ভাটির মানুষ বোঝে শুধু শেখ হাসিনা: মুহিবুর রহমান মানিক

বঙ্গবন্ধু দারিদ্র মুক্তির কথা ভেবেছিলেন। কৃষককূলের বন্ধু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাটি অঞ্চল যখন দূর্গত অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল ভারতের থেকে আসা অনাকাঙ্খিত পানির ঢলে ঠিক তখনই সরকার দ্রুত কৃষক সমাজকে রক্ষার জন্য ব্যবস্থাপত্র নির্ধারণ করে, ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিপথগামী রাজনৈতিক শাসকের হাতে থকে বাংলাকে পূর্ণ স্বাধীনতা এনে দিয়ে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও আসন্ন নির্বাচনের তাগাদা উপলব্ধি করে বর্তমানে অত্যন্ত সজাগ হয়ে উঠেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এই সভা। সভা ও হাওরবাসি নিয়ে মহান সংসদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক লুৎফুল্লাহ হীর মুনীর চৌধুরী সাক্ষাৎ করেছেন হাওরাঞ্চলের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সাথে। উল্লেখ্য হাওরের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধির জন্য মহান সংসদে বারবার তিনি দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথাগুলো। উচ্চারণ করেছেন দূর্গতির কথা। উচ্চারণ করেছেন ঠকবাজদের দূর্নীতির কথা। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারটি পত্রস্ত করা হলো এখানে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ ২০মে ২০১৭ সকাল ১০ঃ৩০ মিনিটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ডেকেছেন। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের স্যভানেত্রী বর্ধিত সভা আহ্বান করেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। দেশী-বিদেশী নেতৃবৃন্দের কাছে এই সভার গুরুত্ব কিভাবে বিবেচিত হবে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন একটি অপরিহার্য অধ্যায়। বাংলাদেশে এগারতম জাতীয় নির্বাচন প্রায় আসন্ন। আওয়ামী লীগ মনে করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের এখনই সময়। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামীকাল গণভবনে বর্ধিত সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ধিত সভার আহ্বান করেছেন। সভায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ, জেলা নেতৃবৃন্দ, তৃণমূল নেতৃবৃন্দসহ দশম জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করছে বর্ধিত সভায় সাংগঠনিক দূর্বলতা বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে সভায়। নেতৃবৃন্দ নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পাবে গণভবনের বর্ধিত সভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের রায় পাবার জন্য আওয়ামী লীগ আগামীতে আরো আন্তরিকভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে বলে আমাদের ধারণা।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ মাননীয় সংসদ সদস্য আপনি হাওর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। বিগত অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেখা গিয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষককূলের কৃষি ঋণ মওকুফের জন্য আপনি মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে একান্তভাবে জোড়ালো অনুরোধ করেছেন। কৃষকের কৃষি ঋণ মওকুফের বিষয় সম্পর্কে আপনি আমাদের অবহিত করবেন কি?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ বাংলার মত ভাটি বাংলাও একটি রয়েছে বাংলাদেশে। হাওর অঞ্চলের মানুষ বিস্তৃত জলরাশির সঙ্গে বসবাস করে জীবনধারণ করে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার অংশবিশেষ, কিশোরগঞ্জের প্রায় সিংহভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু অংশ এবং হবিগঞ্জের কিছু অংশ নিয়েই এই ভাটি বাংলা। হাওর অধ্যুষিত ভাটি বাংলার মানুষের একমাত্র জীবিকা বোরো ফসল। একটি ফসলের উপর হাওরবাসি সারা বছর নির্ভর করে থাকে। আকস্মিক বন্যায় মধ্য চৈত্রতে চলতি বছর হাওর অঞ্চলের কৃষি জমি ও কৃষি উৎপাদন পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। ঠিকাদারদের অবহেলায় হাওরাঞ্চলের বাঁধগুলো সঠিকভাবে নির্মিত হয়নি। বন্যা মৌসুমের অনেক আগেই ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যের মাত্রাতিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি অপেক্ষাকৃত নি¤œাঞ্চল বাংলাদেশের হাওরে চলে এসেছে আকস্মিকভাবে। হঠাৎ করেই একের পর এক হাওর পানির নিচে তলিয়ে গেল পাহাড়ী ঢলে। বোরো ধান পাঁকার আগেই কৃষকরা সর্বসান্ত হয়ে যায়। কৃষকরা তাদের শষ্য রক্ষার জন্য প্রথমে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কর্মীদের নিয়ে আমরাও তাদের পাশে দাড়াই। কিন্তু পানির ঢলে সব ফসলি জমি তলিয়ে যায় একপর্যায়ে। গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপি ও কেন্দ্রে বিষয়টি চলে আসে। হাওরের ইস্যুটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। হাওরের বরপুত্র মহামান্য রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ তিনদিন হাওরে ছিলেন ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য। হাওরবাসীর ক্রন্দন তিনি কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন। দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের  মন্ত্রী মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মায়া হাওরাঞ্চলে পরিদর্শনে যান একপর্যায়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জের দূর্গত মানুষের পাশে গিয়ে ত্রাণ-সহযোগিতা ও সাহস যুগিয়েছেন। বিপন্ন মানুষের অসহায়ত্বে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। সাল্লা পরিদর্শনের মাত্র দুই সপ্তাহ পর গতকাল ১৮ মে ২০১৭ নেত্রকোণার খালিয়াজুরিতে দূর্গত মানুষের জীবনপ্রণালী ও জীব বৈচিত্র্যময় বিস্তৃত হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাল্লা থেকে খালিয়াজুরির দূরত্ব মাত্র ৭ মাইল। দুটি হাওরের ব্যবধান কম হলেও বিস্তৃত জলরাশির মানুষগুলো প্রাকৃতিকভাবেই খুবই বিপন্ন আজও বিচ্ছিন্ন জনপদের বাসিন্দা। বর্তমান সরকার শুধু বিপন্ন অবহেলিত কৃষককূলের কৃষি ঋণই মওকুফ করেনি বরং প্রতিটি হাওরবাসীর জীবনধারণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আগামী ফসলের মৌসুমে স্বল্প সুদে যেন কৃষক সমাজ আবারো কৃষি ঋণ পায় সরকার তার প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার ইস্যু করেছে। সরকারের তফসিলি ব্যাংগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে কৃষক সমাজ তার প্রাণশক্তি খুঁজে পেয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করবে সরকার আসন্ন মৌসুমে। আগামী ফসল কৃষকের ঘরে না পৌঁছা পর্যন্ত সরকার ত্রাণ সরবরাহ চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কৃষক পরিবারগুলোকে। ন্যায্যমূল্যে চাল বিতরণ চলছে প্রতিটি ইউনিয়নে। অন্যদিকে ওএমএস ডিলারশিপের মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোতে খুচরা বাজার মূল্যে হাওর জনপদের মানুষের কাছে চাল পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। হাওরের মানুষ দুর্বিষহ এই পরিস্থিতিতিতেও অভুক্ত নয়। শুধু মানুষের পাশেই সরকার দাঁড়িয়েছে তার কিন্তু নয়। সরকার গবাদি পশুর খাদ্যও সরবরাহ করছে। মৎস্যজীবিদের জন্য নতুন নতুন কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। ৫০ হাজার মৎস্যজীবির অনুকূলে বাৎসরিক কার্ড ইস্যু হচ্ছে। হাওর জনপদের অসহায় মানুষ সারাজীবন শেখ হাসিনার উদ্যোগকে স্মরণ করবে। হাওরবাসী বঙ্গবন্ধুর ছায়াতলে থেকে সারাজীবন সমর্থন যুগিয়েছে। বঙ্গবন্ধুও হাওর জনপদের মানুষদের ¯েœহের বন্ধনে আবদ্ধ রেখেছিলেন। একইভাবে শেখ হাসিনাও হাওরবাসীর হৃদয় জয় করেছেন। চক্রবৃদ্ধি সুদের ফাঁদে ফেলে কিছু এনজিও কৃষককূলকে সর্বসান্ত করে চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বারবার তাদের হুশিয়ার করা হয়েছে। বিপন্ন মানুষগুলো যাতে তাদের হাতে আর অবহেলিত না হয় সেজন্য সরকার সতর্ক রয়েছে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ সংসদে আপনি প্রস্তাব রেখেছেন হাওর অঞ্চলকে মেগা প্লানিং এর অন্তর্ভূক্ত করার জন্য। বিষয়টি কিভাবে বাস্তবায়িত হবে?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ হাওর জনপদের মানুষের রায়ে বারবার আমি নির্বাচিত হয়েছি। সংসদে আমি বারবার হাওরবাসীর দুঃখ-দূর্দশার কথা উত্থাপন করেছি। সরকার নানামুখি পরিকল্পনা গৃহিত করে চলেছে। সরকার হাওরবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেছেন হাওর ও নদীগুলো ড্রেজিং এর জন্য এখন উপযুক্ত। তাদের পানি ধারণ ক্ষমতা নেই। এজন্য ড্রেজিং এর বিকল্প নেই। খাল-বিল-জলাশয়গুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খননকাজ শুরু করবে সরকার। অপরিকল্পিত রাস্তাঘাটগুলো যেনো পানিতে তলিয়ে না যায় সে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। দূর্নীতিবাজরা সরকারের অর্থ লুট করে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি করেছে অতীতে। তারা বিপন্ন কৃষককূলকে আরো অসহায়ত্বের পথে ঠেলে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবে সরকার। তাদের বিচারের কাঠগরায় দ্বার করাবে সরকার। হাওরবাসীকে এক ফসলী কৃষিতে নির্ভরশীল থাকলেই চলবে না। হাওরাঞ্চলে ইকোনমিক জোন গড়ে তুলবে সরকার। সেখানে শিল্পায়নের প্রসার ঘটাতে হবে। মানুষের জীবিকাকে সরকার সম্প্রসারিত করার কথা ভাবছে। হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে ঢাকা থেকে সরিয়ে সালনার মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে। হাওরের সদর দপ্তর হাওরাঞ্চলেই হতে হবে। হাওরবাসীর প্রকৃত কল্যাণ হাওরবাসীর প্রধান দাবী। এখানে প্রাণীজ সম্পদ রয়েছে। মৎস্য ভান্ডার রয়েছে। মৎস্য ভান্ডারের সংস্কার জরুরী। চিংড়ি ও শামুকের উৎপাদন বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আগামীতে আরও শক্তিশালি করে তুলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। রপ্তানিমুখি প্রাণীজ সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি সরকারের মূল টার্গেট। অনেক দেশে মিঠা পানি নাই। আমাদের এত মিঠা পানি সমুদ্রে গিয়ে নোনা জলে মিশে যায় সেই হিসেব নেই আমাদের কাছে। বাংলাদেশ এই পানি বিশুদ্ধ করে বিদেশে রপ্তানি করলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। ভাটি অঞ্চলে কোটি মানুষের বসবাস।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ জাতীয় নির্বাচন বয়কট করার বিষয়টি জনগণ কিভাবে ব্যাখ্যা করে বলে আপনার ধারণা?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ ক্ষমতায় যাবার একমাত্র পথ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমেই কোন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় যেতে হয়। এর বিকল্প কোন পদ্ধতি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নেই। শুধুমাত্র ২০১৪ সালেই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট করেনি। ১৯৭০ সালেও সারা পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আওয়ামী লীগ যখন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিল তখন ভাসানী ন্যাপ নির্বাচন বয়কট করে বলেছিল, “ভোটের বাক্সে লাথি মার।” যারা নির্বাচনে আসেনি সেদিন তারা কালের প্রবাহে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। যারা আগামীতেও নির্বাচনে আসবে না তারাও কালের যাত্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। নির্বাচন রাজনৈতিক দলের অপরিহার্য একটি অধ্যায়। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পালাবদল হবে চিরকাল। এই দেশে পাকিস্তানীপন্থি ভাবধারার গায়েবী সরকার বারবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছিল।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ ম্যাডাম খালেদা জিয়া সম্প্রতি রংধনু রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে। এ ব্যাপারে আপনার কি ধারণা?
মুহিবুর রহমান মানিকঃ রংধনুতো হঠা হঠাৎ দেখা যায় আকাশে। হঠাৎ কোথা থেকে রংধনুর স্বাদ জেগেছে খারেদা জিয়ার সেটা বোধগম্য নয়। রাজনৈতিকভাবে তারা দীর্ঘদিন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনে তারা যায়নি এবং জনগণকে তারা আহ্বান জানিেেছ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য। নির্বাচন প্রতিহত করার চূড়ান্ত ব্যবস্থা তারা নিয়েছিল ২০১৪ সালে। তারা সেটাতেও ব্যর্থ হয়েছিল। জীবন্ত মানুষ পুড়িয়েছে তারা। শুধু মানুষ নয় ট্রাক বোঝাই গরুও তারা পুড়িয়ে দিয়েছিল। তারা দশম জাতীয় সংসদকে ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিল আন্দোলন ডেকে। তারা ২০১৫ সালেও ব্যর্থ হয়েছিল। বতৃমান সংসদ প্রায় চার বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে চলছে। সংবিধানের শর্ত অনুযায়ী সঠিক সময়েই আগামী নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনাই মানুষের রায় পাবেন। তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বেগম খালেদা জিয়াকেও নির্বাচনে আসতেই হবে।
লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
মুহিবুর রহমান মানিকঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।



এই প্রতিবেদন টি 497 বার পঠিত.