কত রবি জ্বলেরে, কে বা আঁখি মেলে রে

ak khondokarসরওয়ার আহমদ
“হাঁড়ি কাটা” ঘাসের মূলোৎপাটন করা গেলেও মূলের যে ক্ষুদ্র অংশ মাটির সাথে মিশে থাকে, সেই অংশ থেকে ক্রমশ উক্ত ঘাসের অঙ্কুরোদগম ঘটে ফের ঝাঁড়ে পরিণত হয় মৌসুমী আবহের কারণে। এটাই হচ্ছে বাংলার মাটির মহিমা। মাটির সাথে বোধহয় এদেশীয় রাজনীতির একটি যোগসূত্রতা আছে। ফলে রাজনৈতিক ভাবে মীমাংসিত বিষয়ও নতুন আঙ্গিঁকে ঝাঁড় বেঁধে মাঠগরমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে নতুন করে জেগে উঠা বিতর্কই হচ্ছে তার উদাহারণ। ‘এতোক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে’র মতো স্বাধীনতা প্রাপ্তির চারদশক পর মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ এ.কে.খন্দকার সাহেব লিখিত ভাবে জানান দিয়েছেন- বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি। তার সাথে যুক্ত করেছেন আওয়ামীলীগের দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্ত্তাব্যক্তিদের নানামুখী অনীহার কথা। খন্দকার সাহেবের বই প্রকাশের আগে তারেক রহমান লন্ডনে যে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন- তাহাও একই মুদ্রার এপিট ওপিট সমতুল্য। এ ধরনের প্রচারণা স্বাধীনতা প্রাপ্তির উষালগ্নে জমে উঠেছিলো। এতদ্দেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী মহল বাংলাদেশী স্বাধীনতার নানান কল্পিত অবয়ব একেঁ ভবিষ্যত বাণী করেছিলো; ভারতের দৌলতে প্রাপ্ত এ স্বাধীনতার আয়ুষ্কাল এক দশকও অতিক্রম করবেনা। সিকিম কিংবা ভুটানের ভাগ্যবরণ করবে এদেশ। তাদের মুখে ছাঁই ফেলে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ কেবল চার দশকের আয়ুষ্কালই উত্তরণ করেনি, বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে তার বৈজয়ন্তী উড্ডীন করেছে স্বমহিমায়। এই দেশে বসবাস করেও দেশের এই অগ্রযাত্রাকে স্বাধীনতা বিরোধী মহল ও তাদের বেদুইন উত্তরাধিকারী চক্র হজম করতে পারছে না। দেশীয় স্বাধীনতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে ধূম্রজাল সৃষ্টির প্রয়াসে লিপ্ত আছে বৈকি। অলীক কিংবা ভিত্তিহীন বিতর্ক সমূহের সূত্রপাত ঘটেছিলো ১৯৭১ সনেই। সেই পুরনো ও ভাঙ্গাঁ রেকর্ডকে অবলম্বন করে বক্তা বা উপস্থাপকের আর্বিভাব ঘটছে নতুন আঙ্গিকে। ১৯৭১ সনে সম্ভবত আগষ্ট মাসে জামায়াত নেতা গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডি গমন করে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন- নির্বাচিত এবং সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষনা তার নিজ মুখে দেননি। তার সমর্থক এবং ভারতীয় চরেরা বিদ্রোহী হয়ে মেকী স্বাধীনতা যুদ্ধে নামে দেশাভ্যন্তরে ধ্বংসাতœক কার্য্যকলাপ চালাচ্ছে। এর একটি সুরাহা রাজনৈতিক ভাবে করতে হবে। সমসাময়িক কালে খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ এবং তার অনুসারী মহল কলকাতা এবং আগর তলাতেও তৎপর হয়ে উঠেছিলো। “জীবন্ত শেখ মুজিব চাও না স্বাধীনতা চাও” এই সুর তুলে একটি রাজনৈতিক রফার মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠনের মতলবে ছিলো মোস্তাক চক্র। সে সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে গোলাম আযম এবং বাংলাদেশের হয়ে খন্দকার মোস্তাক আহমদের মধ্যে কোন অন্তরাল যোগসূত্র ছিলো কি না সেটি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। তবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে খন্দকার মোস্তাক আহমদের চাইতে গোলাম আযমের উত্তরাধিকারী মহল অনেকটাই সুপ্রোথিত। “ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি” গোলাম আযমের এই রাজনৈতিক থিওরী বা সূত্রটিকে মোক্ষম হাতিয়ার গণ্য করে সমমতাদর্শীরা অস্ত্রটি প্রয়োগ করছে বার বার। ২৬শে মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি, একথার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং সংবিধান পরিবর্তন নিয়েও তারা সোচ্চার হয়েছিলো ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবর্তে তারা বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক বলেও গণ্য করতে চেয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ শহীদের রক্ত ¯œাত এ বঙ্গঁভ’মিতে এগুলো বেহুদা আস্ফালন বলেই গণ্য হয়েছিলো।
স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৩ বছর পর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক  কে “ নাহি কাঁজ তো খৈ ভাঁজ” এর সাথে তুলনা করা চলে। ঘোষণা ব্যাতিরেকে একটি দেশকে পরাধীন ব্যক্ত করাটাই কি তবে বিতর্ক সৃষ্টি কারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য? ঘোষণা দিলেই একটি দেশের স্বাধীনতা যদি নিশ্চিত হতো তাহলে ১৮৫৭ সনে স¤্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফর এবং ১৯৩০ সনের মাষ্টারদা সূর্য্যসেনের ঘোষণাতেই ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয়ে যেতো। ১৯৪৭ সনে পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলৈন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। একজন বৃটিশ হয়ে মাউন্ট ব্যাটেন কিভাবে পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে প্রশ্নও তো বেকুবের মতো উথাপন করা যায়। ভারতীয় জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কেনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, সে প্রশ্নও তো উথাপিত হয় নি। ১৯৭১ সনের ২৬ শে মার্চ বঙ্গঁবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষণা নাই দিতেন, তাহলে ২৭শে মার্চ তারিখে বি বি সি সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম কিসের উপর ভিত্তি করে বলেছিলো- শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ সন্ধায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণের একাংশে সদম্ভে বলেছিলেন-…গঁলরন যধং ফবপষধৎবফ রহফবঢ়বহফবহপব ড়ভ বধংঃ চধশরংঃধহ. ঐব রং ঃৎধরঃড়ৎ ঃড় ঃযব হধঃরড়হ. ঞযরং ঃরসব যব রিষষ হড়ঃ মড় ঁহঢ়ঁহরংযবফ. ইয়াহিয়া খানের এ ভাষণের সময় এতদ্দেশীয় পাকিস্তান পন্থী ও নষ্ট বামরা তুফান এড়াতে উঠ পাখির মতো বালিয়াড়িতে কি মাথা গুঁজে রেখেছিলো? পাকিস্তান ও পিকিং পন্থীদের নব্যউত্তরাধিকারী মহল এখন তারস্বরে বলতে চাচ্ছে যে, শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেননি এবং তিনি অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থেকে প্রধান মন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। তাদের মানসিক দাসত্ব প্রকট আকার ধারন করেছে। তাদের এই দাস সুলভ মানসিকতা এবং ঞ্জানের পরিবর্তে মূর্খতার অক্টোপাশ রাজনৈতিক ধূ¤্রজাল ও বিতর্ককে চাঙ্গাঁ করতে পারবে। কিন্তু মন্থনের মালাইর মতো বিতর্ক থেকে আসল সত্যের বহি: প্রকাশ ঘঠবেই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চাননা, বঙ্গঁবন্ধু সেটি ৭ মার্চের ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন। জোড়াতালির পাকিস্তানের প্রতি বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের আকর্ষণে ভাঁটা ধরেছিলো ১৯৫৪ সনের নির্বাচন পরবর্তী কাল থেকে। তাই আয়ুব খান থেকে আরম্ভ করে জুলফিকার আলী ভুট্রো, খান আব্দুল কাইয়ুম খাঁন, মিয়া মোমতাজ মোহাম্মদ দৌলতানা, নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান মুফতি মাহমুদ, মাওলানা আব্দুল আলা মওদুদী, শাহ আহমদ নূরানী সহ পশ্চিম পাকিস্তানের বড় মাপের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের নামের পেছনে বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমাটি জুড়ে দিয়েছিলো। তাদের অনুসারী এতোদ্দেশীয় নেতৃবিন্দের সবাই একই ভাষায় অভিযোগ আনতে কসুর করেনি। ৭০ সনের নির্বাচনের প্রচারণা কালে সবাই এক বাক্যে হুসিয়ারী উচ্চারণ করেছিলো- শেখ মুজিবের দল ভোটে জিতলে পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। তাদের মুখে অতি অবশ্যই ফুল চন্দন পড়েছিলো। নির্বাচনী ফলাফল অনুসারে আওয়ামীলীগ একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ট দলের অধিকারী হয়ে উঠেছিলো। এমতাবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দায় দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছিলো। রাজনৈতিক ভাবে দরকষাকষির ক্ষেত্রে যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগটি প্রচ্ছন্ন হয়ে না উঠে, সে মোতাবেক তাকে কথা বলতে হয়েছিলো মাপ জোঁকের সাথে। সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো সুক্ষ ও দূরদর্শিতার আলোকে। পাকিস্তানের খসড়া শাসন তন্ত্রও রচনা করেছিলো আওয়ামীলীগ যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ না আসে , এ লক্ষে। ভুট্রোর দল ছাড়া পাকিস্তানের নির্বাচিত এম.এল.এ দের সাথেও আলাপ আলোচনা চালিয়েছিলেন বঙ্গঁবন্ধু শুধু  নিয়ম তন্ত্রের আলোকে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যখন ৩ মার্চের সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা দেন, তখন গোটা পূর্ব বাংলা আক্রোশে ফুঁসে উঠেছিলো। এ সময় পার্শ্বচাপের বশে ১ মার্চ অথবা ৭ মার্চে বঙ্গঁবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষনা নিজমুখে দিতেন, তাহলে শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও তিনি বিচ্ছন্নতাবাদী বলে গণ্য হতেন। অন্যদিকে হটকারী নির্দেশের আলোকে কয়েক লক্ষ নিবেদিত প্রাণের রক্তবন্যায় স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিমুর্ত সত্বাটির অকাল সমাধি রচিত হতো। বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে তাকেও ফাঁসিকাষ্টে ঝুলতে হতো। তাই বঙ্গঁবন্ধু কৌশলী ভ’মিকায় অবতীর্ন হয়ে একদিকে ঘমায়মাণ আক্রমন প্রতিরোধের প্রস্তুতির পাশাপাশি সমঝোতার জন্য আলোচনাার দুয়ার খোলা রেখেছিলেন। আলোচনা ব্যর্থ হলে শাসক চক্র  আগ বেড়ে আঘাত করুক, তারপরই প্রতিরোধ তথা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবে, এটাই ছিলো বঙ্গঁবন্ধুর অভ্রান্ত সিদ্ধান্ত। ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রে হানাদার বাহিনী যখন অপারেশন সার্চলাইটের নামে পূর্ব বাংলার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো, তখনই প্রতিরোধের ঢঙ্কা বেজে উঠেছিলো। এ প্রতিরোধের নেপথ্যে কি নির্দেশনা সহ প্রস্তুতি ছিলো না? ১৯৮৮ সনের এক সাক্ষাতকারে হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক টিক্কা খান গণ হত্যাকে অস্বীকার করে বলেছিলেন- আমাদের উপর আঘাত আসার পর আমরা শুধু প্রত্যাঘাত করেছিলাম মাত্র। নিরাভারণ এ স্বীকারোক্তিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী খালি মাঠে খেলেনি। প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষ ও ছিলো। এ প্রতিরোধ আসমান থেকে আসেনি। এ দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষ থেকেই গড়ে তোলা হয়েছিলো। বস্তুত: এ প্রতিরোধের মানসিকতা একদিনে তৈরী হয়নি। এ জন্য জাতিকে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হয়েছিলো। মুহুর্তের ঘোষনায় একটি জাতি কখনও কোথাও প্রতিরোধ তথা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার নজির এ বিশ্বের কোথাও নেই। যারা সাফাই গেয়ে এই সত্যটুকু প্রতিষ্টিত করতে চান যে ২৭ মার্চ তারিখে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার ঘোষনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গোটাজাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো, তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি ভিন্ন এবং মতলব ও আলাদা। এ প্রসঙ্গেঁ আসার আগে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ২৭ মার্চের জিয়ার ভাষণের আগ থেকে অর্থ্যাৎ ২৫ মার্চ রাত থেকেই ঢাকায় এবং চট্রগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। ২৬ মার্চ তারিখে দেশের অন্যান্য জেলা ও মহকুমা সদরে প্রতিরোধের ডঙ্কাঁ বেজে উঠেছিলো পূর্ব প্রস্তুতির আলোকে। এদিকে ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্য্যন্ত মেজর জিয়া কালুর ঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে পরিবর্তিত ও বিতর্কিত ঘোষনা অব্যাহত রাখলেও ৩১ মার্চ পর্য্যন্ত তার নিয়ন্ত্রিত ৮ম ইষ্টবেঙ্গঁল  রেজিমেন্ট কোথাও যুদ্ধ করেছে এমন নজির খোঁজে পাওয়া যায় নি। এসময় মেজর রফিক নিয়ন্ত্রিত ই পি আর বাহিনী হানাদার বাহিনীর সাথে জানবাজী যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো চট্রগ্রামে বিভিন্ন পয়েন্টে।
ফের আসা যাক কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘোষনার ব্যাপারে। এটি ছিলো চট্রগ্রাম বেতারের একটি উপ কেন্দ্র। ২৬ মার্চ তারিখেই বেতারের কিছু কলাকুশলী এ উপকেন্দ্রটি চালু করেছিলো। ১ কিলোয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বেতার কেন্দ্রটির ট্রান্সমিশসের ফ্রিকোয়েন্সী ছিলো দশ কিলোমিটার। তার বাইরে বেতার কেন্দ্রটির প্রচারণা স্পষ্ট ছিলো না। সে সময়ে ঘরে ঘরে রেডিওর উপস্থিতি ও ছিলো না। গ্রাম হাটলে বড়জোর ২/৩ টি রেডিওর উপস্থিতি খোঁজে পাওয়া যেতো। সদ্য চালু হওয়া বেতার কেন্দ্রর ঘোষনা চট্রগ্রাম এবং সন্নিহিত অঞ্চলের তাবৎ মানুষ শুনেছে এমনটিও বলা যাবে না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্টার সাক্ষীগোপাল হিসাবে এ ঘোষনার শ্রবণকারী সীমানার বাইরেও অনেকে দাড়িয়ে ছিলেন। প্রাসঙ্গিঁক যে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ মার্চের আগ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো । হানাদার বাহিনীর আক্রমনের মুখে  চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ.আর মল্লিক সহ অধিকাংশ শিক্ষক  তখন আত্মরক্ষার্থে কোলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। প্রাণ রক্ষার্থে অনুগামী হয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আলী আহসানও। অন্যান্য শিক্ষকরা না শুনলেও তিনি নাকি কোলকাতায় বসে জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জিয়ার ভাষণ কোলকাতা পর্য্যন্ত ধাবিত হলে , আকাশবাণীর ফ্রিকোয়েন্সীতে তাহা ইন্টারসেপ্ট হলোনা কেনো? সে সময়ে আকাশবাণী রওশন আরা নামীয় এক কল্পিত মহিলাকে আবিষ্কার করে তার দ্বারা ঢাকাতে হানাদার বাহিনীর ট্যাংক ধ্বংসের খবর যেখানে বারংবার প্রচার করেছিলো, সেখানে জিয়ার ভাষণটি হতে গেলে অস্ত্র হিসেবে সেটি পুন:প্রচার করে বাজীমাৎ করে ফেলত। তবে কি এসময় সৈয়দ আলী আহসানের কর্ণকুহর অতিমাত্রায় কাজ করেছিলো, এবং আকাশবাণী “হাটকাল” হয়ে পড়েছিলো। এ প্রশ্নের উত্তর না মিললেও সৈয়দ আলী আহসান কোন কননের ফুল ছিলেন তাহার সন্ধান পরবর্তীতে মিলেছে। আরেক সাক্ষীগোপাল হচ্ছেন রাজনৈতিক ¯্র্েরাতের ভাসমান ভেলার নাবিক অলি আহাদ। ভাষা আন্দোলন ব্যাতিরেকে অন্যান্য রাজনৈতিক আন্দোলনে মরহুম অলি আহাদের অবস্থান ও তৎপরতা ছিলো মূলধারার সাথে সঙ্গঁতিহীন। ৭১ সনে ভারতে গমন করে মুক্তিযুদ্ধের পরিবর্তে যুক্ত   বাংলার স্বাধীনতার ব্যপারে তৎপর হয়ে কোন সায় না পেয়ে ফের ঢাকাতে চলে এসেছিলেন। আপন ছোট ভাইয়ের শ্বশুর নুরুল আমীনের কৃপাগুনে সে সময়ে অলি আহাদের গায়ে কোন আচড় লাগেনি। খান সেনাদের হিটলিস্টের মধ্যে আতাউর রহমান খান, অলি আহাদের নাম থাকলেও কোন রফার সুবাদে তারা অক্ষত ছিলেন, এবং একই ধারার আবুল মনসুর আহমদের উপর থেকে খান সেনাদের শ্যেন দৃষ্টির কিভাবে পরিবর্তন ঘটেছিলো তাহা এখন পর্য্যন্ত রহস্যের বেড়াজালে আবদ্ধ রয়ে গেছে। অবশ্য এই তিন নেতার সহগামী শাহ আজিজুর রহমানের ভূমিকা স্পষ্টই ছিলো। তো, অলি আহাদ সাহেব ২৭ মার্চ রাতে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার সাহেবের বাসায় অবস্থান কালে রাতে রেডিও অন করে বিভিন্ন ষ্টেশন ঘুরাছিল্লেন। হঠাৎ নাকি কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রর সন্ধান পেয়েছিলেন এবং নিজ কানে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা শুনেছিলেন। কিন্তু বোদ্ধা মহল জানেন নিরাপত্তার স্বার্থে  ২৭ মার্চ সন্ধ্যায়  কালুর ঘাট বেতারের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। সাক্ষীগোপালের এ সাক্ষী সন্ধ্যা এবং রাতের অভিধানিক ব্যাখ্যার মধ্যেই ফতুর হতে বাধ্য। যাইহোক, মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের ভ’মিকা ঐতিহাসিক। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতায় মেজর জিয়ার ভাষনটিও ইতিহাসের অংশ। গোটা জাতি মেজর জিয়ার ভাষনটি শ্রবন না করলেও মুখে মুখে তার প্রচার ঘটেছিলো। ফলশ্রুতিতে মুক্তিযুদ্ধে গতি এসেছিলো। বিশেষত: সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাংশের মধ্যে যে দোদুল্যমানতা ছিলো বেতার ভাষনের খবরে তা কেটেগিয়েছিলো। তবে এ বেতার ভাষণ কে কেন্দ্র করে ইতিহাস বিকৃত এবং রাজনৈতিক আইডল তৈরীর প্রকল্প শুরু হয়েছিলো ৩৫ বছর আগ থেকেই। এখানে প্রকাশ আবশ্যক যে, এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গঁনে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দানবীয় অবস্থানের সমান্তরালে এখন পর্য্যন্ত এমন কোন রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব ঘটেনি যাকে বঙ্গঁবন্ধুর সমকক্ষ হিসেবে গন্য করা চলে। ঠিক একই ভাবে বঙ্গঁবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের মতো সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যকোন দলও ছিলোনা। মুজিবিীয় অধিষ্টান এবং আওয়ামী ঝড়ে বিপর্য্যস্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেবল কোনটাসাই ছিলোনা বরং অস্তিত্বের সঙ্কটেও পড়েছিলো। এমতাবস্থায় ৭৫ সনের পট পরিবর্তনের রজ্জুু ধরে জিয়ার আবির্ভাব ঘটলে রাজনৈতিক ভাবে পরাজিত ও প্রত্যাখাত মুসলিম লীগ, ভাসানী ন্যাপ, কে.এস.পি, পিডিপি, নেজামে ইসলামী সহ চীনা পন্থী খন্ডিত বাম দলগুলো জেনারেল জিয়াকেই তাদের কাঙ্খিত নেতা গন্য করে একই প্লাটফর্মে সমবেত হয়েছিলো। আওয়ামীলীগের পরবর্তী অবস্থানের  মুসলিম লীগ জিয়ার মধ্যে জিন্নাহর এবং ভাসানী ন্যাপেরে যাদু মিয়া ভাসানীর প্রতিকৃতি খোঁজে পেয়েছিলেন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক ভাবে পরাজিত ও প্রথ্যাখাত উল্লেখিত দল সমূহের নেতা কর্মীরা জিয়াকে পলিটিকেল আইডল করে তাকে কখনও ফ্রান্সের দ্যাগল, কখনও চেকোশ্লভাকিয়ার মার্শাল টিটোর সমতুল্য বলে প্রচারনা চালায়। কেহ বলেছিলো মিশরের জামাল নাসের। জিয়ার মৃত্যুর পর একই ভাবে  খালেদা জিয়াকে বাংলার কোারাজন, আপসহীন নেত্রী কিংবা দেশনেত্রীর অভিধায় ভ’ষিত করতে তারা পিছপা হয়নি। জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী না করলেও তার অনুগামী উক্ত শিকড় হীন মহল শিকড় খোঁজার তাগিদে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষকের আসনে বসিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আগলে রাখতে তৎপর ছিলো এবং আছে। পাকিস্তানী ষ্টাইলে কায়েদে আযম এবং কায়েদে মিল্লাতের আদলে জাতির জনকের পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে আরেক জনকে প্রতিষ্টিত করাতে পারলে মন্দ কী? তবে ইতিহাস তো কাঁচা কাঠাল নয় যে কিলালেই পেঁকে যাবে। অতি সম্প্রতি জিয়া পুত্র তারেক রহমান লন্ডনে বসে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির আসনে প্রতিষ্টিত করতে চাচ্ছেন। বঙ্গঁবন্ধু স্বেচ্চায় পাকিস্তানের হাতে ধরা দিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার কোন ঘোষনা দেননি। তার পিতা জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন বলে ভাঁঙ্গা রেকর্ড নতুন করে বাজাতে শুরূ করেছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এটা তার জিনেটিক প্রভাবের ফলশ্রুতি বলা চলে। উপসর্গের পাশাপাশি মতাদর্শের ক্ষেত্রেও ব্যক্তির উপর জিনেটিক প্রভাব বর্তায় বেদুইন উত্তরাধিকারের মতো। এ আলোকে তারেক রহমানের ভ’মিকা যথাযথ। বঙ্গঁবন্ধুর প্রতি বীতশ্রদ্ধতা, চরম আওযামীলীগ বিদ্বেষ এবং মুক্তিযুদ্ধের মূলধারার বিচ্যুতি নিয়ে যে বি.এন.পির রাজনৈতিক ভিত্তি রচিত সেই রাজনৈতিক ধারাকে চাঁঙ্গা রাখার লক্ষ্যে তারেক রহমানের বক্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতি অবশ্যই প্রণিধান যোগ্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে – তারেক রহমানের বিপরীত ধারার এ.কে.খন্দকার রচিত বইয়ের বক্তব্যর সাথে তারেক দর্শনের যোগসূত্রতা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, এই স্বাধীনতাকে বিকৃত ও প্রশ্ন বিদ্ধ করার লক্ষে নুরুল আমীন, মাহমুদ আলী, গোলাম আযম এবং রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে বসে বাংলাদেশ বিরোধী একটি প্রচারণা সেল গঠন করেছিলেন আই.এস.আই এর সহযোগীতায়, লন্ডনে বসবাসরত ব্যরিষ্টার আব্বাস আলীও তাতে মদত দিয়েছিলেন। ৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট পরবর্তী কালে উল্লেখিত চক্রের এইড প্রাপ্ত কিছু লেখক গবেষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশর স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু অলীক সূত্রের অবতারণা করে অনেক বই প্রকাশ করেছেন। এ সমস্ত বই সৃষ্ট বিভ্রান্তির ঢেউ এখন আর গতিশীল নয়। মুক্তিযুদ্ধের একজন ডেপুটী চীফ অব স্টাফের দ্বারা সেই অপপ্রচারণাকে বৈধতার সীল মারার পাশাপাশি মজে যাওয়া বিতর্ককে ফের চাঁঙ্গা করা হলো কি না কে জানে।মুক্তিযুদ্ধের উপর বই লিখতে গিয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম মুক্তিযুদ্ধাদের শ্রেণী বিন্যাস করেছেন। তার মতে মুক্তিযুদ্ধে কেউ যোগদান করেছে স্বত:স্ফুর্ত ভাবে, কেউ আত্মরক্ষার জন্য, আর কেউ বা দায়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালো রাতে ঢাকায় অবস্থানের পর প্রায় দু মাস শেষে খন্দকার সাহেবের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের ব্যপারটি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সম্ভবত দায়ে পড়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রতি সম্পূর্ন আনুগত্য দেখানোর পরও সে সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান রত বেঙ্গল রেজিমেন্টর একজন ব্রিগেডিয়ার সহ ৪/৫ জন লে: কর্ণেল কে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে হানাদার বাহিনী কিভাবে নির্যাতন করেছিলো, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে.খন্দকার সাহেব তাহা অবগত হয়েই সম্ভবত ভারতে পালিয়েছিলেন।। খন্দকার সাহেব তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, হানাদার বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের জন্য বাঙ্গাঁলী একজন ব্রিগেডিয়ার সহ কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্ত্তা বঙ্গঁবন্ধুর সাথে যোগাযোগ করলে- তিনি স্পষ্ট কোন নির্দেশ দেননি। ধরে নেয়া যায় কথাটি সত্য। উল্লেখ প্রয়োজন যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সর্বমোট ১১শ অফিসার নিয়োজিত ছিলেন। তন্মধ্যে ৩০ মার্চ পর্য্যন্ত ২৫০ জন অফিসার পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন। কেউ কেউ ছুটিতে আর কেহ রেজিমেন্টাল দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত ২৫০ জন অফিসারের মধ্যে মাত্র ৬০ জন অফিসার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। বাকী সবাই পাকিস্তানের প্রতি অনুগত ছিলেন। কেউ কেউ হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে লড়েছিলো। এমতাবস্থায় যারা প্রতিরোধের পরিকল্পনা নিয়ে বঙ্গঁবন্ধুর নিকঠ এসেছিলেন- তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে এসেছিলেন নাকি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বঙ্গঁবন্ধুর নিকঠ এসেছিলেন- সে বিয়য়টি ধারনায় রেখেই সম্ভবত: বঙ্গঁবন্ধু তাদের নিকঠ কিছু বলেননি। এছাড়া সামরিক বাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব ছিলো সিলেট থেকে নির্বাচিত কর্ণেল (অব) এম.এ,জি ওসমানীর উপর। এ.কে.খন্দকার সাহেব তার বইটিতে উল্লেখ করেছেন যে, হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আওয়ামীলীগের কোন প্রস্তুতিই ছিলো না। এ বিষয়ে বলা যায়, মানসিক অন্ধকারে যিনি নিমজ্জিত তার মাথার উপর সূর্য্য থাকলেও আলোকসজ্জা তার চোখে ভাসেনা। টিককা খান সদর্পে বলেছিলেন- বাঙ্গাঁল মুল্লুককে নিয়ন্ত্রনে আনতে তিন দিনও সময় লাগবে না। কিন্তু মাঠে নেমে হাড়ে হাড়ে উপলব্দি করেছিলেন ভিন্ন বাস্তবতা। তিন দিনের পরিবর্তে দেড় মাসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়নি। মার খেয়ে হানাদার বাহিনী প্রাথমিক পর্য্যায়ে পিছু হটে জেলা সদর এবং ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে প্রতিরোধের গতি কী এতো বেগবান হতো? খন্দকার সাহেবের মতে- পূর্ব প্রস্তুতি এবং অভ্রান্ত পরিকল্পনা থাকলে কম লোকক্ষয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ স্বাধীন করা সম্ভব হতো। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং নয় মাসের যুদ্ধ শেষে প্রাপ্ত স্বাধীনতাকে যারা বলছেন সিজারিয়ান অপারেশন, সে স্থলে এক দুই মাসের মাথায় লব্দ স্বাধীনতাকে কোন নামে অভিহিত করা হতো? ভানুমতি খেলার পরিমন্ডলে কত রবি জ্বলেরে , কে বা আখিঁ মেলে রে…।
সরওয়ার আহমদ
লেখক, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/আই এইচ/এস ডি



এই প্রতিবেদন টি 604 বার পঠিত.