আমার বোন কবি শ্বেতা শতাব্দি

Mondira Esh

আমার বোন কবি শ্বেতা শতাব্দি জন্ম থেকে অসুস্থ এক মানুষ। বর্তমানে সে খুবই জটিল অবস্থার মাঝে আছে। সে হাঁটতে পারেনা আজ ৬ মাস হতে চলল। লিভারের অবস্থা এতোটা খারাপ যে কিছুই সে বলতে গেলে খেতে পারেনা সারাদিনে, অথচ তার খিদে পায়। একটা পঁচিশ বছরের তরুণী অথচ তাকে দেখলে ১৩/১৪ বছরের একটি বালিকার মতো দেখায়। এসব বলে আর কী হবে। আমি বরং এখানে তার মেডিকেল রিপোর্টগুলো এটাস্ট করে দিচ্ছি, যে কেউ ডাউন লোড করে দেখতে পারেন।
.
… যোগাযোগ প্রসঙ্গে- আমি শুরুতে ভাবতে পারিনি শ্বেতার জন্য এভাবে আমাদের দেশের সকল কবি- সাহিত্যিক-বুদ্ধীজীবি- বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-শিক্ষার্থী-বন্ধুরা সারাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বেন এবং এটা শুধু আমার একার নয়, সকলের যুদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই, শুধু আনন্দাশ্রু ছাড়া।
তাই আমি যেনো ওর ফান্ড রেইজেং এ কোন বিতর্কের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমার বা মায়ের বিকাশ/ব্যাংক একাউন্ট থাকা সত্ত্বেও শুধু ওর একাউন্ট আর ওর বিকাশ নম্বরই দিয়েছি। আর যোগাযোগের জন্য বলেছি আমার নম্বরে যোগাযোগ করতে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এটা বিশাল এক যন্ত্রনা-কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । ভোর পাঁচটা থেকে রাত ২/৩ অব্দি মানুষ তাকে ফোন করে, সেই ফোন সে অত্যন্ত ধর্য্যের সাথে উত্তর করে, সে না পারলে আমি-মা। আরেকটা বিষয় হলো একটা ফোন বিজি থাকলে সেই নম্বরে ঐসময়টাতেই আরেকটি কল আসলে ওপর পাশে কল ধরছেনা এমন মনে হতে পারে।
.
আমি আর নিজেকে নিয়ে কী বলবো! আমি ঘুমোতে যাই রাত ৩/৪/৫ টায়। ছোটখাটো একটা চাকরী করি। আমার পরিবারে আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে এই ফান্ড রেইজের প্রতিটি কর্মকান্ডের সাথে অতোপ্রতোভাবে জড়িত, বিধায় ফোন কল-মেসেজ এসব সাথে সাথে চেক করা কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু চেষ্টা থাকে যত দেরীতেই হোক সেসবের রিপ্লাই দেয়ার।
.
যাদের আমাদের ফান্ড রেইজ নিয়ে সন্দেহ আছে তারা প্লিজ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আগে কষ্ট করে একটু যাচাই করে নিন। যাদের মাধ্যমে ফান্ডের ব্যপারে তথ্য পাচ্ছেন, যারা আপনাদের ট্যাগ করেছেন এসব পোস্টে তাদের থেকেই। আপনারা আমাকে অপমানিত করেন সমস্যা নেই, কিন্তু হাত জোড় করে অনুরোধ জানাচ্ছি দয়া করে যেসমস্ত মহৎ উদার সাহসি শ্রদ্ধেয় কবি-সাহিত্যিক-অধ্যাপক-সাংবাদিকগণ এগিয়ে এসেছেন, আমার কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন তাদের অপমানিত করবেন না। সর্বোপরি আমার যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার জন্য আমি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।



এই প্রতিবেদন টি 236 বার পঠিত.