বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে দেশে কাউনডাউনের ব্যবস্থা থাকবে: তারানা

সরকার ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন এর কাছে আবেদন জমা দেয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার নয় শ উনসত্তর কোটি টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, ৯ নভেম্বর এই স্যাটেলাইটটি সরবরাহ করবে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এরপর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম হবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম বা শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করতে পারেন।

স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লোরিডায় যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সে সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইছেন, দেশে থেকে দেশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ একসাথে ভাগাভাগি করার। ‘সেজন্য তিনি দেশে বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন। শুধু তাই নয়, রাজধানীসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় কাউনডাউনের ব্যবস্থা থাকবে। প্রজেক্টরে এর উদ্বোধন কার্যক্রম দেখানো হবে। উদ্বোধনের পরে মানুষের যে প্রতিক্রিয়া হবে সেটিও সেখানে দেখানো হবে। কারণ এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। দেশের মানুষ ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে’-বলেন তারানা হালিম।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখটা নির্ভর করছে আবহাওয়ার উপর। কারণ এটি যখন উদ্বোধন করা হবে তখনকার আবহাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে ফ্লোরিডার আবহাওয়া কেমন থাকবে তার উপর নির্ভর করেই তারিখ নির্ধারণ করা হবে। আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চলে যেতে পারে।’ ডিসেম্বরে উদ্বোধনের জন্য যেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকে সেজন্য সবার দোয়াও চান তারানা হালিম।

আগামী ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, ‘সপ্তাহে এই স্যাটেলাইটের মুল কাজ শেষ হয়েছে। এখন বলা যায় এর জন্ম হয়েছে।’  সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম এ তথ্য জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স ও ফ্যালকন ৯ উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হবে। দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে সরকার। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় দুই কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে এ স্লট। এখানেই মহাকাশে ঘুরে ঘুরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ বাংলাদেশকে সেবা দিয়ে যাবে।

চুক্তি অনুসারে প্রাথমিকভাবে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে। তবে ১৫ বছর করে আরও দুবার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্যাটেলাইটের মূল অংশ তৈরি, উৎক্ষেপণ, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ ও বিমার কাজ চলছে। উৎক্ষেপিত হওয়ার পর বাংলাদেশকে চল্লিশ ধরনের সেবা দেবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। দেশের ইতিহাসের প্রথম এই স্যাটেলাইটের সহায়তায় দেশের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সরকার।

স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সরকার। উৎক্ষেপণের পর ‘ট্রান্সপন্ডার লিজের’ মাধ্যমে বছরে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে এবং ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে বিনিয়োগের অর্থ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

 



এই প্রতিবেদন টি 230 বার পঠিত.