চাঁদপুরের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বিদ্যাপীঠের গল্প (ভিডিও)

রিফাত কান্তি সেনঃ  ‘আমি বাবা মায়ের শত আদরের মেয়ে,আমি বড় হয়ে সকলের ভালবাসা নিয়ে আমার ও সাধ আছে, আছে অভিলাষা। ঘরে বেঁধে রেখো না নিয়ে যাও এগিয়ে। শিক্ষা আমায় মুক্তি দেবে, মুক্তি দেবে।’মিনার কার্টুনে শিক্ষাকে এভাবেই তুলে ধরা হয়েছিলো।শিক্ষাই মানুষকে মুক্তি দেয়।মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম একটি হলো শিক্ষা।কিন্তু সেই গ্রহনে এতটা বেগ পেতে হবে সেকথাটি হয়তো কখনোই ভাবেননি কোমলমতী এসব শিশুরা।চাঁদপুর বড় স্টেশন মোল হেডের পাশে    রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনের একটা ভাঙা, পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এর বারান্দায় পাঠ কার্যক্রম পরিচালিত হয় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের।পাঠকার্যে সহায়তা করে কয়েকজন তরুন -তরুনী। পূজা,দীপংকর,এবং ফারিয়াদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল এই বিদ্যানিকেতন।হাসি -গান,শিক্ষা, সংস্কৃতি সবই মিশে আছে স্কুলটিতে-শুধু নেই ধনীর দুলাল-দুলালী।

২০১৬ সালে খোলা আকাশের নিচে পাঠ কার্যক্রম দিয়ে শুরু হয় ভ্রাম্যমান এই বিদ্যালয়টির।কলেজ পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অবিরাম বিদ্যা বিলানোর কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।

বিদ্যালয়টিতে ২৫ এর উপর সুবিধা বঞ্চিত শিশু পাঠ অনুশীলন করে।একজন শিশুকে শিক্ষার যে প্রথম হাতেকড়ি তা ই বিদ্যালয়টিতে দেয়া হয়।পরবর্তীতে এস শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাপীঠে ভর্তি করানো হয়।

কলেজ পড়ুয়া সেসব শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয় আমাদের।তারা বলেন”আমরা ছিন্নমূলে বেড়ে উঠা শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায়ের ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর।”
শিক্ষা মানুষের মনের অন্ধকারকে দূর করে।আবার শিক্ষাই মানুষকে অন্ধ করে তুলে।সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যদি শিক্ষার্জন করা হয় তবে সে শিক্ষা যেনো সুশিক্ষা হয় সেটাই কামনা।
সবাই যখন ব্যস্থ নিজ স্বার্থ নিয়ে, তখন আমরা ব্যস্থ প্রতিভা খোঁজার অন্বেশনে।

আমরা জানতে পারি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন কয়েকজন তরুন-তরুনী।
শুনেই আমরা ছুটে যাই সেই স্কুলটিতে।

প্রিয় দর্শক আমরা আপনাদের আজ একটি স্কুলের গল্প শুনাবো। তবে এ স্কুল অন্য দশটি স্কুলের মত নয়।এখানে পড়েন সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা।যারা দারিদ্রতায় পোর্ষাঘাতে ধুঁকে,ধুঁকে মরে অবশেষে শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকার থেকে বিচ্যুত হয়।

আমরা একটি স্কুলের গল্প শুনাবো বলে ঠিক করেছিলাম।সেই ধারাবাহিকতায় পূজাশ্রী সাহা নামে একজন তরুনী উক্ত স্কুলের সন্ধান আমাদের দেন।

তার দেখানো পথ ধরে আমরা পৌছে যাই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাঠশালায়।

মাধুরী,পূজা,দীপংকর,হাবিব,আলামিন ও ফারিয়াদের অক্লান্ত পরিশ্রমের গড়ে উঠা ছাদহীন বিদ্যা নিকেতন এটি।
কখনো গাছতলায় আবার কখনো কোন ভবনের বারান্দায় পাঠ কার্য চলে তাদের।
ছবির দৃশ্যটি চাঁদপুর বড় স্টেশন রেলওয়ে কোর্ট সংলগ্ন একটি ভবনের বারান্দার।

আজ প্রামাণ্য চিত্রে উক্ত স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্কুল উদ্যেগক্তাদের গল্প দিয়েই সাজানো। আমরা আজ তাদের মুখেই শুনবো তাদের স্কুলের গল্প।



এই প্রতিবেদন টি 740 বার পঠিত.