ধ্বংস অনিবার্য, প্রকৃতির প্রতিশোধ অতি ভয়ংকর!

মালবিকা শীলা, মন্ট্রিয়াল, কানাডাঃ পার্বত্য জেলাগুলোতে আজ পাহাড়ি, বাঙালি সবারই খুব বিপদ, প্রকৃতির সামনে আমরা সবাই খুব ছোট। দূর থেকে শুধু অসহায়ের মতো একের পর এক দুঃসংবাদ শুনেই যেতে হচ্ছে। দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার মতো মানসিক জোর রাখুন। আমাদের সবার শুভকামনা আপনাদের সাথে আছে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। মানুষের বিপদে মানুষই একমাত্র অবলম্বন। পাহাড় অথবা ভূমিধ্বসের পেছনে মূল কারণই হচ্ছে প্রয়োজনীয় গাছপালার অভাব, গাছের শেকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, ফলে সহজে মাটি আলগা হয়না। আমাদের দেশে মানুষই নিরাপদ না আর গাছপালা!

গাছপালা আমাদের জন্যে কতটা গুরুত্ববহন করে তার ফিরিস্তি দিয়ে শেষ করা যাবেনা। প্রতিটি প্রাণী ফুসফুস ভরে যে অক্সিজেন নেয় সেটা এই গাছেরাই তৈরি করে, আর আমাদের ছেড়ে দেয়া বিষাক্ত কার্বনডাইঅক্সাইড টেনে নেয়। সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে বনের সমূহ ক্ষতি হবে। ইকোসিস্টেম নষ্ট হতে থাকবে, এতে করে অনেক প্রজাতির কীটপতঙ্গ, পশুপাখি বিলুপ্ত হবে। জাতীয় পশুকে দেখতে হবে চিড়িয়াখানা অথবা যাদুঘরে গিয়ে। বনের পানি দুষিত হলে অন্যান্য পশুপাখিও আর বাঁচতে পারবেনা। ইকোসিস্টেমের আওতায় প্রতিটি প্রাণীই গুরুত্বপূর্ণ।

কীটপতঙ্গ কি কাজে লাগে জানেন? প্রতিটি ফুল থেকে ফল পেতে চাইলে পরাগায়নের জন্য পতঙ্গ দরকার, পতঙ্গ না থাকলে আমের মুকুল এমনিতেই ঝরে যাবে, আম আর হবেনা।

পাহাড়ে জুমচাষ বাড়িয়ে পাহাড় ধ্বসের পরিমাণ কমানো যেত। আমাদের ভুলের পরিমাণ এমনিতেই অনেক বেশি হয়ে গেছে। এই সবুজ পৃথিবী আমাদের মায়ের মতো। প্রকৃতির সাথে আমরা যে অন্যায় অত্যাচার চালাচ্ছি তার অশুভ ফল ফলতে শুরু করেছে। ভূমিকম্প বেড়ে যাওয়ার পেছনেও মানুষই দায়ী, খনিজসম্পদ উত্তোলন করে করে মাটির নীচের ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে। যে হাত আমাদের মুখে খাবার তুলে দেয়, সেই হাতে আমরা শুধু কামড়ই দেইনা, হাতের মালিককে খুন করতে মরীয়া হয়ে উঠি।

প্রকৃতি উদার হাতে আমাদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে সব দিয়েছে। আর বিনিময়ে আমরা কি করছি? এখনই ভুল শোধরাতে না পারলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। প্রকৃতির প্রতিশোধ অতি ভয়ংকর!

মালবিকা শীলা



এই প্রতিবেদন টি 3285 বার পঠিত.