গ্রেনফেল টা‌ওয়ারে অগ্নিকান্ড বাংলাদেশী ৫জনের পরিবার নিখোঁজ

কেনসিংটন এন্ড চেলসি কাউন্সিলের গ্রেনফেল টাওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিখোঁজ রয়েছেন পুরো পরিবারের ৫জন লোকই। তাদের মূল বাড়ী বাংলাদেশে । মৌলভীবাজার জেলায়। সংগৃহীত তথ্যে জানা যায় এক বছর আগে কমরু মিয়া (৯০) তার স্ত্রী, ২ ছেলে আব্দুল হামিদ ও আব্দুল হানিফ এবং ১ মেয়ে হাসনা বেগম তানিমাকে নিয়ে ওই দালানের ১৪২ ক্রমিকের ফ্লাটবাড়ীতে উঠেন। তারা মৌলভীবাজার জেলার ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নের খৈয়াউড়া গ্রামের মানুষ।
জানা যায়, টাওয়ার দালানে আগুন লাগার মধ্যরাতে তারা আগুন থেকে রক্ষা পাবার জন্য গোসলখানায় জমায়েত হয়ে তানিমা তার এক ভাইকে ফোন করে বলেছিলেন যে, দালান থেকে বের হয়ে আসার তাদের কোন উপায় নেই। ভেতরে সর্বত্র আগুন। তারা তাদের মৃত্যুর বিষয়ে বলতে গেলে নিশ্চিত হয়েই বলেছিলেন, দোয়া কর আমরা যেনো শান্তিতে মরতে পারি।লন্ডনের ২৭ তলা বিশিষ্ট গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। খবর বিবিসির।
উত্তর কেনসিংটনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল কর্মীরা ৬৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনটিতে এখনো অনেকে আটকে আছেন। বাঁচার জন্য কেউ কেউ জানালা দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা এখনও শেষ হয়নি। সত্তর জনের বেশি মানুষকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
আগুন লাগার আগে নর্থ কেনসিংটনের ঐ ভবনটিতে সংস্কার কাজ চলছিল। সে সময় ভবনের বাসিন্দাদের অনেকেই গুরুতর অগ্নিকান্ডের ঝুঁকির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সাবধান করেছিলেন।
তবে কি কারণে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ভবনটিতে যখন আগুন লাগার সময় সেখানে কয়েকশো মানুষ ছিলেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সেসময় ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভবনটিতে মোট ১২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।



এই প্রতিবেদন টি 775 বার পঠিত.