ক্রয়-বিক্রয় হাতের মোঠয় কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা !

সুমন দেঃ একটি সময় (বছর তিনেক আগেও) মানুষ শপিং এর জন্য সময় বের করতো, পবিত্র রমজান মাসে মার্কেটের জন্য আলাদা সময় দিতে হত। বর্তমানে আমাদের দেশেও উন্নত বিশ্বের মত, বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন শপ। বাহারি পোশাক আর নানান বৈচিত্র নিয়ে ফেসবুকের কল্যাণে অনলাইন শপিংগুলো থেকে, ঘরে বসেই ক্রয় করা যায় সব সময় পোশাকসহ নানাধরণের নিত্য প্রয়োজনিয় জিনিস, দেশে এবং বিদেশ থেকে। (দেশে) পন্য হাতে পেয়ে টাকা দিতে পারেন ক্রেতাগণ।

ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনো সেই সব অনলাইন শপের উপর কোন প্রকার লোন ব্যাংক কর্তৃক প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়নি! অনলাইন শপের দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মালিকানা মহিলা বলে বাংলাদেশ উইমেন্স এন্টারপ্ল্যানার বাংলাদেশে ব্যাংকের আবেদনকৃত লোনের জরিপ থেকে জানান, নাম অপ্রকাশের শর্তে তথ্য তোলেধরেণ একজন কর্মকর্তা।

অথচ দেশের বিভাগ, জেলা শহরে এসব অনলাইন শপ পরিচালনা করতে ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদি সহ সবই করতে হয়। নতুন আইন অনুযায়ী সাইনবোর্ড, ব্যানার এর সময় এবং সাইজের উপর নির্দিষ্ঠ পরিমানের চার্জ সরকারি ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে হয়।

সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী তিন বছরের হালনাগান ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স এর রিটার্ন কপি, ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র, বায়োমেট্রিক সম্পন্ন নিজ নামের মোবাইল নাস্বার, প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা {স্থায়ী (প্রমানসহ), অস্থায়ী হলে ভাড়াটিয়া নামার চুক্তিপত্র নিম্নতম ৫বছরের)} ব্যাংক একাউন্ট প্রতিষ্ঠানের নামে স্টেটম্যান্ট কমপক্ষে ১ বছরের, মজুদ পণ্যের টাকার পরিমান ইত্যাদি পরিপূর্ণ হলে তবেই নারী উদ্যোক্তা লোন এর জন্য আবেদন করা সম্ভব। তারপর ১বছরের ব্যাংকিং স্টেসম্যান্ট এবং মজুদ পণ্যের উপর ঋন নির্ধারণ হবে! এ সকল তথ্য জানান রাই’স ফ্যাশনের কর্ণধার তনু ধর

তিনি আরো জনান, দেশের বাইনে দেশিয় শাড়ীসহ বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা রয়েছে। দেশের বাইরে বাঙালি প্রত্যেকটি উৎসব পালন করেন প্রবাসীগণ। তাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনিয় দক্ষ লোক নিয়েগে হিমশিম খেতে হয়। প্রবাসী বাঙালি সকল সময়ই পৃথিবীর সকল প্রান্তে উদযাপিত হয়, ব্যাংক বা সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে আমরা সেই চাহিদা মেটাতে পারছিনা। সরকার নারী উদ্যোক্তা ঋনে সহজ করে দিলে বিদেশের বাজারে আমাদেরও রপ্তানিতে দেশিয় আর্থিক উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখব।

তনু ধর বলেন, যখন ডিজিটাল বাংলাদেশে নারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা প্রদানে সচেষ্ট, সেই ক্ষেত্রে এরকম প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কতটা নিরসনে ভূমিকা রাখবে ? প্রশ্ন হচ্ছে এসবই একজন উদ্যোক্তা ৩টি বছর চালাতে পারলে, প্রথমিক সহায়তা যদি সরকারি পৃষ্টপোষকতা না পায় দেশের অদূর ভবিষ্যতে গার্মেন্টস শিল্প এবং ফ্যাশন ডিজাইনার গড়ে উঠা কী সম্ভব ? দেশের দেশিয় পোশাক শিল্প বিশ্ব বাজার থেকে বিলুপ্ত হবেনা?



এই প্রতিবেদন টি 449 বার পঠিত.