সাভারে হকারদের টাকায় মন্ত্রীর অভ্যর্থনার আয়োজন :লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী

সাভার, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

sabarসড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এলেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিশেষ জায়গায় সংস্কারের প্রলেপ পড়ে। শুধুমাত্র মন্ত্রীকে সন্তষ্ট করার কারণে রাস্তা সংলগ্ন ফুটপাত এর কিছু অংশ দখলমুক্ত করা হয়। তাও আবার বুলডোজার ভাড়া করে। অথচ কথা ছিল সকাল থেকে বুলডোজারটি কাজ করবে এবং বাজার বাসস্ট্যান্ডের ৫ শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করবে। কিন্তু ঘটনাটি রহস্যের জাল বুনে যখন সময় দিয়েও বুলডোজারের দেখা পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার  বেলা ১২ টায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সিটি সেন্টারের সামনে নির্মিত দ্বিতীয় ফুটওভার ব্রীজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। আর সেই ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশেই হকার্স লীগের সৌজন্যে মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ঝুলছে বিশাল আকৃতির ব্যানার। মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফুটপাত দখলে রাখা হকারদেরদের নিকট থেকে   চাঁদা তুলে তৈরী করা হয়েছে এ ব্যানার ফ্যাস্টুন। মন্ত্রীর আগমণকে দৃষ্টি নন্দন ও সফল করতে তারাই মন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দিবে। হকারদের উচ্ছেদ না করতেই এই চাঁদাবাজীর আয়োজন বলে মন্তব্য করেন হকার দোকান মালিকদের এক নেতা। এ ছাড়াও হকারদের মহাসড়কের পাশ থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ না করতেও মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের সাথে। জানা যায়, মন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে লাখ টাকার চাঁদাবাজী হয়েছে ভাসমান হকারদের কাছ থেকে। যদিও অবৈধভাবে সড়ক ও জনপথের জায়গায় ভাসমান হকাররা টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

> কলেজ ছাত্র রবিউল ইসলাম ব্যানারটি দেখিয়ে বললেন, যারা ফুটপাত দখল করে আমাদের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে রাখেন তারাই বিশাল ব্যানার টানিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন মন্ত্রীকে। এ কারণেইতো দেশে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। হবেই বা কি করে! শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়ে মুরগি চেয়ে যা হয় তাই হবে এখানে, এভাবেই নিজের ক্ষেদোক্তি প্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ইব্রাহিম। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের বুলডোজার দেখিয়ে এমনটাই বলছিলেন অফিস ফেরত কর্মজীবী ইয়াসিন সিকদার। তিনি বললেন, মন্ত্রী এতো দৌঁড়ঝাঁপ করেন। একদিন তো গণপরিবহনে উঠতে পারেন। কিংবা কোনো প্রটোকল না নিয়েই আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পারেন সড়কের হাল। তবেই না বুঝতেন, আমরা কতোটা দুর্ভোগ আর কষ্ট নিয়ে নিত্য চলাফেরা করি। তার এ কথার সঙ্গেই সুমন পাটোয়ারি, হাসান মুন্সীর মতো কর্মজীবীদের আরো অনেকেই দাঁড়িয়ে যান আশ্বিনের বিকেলের কড়া রৌদ্রের মধ্যে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে। সবাই সমস্বরে বলতে থাকেন, মন্ত্রী এলেই সব সাজানো গোছানো, চকচকে ঝকঝকে! আর চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে আসে আগেকার নিত্য দুর্ভোগ। দখল হয়ে যায় পথচারী চলাচলের ফুটপাত। কর্মজীবী এসব মানুষের বক্তব্যের মিল পেতে বেশিদূর যেতে হয় না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভাড়া করা বুলডোজারই বলে দেয়, মন্ত্রীর আগমনী বার্তা। আর এ বার্তার জন্যেই যেন পথচারীরা প্রতিদিন মন্ত্রীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ব্যস্ততম সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে। গতকাল সোমবার বাসস্ট্যান্ডে ভাসমান উচ্ছেদ অভিযানের বিষয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় দিয়েও শেষ বিকেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মতৎপরতার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের চেষ্টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডের আংশিক ভাসমান বাজার উচ্ছেদ এর পর এখন যানজটমুক্ত। বুলডোজারের আঁচড়ে মুক্ত হয়েছে নবনির্মিত ফুট ওভার ব্রিজ সংলগ্ন ফুটপাত। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ মাছের বাজার।

> ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, আমরা সড়ক পরিচ্ছন্ন করতে চাই। ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে চাই। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন যেভাবে বলেন তার বাহিরে তাদের করণীয় কিছুই থাকে না। ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধনকে ঘিরে আমরা বাজার বাসস্ট্যান্ডকে পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করতে চাই। কিন্তু  হকার লীগ যুবলীগ ও বিভিন্ন লীগদের দখলে থাকা ফুটপাতের অংশ দখল মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

> এ ব্যাপারে হকার সমিতির সূত্রে জানা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময় সড়ক ও জনপথ ভাসমান বাজারকে তাদের (সড়ক ও জনপথের) স্থানে থাকার বৈধতা দিচ্ছে। কতোদিন এ পরিস্থিতি বজায় থাকবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেবলমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর প্রশাসনিক তদারকি হলেই এটা সম্ভব। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজের তদারকিতে ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান মোল্যা। তিনি বলেন, সদ্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ ঘিরে ৬০টির মতো ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা আমরা উচ্ছেদ করেছি। বাজারের ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি এ পরিস্থিতি বজায় রাখতে। নইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে তাদের। তিনি বলেন, বুলডোজারের আঘাতে অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর রুটি রুজিতে আচঁড় লেগেছে। বিষয়টি অমানবিক। তবে তাদের কাছে যারা এই ফুটপাত অবৈধভাবে ইজারা দেন তারা কিন্তু থাকছেন পর্দার বাইরে। হয়তো পর্দার বাইরে থাকা এসব লোকরাই থাকবেন মন্ত্রীকে ঘিরে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করবেন মন্ত্রীর উদ্বোধনস্থল। আর এ দৃশ্যই চলবে দিনের পর দিন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ফিরে যাবে চিরচেনা বাজার বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাত দখল আর ময়লা আবর্জনার জঞ্জাল-এমনটাই আক্ষেপ করছিলেন সোহরাব হোসেন নামের নাগরিক কমিটির এক নেতা।

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি



এই প্রতিবেদন টি 443 বার পঠিত.