‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অভিজ্ঞতা কাজে দেবে’

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সফল মিশন শেষে আজ সকাল দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় পা রেখেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। যখন বাংলাদেশ ছেড়ে ইংল্যান্ড উড়াল দিয়েছিলেন মাশরাফিরা, তখন জানিয়ে গিয়েছিলেন প্রত্যাশার কথা, স্বপ্নের কথা। আজ যখন দেশে ফিরলেন, তখন প্রত্যাশা ও স্বপ্ন দুটোই পূরণ হয়েছে। তাইতো চোখে মুখে তৃপ্তির আনন্দ, বড় কিছু অর্জনের গর্ব।সেরা আটের লড়াইয়ে সেরা চারে উঠে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। শেষটা আরেকটু রঙিন হলেও হতে পারত। হয়নি, তবে আশাহত হওয়ার কিছু নেই! আইসিসি টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য এ এক নতুন ইতিহাস, সাফল্যের মুকুটে নতুন এক পালক। নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এবার বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে খেলা অনেক বড় প্রাপ্তি। আমরা এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেটা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারব।’ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর শেষে দেশে ফিরে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন টাইগার দলনেতা মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হার নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমাদের বোলার ও ব্যাটসম্যানরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি। সবাই যদি তাদের নিয়মিত পারফর্মটা করতে পারত, তাহলে হয়তো এমন কিছু দেখতে হতো না।’ আজ সকাল ৯.৪৫ টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বহনকারী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ৯.৪৫টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের বিমানে করে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বিমান ছাড়তে দেরি হওয়ায় এক ঘণ্টা দেরিতে ঢাকায় পা রাখলেন সাকিব-তামিমরা।

ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করতে গত ২৭ এপিল রাতে ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। সাসেক্সে নয় দিনের ক্যাম্প শেষে বাংলাদেশ উড়াল দেয় আয়ারল্যান্ডে। সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ। এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেয় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

২০০৬ সালের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থেকে বাংলাদেশ পায় মিনি বিশ্বকাপে খেলার টিকেট। পরের গল্পটুকু সাফল্যের। প্রথমবারে মতো আইসিসি ইভেন্টে সেমিফাইনালে খেলে টিম বাংলাদেশ। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচে বাংলাদেশ ‘অসহায় আত্মসমর্পণ’ করলেও সেমিফাইনালে ওঠায় ক্রিকেট বিশ্বের সম্মান পেয়েছে।
২০০৫ সালের মতো এবারও কার্ডিফে রূপকথার আরেকটি গল্প রচিত করে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার পর কার্ডিফে বধ তাসমান সাগরের পূর্ব পাড়ের দল নিউজিল্যান্ড। যে জয়ে বাংলাদেশ পায় সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া সত্যিই গর্বের।

 



এই প্রতিবেদন টি 216 বার পঠিত.