নাসরীন জাহান এর প্রেমিক

আমার এলাকার এক মাস্তান ছোটবেলা থেকেই আমাকে পছন্দ করতো। আমাকে চোখে চোখে রাখতো বলে অসহ্য লাগতো। আমি যেহতু লেখাপাগল সে চিরকুট পাঠালো,”স্বর্গ হতে আসে প্রেম স্বর্গে যায় চলে “তার লেখা।
সেও আমার জন্য লেখক হবে।
আরেক নিভৃতচারী প্রেমিক নিঃশব্দে যেখানে যাই, সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। ওর আচরণ ভালো লাগতো আমার।
একদিন আমি ডান হাতে স্কার্ফ উড়াতে উড়াতে নিমগ্ন হয়ে চলছি,ছেলেটা স্বভাব বিরুদ্ধভাবে আমার স্কার্ফটা নিয়ে নিলো। বুঝলাম,আমার স্মৃতি রাখতে নিয়েছে।
কিছু পরে সেই মাস্তান ছুটতে ছুটতে হাজির আমার স্কার্ফ হাতে,আব্বার সামনে আমাকে কাঁপিয়ে সেই ছেলেকে থাপ্পড় দিয়ে কিভাবে এটা উদ্ধার করলো জানালো। আব্বা গম্ভীর হয়ে গেলেন তাতেই আমি নুন দেয়া কেঁচো।
কেন স্কার্ফ উড়িয়ে যাচ্ছিলাম, এ নিয়ে আব্বা মা,কে আমার ব্যাক্তিত্বের দিকে খেয়াল দিতে বলতেন।
প্রায়ই মারপিট এর কথা শুনতাম। বলতো আমি রাজি হলে ভালো হয়ে যাবে।
অনেকবার অনেকভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেছে সে,আমি একঠায় বলতাম,লেখক ছাড়া কাউকে বিয়ে করবোনা।
আমার হাজব্যান্ড আমার শহরে আসা যাওয়া শুরু করলো। বন্ধুরা আশরাফ কে বলতো, প্রাণ নিয়ে ঢাকায় ফিরবি তো?
কিন্তু আশ্চর্য, যে সে চুপ হয়ে গেলো, শুনলাম কাকে বলছে,লেখক ছাড়া বিয়ে করবেনা,কি করা।
একদিন আমি আর আশরাফ রিক্সা দিয়ে ফিরছি, শুনি দোতলার বারান্দা থেকে বলছে “হায় আমার বাগানের ফুল নিয়ে যায় অন্য বাগানের মালি”।



এই প্রতিবেদন টি 382 বার পঠিত.