাকে।তারা তখন অনেক লোককে কর্মসংস্থান দিতে পারে। এই যে ব্যবসার জন্য লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া , এর জন্য দরকার সততা,উদ্যোগী মন,আত্মবিশ্বাস এবং চারপাশ দেখে চলার তীক্ষ্ন চোখ। এরাই পারে অর্থনীতি বদলে দিতে। তার জন্য দরকার ডিগ্রির মোহমুক্তি এবং সত্যিকার শিক্ষিত মন।
একটি জীবন বৃত্তান্ত লিখতে পারে না উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও। এতবছর লেখা পড়া করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে না, সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। তাহলে প্রচলিত শিক্ষা আমাদের কী দিল? একটি চাকুরীর জন্য তরুণের মুখ চেয়ে বসে থাকা? তারুন্যের অপার সম্ভাবনা যে সমাজে কাজে আসে না সে সমাজ এমন উদ্দেশ্য বিহীন ছন্নছাড়াই মনে হবে।



এই প্রতিবেদন টি 581 বার পঠিত.