আর্কাইভ সেপ্টেম্বর ২০১৪

কত রবি জ্বলেরে, কে বা আঁখি মেলে রে

ak khondokarসরওয়ার আহমদ
“হাঁড়ি কাটা” ঘাসের মূলোৎপাটন করা গেলেও মূলের যে ক্ষুদ্র অংশ মাটির সাথে মিশে থাকে, সেই অংশ থেকে ক্রমশ উক্ত ঘাসের অঙ্কুরোদগম ঘটে ফের ঝাঁড়ে পরিণত হয় মৌসুমী আবহের কারণে। এটাই হচ্ছে বাংলার মাটির মহিমা। মাটির সাথে বোধহয় এদেশীয় রাজনীতির একটি যোগসূত্রতা আছে। ফলে রাজনৈতিক ভাবে মীমাংসিত বিষয়ও নতুন আঙ্গিঁকে ঝাঁড় বেঁধে মাঠগরমের ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে নতুন করে জেগে উঠা বিতর্কই হচ্ছে তার উদাহারণ। ‘এতোক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে’র মতো স্বাধীনতা প্রাপ্তির চারদশক পর মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ এ.কে.খন্দকার সাহেব লিখিত ভাবে জানান দিয়েছেন- বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি। তার সাথে যুক্ত করেছেন আওয়ামীলীগের দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্ত্তাব্যক্তিদের নানামুখী অনীহার কথা। খন্দকার সাহেবের বই প্রকাশের আগে তারেক রহমান লন্ডনে যে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছেন- তাহাও একই মুদ্রার এপিট ওপিট সমতুল্য। এ ধরনের প্রচারণা স্বাধীনতা প্রাপ্তির উষালগ্নে জমে উঠেছিলো। এতদ্দেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী মহল বাংলাদেশী স্বাধীনতার নানান কল্পিত অবয়ব একেঁ ভবিষ্যত বাণী করেছিলো; ভারতের দৌলতে প্রাপ্ত এ স্বাধীনতার আয়ুষ্কাল এক দশকও অতিক্রম করবেনা। সিকিম কিংবা ভুটানের ভাগ্যবরণ করবে এদেশ। তাদের মুখে ছাঁই ফেলে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ কেবল চার দশকের আয়ুষ্কালই উত্তরণ করেনি, বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে তার বৈজয়ন্তী উড্ডীন করেছে স্বমহিমায়। এই দেশে বসবাস করেও দেশের এই অগ্রযাত্রাকে স্বাধীনতা বিরোধী মহল ও তাদের বেদুইন উত্তরাধিকারী চক্র হজম করতে পারছে না। দেশীয় স্বাধীনতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে ধূম্রজাল সৃষ্টির প্রয়াসে লিপ্ত আছে বৈকি। অলীক কিংবা ভিত্তিহীন বিতর্ক সমূহের সূত্রপাত ঘটেছিলো ১৯৭১ সনেই। সেই পুরনো ও ভাঙ্গাঁ রেকর্ডকে অবলম্বন করে বক্তা বা উপস্থাপকের আর্বিভাব ঘটছে নতুন আঙ্গিকে। ১৯৭১ সনে সম্ভবত আগষ্ট মাসে জামায়াত নেতা গোলাম আযম রাওয়ালপিন্ডি গমন করে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন- নির্বাচিত এবং সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষনা তার নিজ মুখে দেননি। তার সমর্থক এবং ভারতীয় চরেরা বিদ্রোহী হয়ে মেকী স্বাধীনতা যুদ্ধে নামে দেশাভ্যন্তরে ধ্বংসাতœক কার্য্যকলাপ চালাচ্ছে। এর একটি সুরাহা রাজনৈতিক ভাবে করতে হবে। সমসাময়িক কালে খন্দকার মোস্তাক আহম্মদ এবং তার অনুসারী মহল কলকাতা এবং আগর তলাতেও তৎপর হয়ে উঠেছিলো। “জীবন্ত শেখ মুজিব চাও না স্বাধীনতা চাও” এই সুর তুলে একটি রাজনৈতিক রফার মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠনের মতলবে ছিলো মোস্তাক চক্র। সে সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে গোলাম আযম এবং বাংলাদেশের হয়ে খন্দকার মোস্তাক আহমদের মধ্যে কোন অন্তরাল যোগসূত্র ছিলো কি না সেটি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। তবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে খন্দকার মোস্তাক আহমদের চাইতে গোলাম আযমের উত্তরাধিকারী মহল অনেকটাই সুপ্রোথিত। “ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি” গোলাম আযমের এই রাজনৈতিক থিওরী বা সূত্রটিকে মোক্ষম হাতিয়ার গণ্য করে সমমতাদর্শীরা অস্ত্রটি প্রয়োগ করছে বার বার। ২৬শে মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা দেননি, একথার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং সংবিধান পরিবর্তন নিয়েও তারা সোচ্চার হয়েছিলো ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবর্তে তারা বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক বলেও গণ্য করতে চেয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ শহীদের রক্ত ¯œাত এ বঙ্গঁভ’মিতে এগুলো বেহুদা আস্ফালন বলেই গণ্য হয়েছিলো।
স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৩ বছর পর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক  কে “ নাহি কাঁজ তো খৈ ভাঁজ” এর সাথে তুলনা করা চলে। ঘোষণা ব্যাতিরেকে একটি দেশকে পরাধীন ব্যক্ত করাটাই কি তবে বিতর্ক সৃষ্টি কারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য? ঘোষণা দিলেই একটি দেশের স্বাধীনতা যদি নিশ্চিত হতো তাহলে ১৮৫৭ সনে স¤্রাট বাহাদুর শাহ্ জাফর এবং ১৯৩০ সনের মাষ্টারদা সূর্য্যসেনের ঘোষণাতেই ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হয়ে যেতো। ১৯৪৭ সনে পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলৈন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। একজন বৃটিশ হয়ে মাউন্ট ব্যাটেন কিভাবে পাকিস্তান ও ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে প্রশ্নও তো বেকুবের মতো উথাপন করা যায়। ভারতীয় জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কেনো স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, সে প্রশ্নও তো উথাপিত হয় নি। ১৯৭১ সনের ২৬ শে মার্চ বঙ্গঁবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষণা নাই দিতেন, তাহলে ২৭শে মার্চ তারিখে বি বি সি সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম কিসের উপর ভিত্তি করে বলেছিলো- শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ সন্ধায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণের একাংশে সদম্ভে বলেছিলেন-…গঁলরন যধং ফবপষধৎবফ রহফবঢ়বহফবহপব ড়ভ বধংঃ চধশরংঃধহ. ঐব রং ঃৎধরঃড়ৎ ঃড় ঃযব হধঃরড়হ. ঞযরং ঃরসব যব রিষষ হড়ঃ মড় ঁহঢ়ঁহরংযবফ. ইয়াহিয়া খানের এ ভাষণের সময় এতদ্দেশীয় পাকিস্তান পন্থী ও নষ্ট বামরা তুফান এড়াতে উঠ পাখির মতো বালিয়াড়িতে কি মাথা গুঁজে রেখেছিলো? পাকিস্তান ও পিকিং পন্থীদের নব্যউত্তরাধিকারী মহল এখন তারস্বরে বলতে চাচ্ছে যে, শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেননি এবং তিনি অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থেকে প্রধান মন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। তাদের মানসিক দাসত্ব প্রকট আকার ধারন করেছে। তাদের এই দাস সুলভ মানসিকতা এবং ঞ্জানের পরিবর্তে মূর্খতার অক্টোপাশ রাজনৈতিক ধূ¤্রজাল ও বিতর্ককে চাঙ্গাঁ করতে পারবে। কিন্তু মন্থনের মালাইর মতো বিতর্ক থেকে আসল সত্যের বহি: প্রকাশ ঘঠবেই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চাননা, বঙ্গঁবন্ধু সেটি ৭ মার্চের ভাষণেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন। জোড়াতালির পাকিস্তানের প্রতি বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের আকর্ষণে ভাঁটা ধরেছিলো ১৯৫৪ সনের নির্বাচন পরবর্তী কাল থেকে। তাই আয়ুব খান থেকে আরম্ভ করে জুলফিকার আলী ভুট্রো, খান আব্দুল কাইয়ুম খাঁন, মিয়া মোমতাজ মোহাম্মদ দৌলতানা, নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান মুফতি মাহমুদ, মাওলানা আব্দুল আলা মওদুদী, শাহ আহমদ নূরানী সহ পশ্চিম পাকিস্তানের বড় মাপের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবের নামের পেছনে বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমাটি জুড়ে দিয়েছিলো। তাদের অনুসারী এতোদ্দেশীয় নেতৃবিন্দের সবাই একই ভাষায় অভিযোগ আনতে কসুর করেনি। ৭০ সনের নির্বাচনের প্রচারণা কালে সবাই এক বাক্যে হুসিয়ারী উচ্চারণ করেছিলো- শেখ মুজিবের দল ভোটে জিতলে পাকিস্তানের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে। তাদের মুখে অতি অবশ্যই ফুল চন্দন পড়েছিলো। নির্বাচনী ফলাফল অনুসারে আওয়ামীলীগ একক ভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ট দলের অধিকারী হয়ে উঠেছিলো। এমতাবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেতা হিসেবে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দায় দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছিলো। রাজনৈতিক ভাবে দরকষাকষির ক্ষেত্রে যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগটি প্রচ্ছন্ন হয়ে না উঠে, সে মোতাবেক তাকে কথা বলতে হয়েছিলো মাপ জোঁকের সাথে। সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো সুক্ষ ও দূরদর্শিতার আলোকে। পাকিস্তানের খসড়া শাসন তন্ত্রও রচনা করেছিলো আওয়ামীলীগ যাতে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ না আসে , এ লক্ষে। ভুট্রোর দল ছাড়া পাকিস্তানের নির্বাচিত এম.এল.এ দের সাথেও আলাপ আলোচনা চালিয়েছিলেন বঙ্গঁবন্ধু শুধু  নিয়ম তন্ত্রের আলোকে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যখন ৩ মার্চের সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা দেন, তখন গোটা পূর্ব বাংলা আক্রোশে ফুঁসে উঠেছিলো। এ সময় পার্শ্বচাপের বশে ১ মার্চ অথবা ৭ মার্চে বঙ্গঁবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষনা নিজমুখে দিতেন, তাহলে শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও তিনি বিচ্ছন্নতাবাদী বলে গণ্য হতেন। অন্যদিকে হটকারী নির্দেশের আলোকে কয়েক লক্ষ নিবেদিত প্রাণের রক্তবন্যায় স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিমুর্ত সত্বাটির অকাল সমাধি রচিত হতো। বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে তাকেও ফাঁসিকাষ্টে ঝুলতে হতো। তাই বঙ্গঁবন্ধু কৌশলী ভ’মিকায় অবতীর্ন হয়ে একদিকে ঘমায়মাণ আক্রমন প্রতিরোধের প্রস্তুতির পাশাপাশি সমঝোতার জন্য আলোচনাার দুয়ার খোলা রেখেছিলেন। আলোচনা ব্যর্থ হলে শাসক চক্র  আগ বেড়ে আঘাত করুক, তারপরই প্রতিরোধ তথা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবে, এটাই ছিলো বঙ্গঁবন্ধুর অভ্রান্ত সিদ্ধান্ত। ২৫ শে মার্চের কালো রাত্রে হানাদার বাহিনী যখন অপারেশন সার্চলাইটের নামে পূর্ব বাংলার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো, তখনই প্রতিরোধের ঢঙ্কা বেজে উঠেছিলো। এ প্রতিরোধের নেপথ্যে কি নির্দেশনা সহ প্রস্তুতি ছিলো না? ১৯৮৮ সনের এক সাক্ষাতকারে হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক টিক্কা খান গণ হত্যাকে অস্বীকার করে বলেছিলেন- আমাদের উপর আঘাত আসার পর আমরা শুধু প্রত্যাঘাত করেছিলাম মাত্র। নিরাভারণ এ স্বীকারোক্তিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী খালি মাঠে খেলেনি। প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষ ও ছিলো। এ প্রতিরোধ আসমান থেকে আসেনি। এ দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষ থেকেই গড়ে তোলা হয়েছিলো। বস্তুত: এ প্রতিরোধের মানসিকতা একদিনে তৈরী হয়নি। এ জন্য জাতিকে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি নিতে হয়েছিলো। মুহুর্তের ঘোষনায় একটি জাতি কখনও কোথাও প্রতিরোধ তথা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার নজির এ বিশ্বের কোথাও নেই। যারা সাফাই গেয়ে এই সত্যটুকু প্রতিষ্টিত করতে চান যে ২৭ মার্চ তারিখে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার ঘোষনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গোটাজাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো, তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি ভিন্ন এবং মতলব ও আলাদা। এ প্রসঙ্গেঁ আসার আগে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ২৭ মার্চের জিয়ার ভাষণের আগ থেকে অর্থ্যাৎ ২৫ মার্চ রাত থেকেই ঢাকায় এবং চট্রগ্রামে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়েছিলো। ২৬ মার্চ তারিখে দেশের অন্যান্য জেলা ও মহকুমা সদরে প্রতিরোধের ডঙ্কাঁ বেজে উঠেছিলো পূর্ব প্রস্তুতির আলোকে। এদিকে ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্য্যন্ত মেজর জিয়া কালুর ঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে পরিবর্তিত ও বিতর্কিত ঘোষনা অব্যাহত রাখলেও ৩১ মার্চ পর্য্যন্ত তার নিয়ন্ত্রিত ৮ম ইষ্টবেঙ্গঁল  রেজিমেন্ট কোথাও যুদ্ধ করেছে এমন নজির খোঁজে পাওয়া যায় নি। এসময় মেজর রফিক নিয়ন্ত্রিত ই পি আর বাহিনী হানাদার বাহিনীর সাথে জানবাজী যুদ্ধে লিপ্ত ছিলো চট্রগ্রামে বিভিন্ন পয়েন্টে।
ফের আসা যাক কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘোষনার ব্যাপারে। এটি ছিলো চট্রগ্রাম বেতারের একটি উপ কেন্দ্র। ২৬ মার্চ তারিখেই বেতারের কিছু কলাকুশলী এ উপকেন্দ্রটি চালু করেছিলো। ১ কিলোয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বেতার কেন্দ্রটির ট্রান্সমিশসের ফ্রিকোয়েন্সী ছিলো দশ কিলোমিটার। তার বাইরে বেতার কেন্দ্রটির প্রচারণা স্পষ্ট ছিলো না। সে সময়ে ঘরে ঘরে রেডিওর উপস্থিতি ও ছিলো না। গ্রাম হাটলে বড়জোর ২/৩ টি রেডিওর উপস্থিতি খোঁজে পাওয়া যেতো। সদ্য চালু হওয়া বেতার কেন্দ্রর ঘোষনা চট্রগ্রাম এবং সন্নিহিত অঞ্চলের তাবৎ মানুষ শুনেছে এমনটিও বলা যাবে না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্টার সাক্ষীগোপাল হিসাবে এ ঘোষনার শ্রবণকারী সীমানার বাইরেও অনেকে দাড়িয়ে ছিলেন। প্রাসঙ্গিঁক যে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ মার্চের আগ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো । হানাদার বাহিনীর আক্রমনের মুখে  চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ.আর মল্লিক সহ অধিকাংশ শিক্ষক  তখন আত্মরক্ষার্থে কোলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। প্রাণ রক্ষার্থে অনুগামী হয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ আলী আহসানও। অন্যান্য শিক্ষকরা না শুনলেও তিনি নাকি কোলকাতায় বসে জিয়ার ভাষণ শুনেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জিয়ার ভাষণ কোলকাতা পর্য্যন্ত ধাবিত হলে , আকাশবাণীর ফ্রিকোয়েন্সীতে তাহা ইন্টারসেপ্ট হলোনা কেনো? সে সময়ে আকাশবাণী রওশন আরা নামীয় এক কল্পিত মহিলাকে আবিষ্কার করে তার দ্বারা ঢাকাতে হানাদার বাহিনীর ট্যাংক ধ্বংসের খবর যেখানে বারংবার প্রচার করেছিলো, সেখানে জিয়ার ভাষণটি হতে গেলে অস্ত্র হিসেবে সেটি পুন:প্রচার করে বাজীমাৎ করে ফেলত। তবে কি এসময় সৈয়দ আলী আহসানের কর্ণকুহর অতিমাত্রায় কাজ করেছিলো, এবং আকাশবাণী “হাটকাল” হয়ে পড়েছিলো। এ প্রশ্নের উত্তর না মিললেও সৈয়দ আলী আহসান কোন কননের ফুল ছিলেন তাহার সন্ধান পরবর্তীতে মিলেছে। আরেক সাক্ষীগোপাল হচ্ছেন রাজনৈতিক ¯্র্েরাতের ভাসমান ভেলার নাবিক অলি আহাদ। ভাষা আন্দোলন ব্যাতিরেকে অন্যান্য রাজনৈতিক আন্দোলনে মরহুম অলি আহাদের অবস্থান ও তৎপরতা ছিলো মূলধারার সাথে সঙ্গঁতিহীন। ৭১ সনে ভারতে গমন করে মুক্তিযুদ্ধের পরিবর্তে যুক্ত   বাংলার স্বাধীনতার ব্যপারে তৎপর হয়ে কোন সায় না পেয়ে ফের ঢাকাতে চলে এসেছিলেন। আপন ছোট ভাইয়ের শ্বশুর নুরুল আমীনের কৃপাগুনে সে সময়ে অলি আহাদের গায়ে কোন আচড় লাগেনি। খান সেনাদের হিটলিস্টের মধ্যে আতাউর রহমান খান, অলি আহাদের নাম থাকলেও কোন রফার সুবাদে তারা অক্ষত ছিলেন, এবং একই ধারার আবুল মনসুর আহমদের উপর থেকে খান সেনাদের শ্যেন দৃষ্টির কিভাবে পরিবর্তন ঘটেছিলো তাহা এখন পর্য্যন্ত রহস্যের বেড়াজালে আবদ্ধ রয়ে গেছে। অবশ্য এই তিন নেতার সহগামী শাহ আজিজুর রহমানের ভূমিকা স্পষ্টই ছিলো। তো, অলি আহাদ সাহেব ২৭ মার্চ রাতে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার সাহেবের বাসায় অবস্থান কালে রাতে রেডিও অন করে বিভিন্ন ষ্টেশন ঘুরাছিল্লেন। হঠাৎ নাকি কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রর সন্ধান পেয়েছিলেন এবং নিজ কানে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা শুনেছিলেন। কিন্তু বোদ্ধা মহল জানেন নিরাপত্তার স্বার্থে  ২৭ মার্চ সন্ধ্যায়  কালুর ঘাট বেতারের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। সাক্ষীগোপালের এ সাক্ষী সন্ধ্যা এবং রাতের অভিধানিক ব্যাখ্যার মধ্যেই ফতুর হতে বাধ্য। যাইহোক, মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের ভ’মিকা ঐতিহাসিক। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতায় মেজর জিয়ার ভাষনটিও ইতিহাসের অংশ। গোটা জাতি মেজর জিয়ার ভাষনটি শ্রবন না করলেও মুখে মুখে তার প্রচার ঘটেছিলো। ফলশ্রুতিতে মুক্তিযুদ্ধে গতি এসেছিলো। বিশেষত: সেনাবাহিনী ও পুলিশের একাংশের মধ্যে যে দোদুল্যমানতা ছিলো বেতার ভাষনের খবরে তা কেটেগিয়েছিলো। তবে এ বেতার ভাষণ কে কেন্দ্র করে ইতিহাস বিকৃত এবং রাজনৈতিক আইডল তৈরীর প্রকল্প শুরু হয়েছিলো ৩৫ বছর আগ থেকেই। এখানে প্রকাশ আবশ্যক যে, এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গঁনে বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দানবীয় অবস্থানের সমান্তরালে এখন পর্য্যন্ত এমন কোন রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব ঘটেনি যাকে বঙ্গঁবন্ধুর সমকক্ষ হিসেবে গন্য করা চলে। ঠিক একই ভাবে বঙ্গঁবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগের মতো সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যকোন দলও ছিলোনা। মুজিবিীয় অধিষ্টান এবং আওয়ামী ঝড়ে বিপর্য্যস্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কেবল কোনটাসাই ছিলোনা বরং অস্তিত্বের সঙ্কটেও পড়েছিলো। এমতাবস্থায় ৭৫ সনের পট পরিবর্তনের রজ্জুু ধরে জিয়ার আবির্ভাব ঘটলে রাজনৈতিক ভাবে পরাজিত ও প্রত্যাখাত মুসলিম লীগ, ভাসানী ন্যাপ, কে.এস.পি, পিডিপি, নেজামে ইসলামী সহ চীনা পন্থী খন্ডিত বাম দলগুলো জেনারেল জিয়াকেই তাদের কাঙ্খিত নেতা গন্য করে একই প্লাটফর্মে সমবেত হয়েছিলো। আওয়ামীলীগের পরবর্তী অবস্থানের  মুসলিম লীগ জিয়ার মধ্যে জিন্নাহর এবং ভাসানী ন্যাপেরে যাদু মিয়া ভাসানীর প্রতিকৃতি খোঁজে পেয়েছিলেন। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে রাজনৈতিক ভাবে পরাজিত ও প্রথ্যাখাত উল্লেখিত দল সমূহের নেতা কর্মীরা জিয়াকে পলিটিকেল আইডল করে তাকে কখনও ফ্রান্সের দ্যাগল, কখনও চেকোশ্লভাকিয়ার মার্শাল টিটোর সমতুল্য বলে প্রচারনা চালায়। কেহ বলেছিলো মিশরের জামাল নাসের। জিয়ার মৃত্যুর পর একই ভাবে  খালেদা জিয়াকে বাংলার কোারাজন, আপসহীন নেত্রী কিংবা দেশনেত্রীর অভিধায় ভ’ষিত করতে তারা পিছপা হয়নি। জীবদ্দশায় জিয়াউর রহমান তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী না করলেও তার অনুগামী উক্ত শিকড় হীন মহল শিকড় খোঁজার তাগিদে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষকের আসনে বসিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আগলে রাখতে তৎপর ছিলো এবং আছে। পাকিস্তানী ষ্টাইলে কায়েদে আযম এবং কায়েদে মিল্লাতের আদলে জাতির জনকের পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে আরেক জনকে প্রতিষ্টিত করাতে পারলে মন্দ কী? তবে ইতিহাস তো কাঁচা কাঠাল নয় যে কিলালেই পেঁকে যাবে। অতি সম্প্রতি জিয়া পুত্র তারেক রহমান লন্ডনে বসে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির আসনে প্রতিষ্টিত করতে চাচ্ছেন। বঙ্গঁবন্ধু স্বেচ্চায় পাকিস্তানের হাতে ধরা দিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার কোন ঘোষনা দেননি। তার পিতা জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছেন বলে ভাঁঙ্গা রেকর্ড নতুন করে বাজাতে শুরূ করেছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এটা তার জিনেটিক প্রভাবের ফলশ্রুতি বলা চলে। উপসর্গের পাশাপাশি মতাদর্শের ক্ষেত্রেও ব্যক্তির উপর জিনেটিক প্রভাব বর্তায় বেদুইন উত্তরাধিকারের মতো। এ আলোকে তারেক রহমানের ভ’মিকা যথাযথ। বঙ্গঁবন্ধুর প্রতি বীতশ্রদ্ধতা, চরম আওযামীলীগ বিদ্বেষ এবং মুক্তিযুদ্ধের মূলধারার বিচ্যুতি নিয়ে যে বি.এন.পির রাজনৈতিক ভিত্তি রচিত সেই রাজনৈতিক ধারাকে চাঁঙ্গা রাখার লক্ষ্যে তারেক রহমানের বক্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতি অবশ্যই প্রণিধান যোগ্য। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে – তারেক রহমানের বিপরীত ধারার এ.কে.খন্দকার রচিত বইয়ের বক্তব্যর সাথে তারেক দর্শনের যোগসূত্রতা নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রের মতে, এই স্বাধীনতাকে বিকৃত ও প্রশ্ন বিদ্ধ করার লক্ষে নুরুল আমীন, মাহমুদ আলী, গোলাম আযম এবং রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে বসে বাংলাদেশ বিরোধী একটি প্রচারণা সেল গঠন করেছিলেন আই.এস.আই এর সহযোগীতায়, লন্ডনে বসবাসরত ব্যরিষ্টার আব্বাস আলীও তাতে মদত দিয়েছিলেন। ৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট পরবর্তী কালে উল্লেখিত চক্রের এইড প্রাপ্ত কিছু লেখক গবেষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশর স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কিছু অলীক সূত্রের অবতারণা করে অনেক বই প্রকাশ করেছেন। এ সমস্ত বই সৃষ্ট বিভ্রান্তির ঢেউ এখন আর গতিশীল নয়। মুক্তিযুদ্ধের একজন ডেপুটী চীফ অব স্টাফের দ্বারা সেই অপপ্রচারণাকে বৈধতার সীল মারার পাশাপাশি মজে যাওয়া বিতর্ককে ফের চাঁঙ্গা করা হলো কি না কে জানে।মুক্তিযুদ্ধের উপর বই লিখতে গিয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম মুক্তিযুদ্ধাদের শ্রেণী বিন্যাস করেছেন। তার মতে মুক্তিযুদ্ধে কেউ যোগদান করেছে স্বত:স্ফুর্ত ভাবে, কেউ আত্মরক্ষার জন্য, আর কেউ বা দায়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালো রাতে ঢাকায় অবস্থানের পর প্রায় দু মাস শেষে খন্দকার সাহেবের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের ব্যপারটি অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সম্ভবত দায়ে পড়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রতি সম্পূর্ন আনুগত্য দেখানোর পরও সে সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান রত বেঙ্গল রেজিমেন্টর একজন ব্রিগেডিয়ার সহ ৪/৫ জন লে: কর্ণেল কে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে হানাদার বাহিনী কিভাবে নির্যাতন করেছিলো, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে.খন্দকার সাহেব তাহা অবগত হয়েই সম্ভবত ভারতে পালিয়েছিলেন।। খন্দকার সাহেব তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, হানাদার বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের জন্য বাঙ্গাঁলী একজন ব্রিগেডিয়ার সহ কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্ত্তা বঙ্গঁবন্ধুর সাথে যোগাযোগ করলে- তিনি স্পষ্ট কোন নির্দেশ দেননি। ধরে নেয়া যায় কথাটি সত্য। উল্লেখ প্রয়োজন যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সর্বমোট ১১শ অফিসার নিয়োজিত ছিলেন। তন্মধ্যে ৩০ মার্চ পর্য্যন্ত ২৫০ জন অফিসার পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন। কেউ কেউ ছুটিতে আর কেহ রেজিমেন্টাল দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত ২৫০ জন অফিসারের মধ্যে মাত্র ৬০ জন অফিসার মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। বাকী সবাই পাকিস্তানের প্রতি অনুগত ছিলেন। কেউ কেউ হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে লড়েছিলো। এমতাবস্থায় যারা প্রতিরোধের পরিকল্পনা নিয়ে বঙ্গঁবন্ধুর নিকঠ এসেছিলেন- তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে এসেছিলেন নাকি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বঙ্গঁবন্ধুর নিকঠ এসেছিলেন- সে বিয়য়টি ধারনায় রেখেই সম্ভবত: বঙ্গঁবন্ধু তাদের নিকঠ কিছু বলেননি। এছাড়া সামরিক বাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব ছিলো সিলেট থেকে নির্বাচিত কর্ণেল (অব) এম.এ,জি ওসমানীর উপর। এ.কে.খন্দকার সাহেব তার বইটিতে উল্লেখ করেছেন যে, হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আওয়ামীলীগের কোন প্রস্তুতিই ছিলো না। এ বিষয়ে বলা যায়, মানসিক অন্ধকারে যিনি নিমজ্জিত তার মাথার উপর সূর্য্য থাকলেও আলোকসজ্জা তার চোখে ভাসেনা। টিককা খান সদর্পে বলেছিলেন- বাঙ্গাঁল মুল্লুককে নিয়ন্ত্রনে আনতে তিন দিনও সময় লাগবে না। কিন্তু মাঠে নেমে হাড়ে হাড়ে উপলব্দি করেছিলেন ভিন্ন বাস্তবতা। তিন দিনের পরিবর্তে দেড় মাসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়নি। মার খেয়ে হানাদার বাহিনী প্রাথমিক পর্য্যায়ে পিছু হটে জেলা সদর এবং ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে প্রতিরোধের গতি কী এতো বেগবান হতো? খন্দকার সাহেবের মতে- পূর্ব প্রস্তুতি এবং অভ্রান্ত পরিকল্পনা থাকলে কম লোকক্ষয় এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ স্বাধীন করা সম্ভব হতো। ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং নয় মাসের যুদ্ধ শেষে প্রাপ্ত স্বাধীনতাকে যারা বলছেন সিজারিয়ান অপারেশন, সে স্থলে এক দুই মাসের মাথায় লব্দ স্বাধীনতাকে কোন নামে অভিহিত করা হতো? ভানুমতি খেলার পরিমন্ডলে কত রবি জ্বলেরে , কে বা আখিঁ মেলে রে…।
সরওয়ার আহমদ
লেখক, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/আই এইচ/এস ডি

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন জজ মিয়া

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:
nmnm
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন জজ মিয়া l

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন l বেলা দেড়টা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলে l

আদালতে জজ মিয়া বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় তিনি নোয়াখালীর সেনবাগের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন l ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চায়ের দোকানের টেলিভিশনে গ্রেনেড হামলার খবর দেখতে পান l

রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকায় থাকতেন আর গুলিস্তানে সিডির ব্যবসা করতেন—এমন দাবি করে জজ মিয়া আদালতে বলেন, গ্রেনেড হামলার পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন l কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান l ওষুধ কেনার জন্য বাজারে যাওয়ার পথে গ্রামের মোকছেদ চৌকিদারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয় l মোকছেদ চৌকিদার তাঁকে বলেন, তুমি চোরাচালানির ব্যবসা করো l তোমার নামে ওয়ারেন্ট আছে l তোমাকে থানায় যেতে হবে l

এরপর মোকছেদ চৌকিদারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে করে সেনবাগ থানায় যান জজ মিয়া l তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) থেকে লোক এসেছেন l তাঁরা জজ মিয়াকে ঢাকার মালিবাগের কার্যালয়ে নিয়ে যান l

জজ মিয়া আদালতে বলেন, মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে এনে তাঁকে সাজানো জবানবন্দি দিতে বলা হয় l অন্যথায়, তাঁকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিবারকে মেরে ফেরার হুমকি দেওয়া হয় l

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে সাজানো সাক্ষ্য দিতে রাজি হন—আদালতে এমন দাবি করে জজ মিয়া বলেন, সিআইডি অফিসে একটি কাগজে জবানবন্দি লিখে দেওয়া হয় l তা মুখস্থ করতে বলা হয় l জবানবন্দি মুখস্থ করে দৈনিক তিনবার সিআইডি কর্মকর্তাদের কাছে বলতে হতো l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগ দাবি বিএনপির

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি l

আজ মঙ্গলবার দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা cvxcc ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান l

যুক্তরাষ্ট্রে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যে ক্ষোভ, প্রতিবাদ

লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, লতিফ সিদ্দিকী হজরত মুহাম্মদ (স.), পবিত্র হজ, পবিত্র মক্কা শরিফ, তাবলিগ জামাত সম্পর্কে যে অসম্মানজনক বক্তব্য রেখেছেন, তা বাংলাদেশসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় আবেগে চরম আঘাত l ইসলাম ধর্মের প্রতি তাঁর এই বক্তব্য চরম অসম্মানজনক l

লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার দাবি এরশাদের

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীন নেতা ও মন্ত্রীরা শুধু ধরাকে সরাজ্ঞানই করছেন না, তাঁরা নিজেদের এখতিয়ার ভুলে গেছেন l ফেরাউনের ঔদ্ধত্য তাঁদেরকে প্রেরণা জোগায় l তাই আসন্ন পতনের কোনো শব্দ তাঁদের কানে আসছে না l

লতিফ সিদ্দিকীর সমালোচনায় বিএনপি

বিবৃতিতে ফখরুল অভিযোগ করেন, লতিফ সিদ্দিকী কথাবার্তায় সব সময় সভ্যতার সীমা অতিক্রম করেন l

ফখরুল আরও বলেন, ইসলামের অবশ্যপালনীয় অন্যতম স্তম্ভ হজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান আল্লাহর নৈকট্যলাভের জন্য প্রতিবছর হজের সময় পবিত্র মক্কা শরিফে হজ করেন l কেবল বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান নয় এমনকি অন্য ধর্মের চিন্তাশীল মানুষেরাও শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে শ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে অভিহিত করেছেন l অথচ মুসলমান নামধারী বর্তমান অবৈধ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নবীজী সম্পর্কে যে অপমানজনক কথা বলেছেন, তা কেবল চরম সীমালঙ্ঘনকারীরাই করতে পারে l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

ঝিনাইদহে মাকে খুনের পর ছেলেকে কুপিয়ে আহত

ঝিনাইদহ, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:
images7700
ছেলের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের একদিন পরেই ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা ও তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা l

শৈলকূপা থানার এসআই এমদাদ হোসেন জানান, সোমবার রাতে উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে l

নিহত সাজেদা খাতুন সাজু (৫০) বাগুটিয়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে থাকতেন l তার ছেলে জিন্নাহ আলমকে (৩০) ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে l

ছেলের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতির দাবি করে রোববার ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাজেদা l সেখানে তিনি শৈলকূপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাট ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামকে নিজের স্বামী ও ছেলের বাবা বলে দাবি করেন l

এ বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি l

এরপর সোমবার রাতে নিজের বাবার বাড়িতে ‘দুর্বৃত্তের’ হাতে খুন হন সাজেদা l

এসআই এমদাদ বলেন, “মা ও ছেলে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ১০- ১২ জন দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে চোখ-মুখ বেঁধে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে l

এ সময় লোকজন টের পেয়ে চেঁচামেচি শুরু করলে দুর্বৃত্তরা জিন্নাহকে কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় পরিতোষ চৌকিদারের বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় l পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে l

আর মঙ্গলবার সকালে গ্রামের কলা বাগানের ভেতরে সাজেদা খাতুনের লাশ পাওয়া যায় বলে এসআই এমদাদ জানান l

তিনি বলেন, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কলা গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে গেছে l পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহে মর্গে পাঠিয়েছে l

বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে এসআই এমদাদ জানান l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

প্রধানমন্ত্রী ফিরলে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত: পরিবহনমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:
poremon
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের l

মঙ্গলবার দুপুরে সাভারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরকারের বড় দায়িত্বে থেকে সরকারেরই ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বক্তব্য দেওয়া বা আচরণ করা কারো জন্য সমীচীন নয় l

গত রোববার নিউ ইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী l আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী l

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় l

ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, এ হজে যে কতো ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয় l এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন l এদের কোনো কাজ নাই l কোনো প্রডাকশ নাই l শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে l শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে l

লতিফ সিদ্দীকীর মন্তব্যের সমালোচনা তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর গোচরে আছে, তিনি দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে l

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘ভবিষৎ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাদের বলেন, জয়কে নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তাও ঠিক নয় l

নিউ ইয়র্কের অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে?

‌‌জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন l

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের সিটি সেন্টারের সামনে দ্বিতীয় ফুট ওভার ব্রীজ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের l

মন্ত্রী ফিতা কেটে ফুটওভার ব্রিজের উদ্বোধন শেষে উপরে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের ধক্কাধাকিতে উঠতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন l  এ সময় ওভারব্রিজে টাঙানো বড় বড় ব্যানারে স্থানীয় সাংসদ ও নিজের ছবির দিকে চোখ যায় মন্ত্রীর l তাকে স্বাগত জানিয়েই ছিন্নমূল হর্কাস লীগ ব্রিজের দুই পাশে বিশাল আকৃতির এসব ব্যানার টাঙায় l

ক্ষুব্ধ স্বরে কাদের বলেন, ৃকার নির্দেশে এসব ব্যানারে আমার ছবি দেওয়া হয়েছে l যারা আমার ছবি ব্যবহার করেছেন, তারা ঠিক করেননি।  নেতারা নিজেদের ছবি দিয়ে যাই করুক, আমার ছবি জুড়ে দিতে পারেন না l

তাৎক্ষণিভাবে এসব ব্যানার খুলে ফেলার নির্দেশ দেন মন্ত্রী, পরে ব্যানার খুলে ফেলা হয় l

স্থানীয় সাংসদ ডা. এনামুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

MASH+1টেস্ট ও ওয়ানডে দলের জন্য আলাদা অধিনায়ক নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড l ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, রঙিন পোশাকে তার সহকারী সাকিব আল হাসান l

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফি l এই সিরিজেই তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাকিব l

২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় মোহাম্মদ আশরাফুলকে l ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অধিনায়কত্ব পান মাশরাফি l আর সহ-অধিনায়ক করা হয় সাকিব আল হাসানকে l

ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মাশরাফি l সফরে বাকি দিনগুলোতে দলকে নেতৃত্ব দেন সাকিব l

সুস্থ হয়ে ওঠার পর ২০১০ সালের জুলাইয়ে ইউরোপ সফরে (ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড) সফরে নেতৃত্ব ফিরে পান মাশরাফি l অক্টোবরে দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও নেতৃত্বে ছিলেন দেশসেরা এই পেসার l

কিন্তু প্রথম ম্যাচেই চোট পান মাশরাফি l ৪-০ ব্যবধানে সেই সিরিজে বাকি ম্যাচগুলোতে আবারো নেতৃত্ব দিতে হয় সাকিবকে। পরে ৩১ ডিসেম্বর সাকিবকে অধিনায়ক ও তামিম ইকবালকে সহ-অধিনায়ক ঘোষণা করে বিসিবি l

২০১১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যর্থতার পর নেতৃত্ব হারান সাকিব ও তামিম। তাদের জায়গায় আসেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ l পরে সহ-অধিনায়কত্ব হারান মাহমুদুল্লাহ l

ক্রিকেটে চলতি বছরে মোটেও ভালো কাটছে না বাংলাদেশের l তাই টেস্ট ও ওয়ানডেতে আলাদা নেতৃত্ব বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। তার অংশ হিসেবেই আবার নেতৃত্বে ফিরলেন মাশরাফি-সাকিব l

এ পর্যন্ত ৭টি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি। এতে ৩টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আর হেরেছে ৪টিতে। আর ৩৭টি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেন মুশফিক l এর ১১টিতে জিতেছে বাংলাদেশ আর হেরেছে ২৪টিতে l

টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকছে মুশফিকই l আর এই সংস্করণে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তামিম ইকবালকে l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

যুক্তরাষ্ট্রে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যে ক্ষোভ, প্রতিবাদ

ডেস্করিপোর্ট, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:ltip

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিএনপির মিছিল ও সমাবেশ l ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি l মন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও l

গত রোববার বিকেলে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে মন্ত্রী হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ সময় সভাস্থলে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে মন্ত্রী সেখান থেকে দ্রুত চলে যান l

গতকাল সোমবার সারা দিন নিউইয়র্কে এ নিয়ে আলোচনা চলে l ওই দিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন l প্রতিবাদ মিছিল থেকে বিএনপির নেতা গিয়াস আহমেদ রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, ‘মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের জনগণের টাকায় বিদেশে এসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন l তিনি তাবলিগ জামাতের মতো নির্দোষ, নিবেদিত ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন l

বিএনপির নেতা জিল্লুর রহমান রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের ও টক শোতে অংশগ্রহণকারীদের নিম্নপর্যায়ের গালাগাল করে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন l এসব বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি l

নিউজার্সির বাসিন্দা তাবলিগ জামাতের অনুসারী শাহাবুদ্দিন চৌধুরী বলেন, তাঁদের মসজিদে তাবলিগ জামাতের অনুসারী ভারত ও পাকিস্তানের মুসল্লিরা মন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছেন l তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে l

নিউইয়র্কপ্রবাসী হাসিনা বেগম বলেন, ‘নবীকে নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলার কারণে মন্ত্রীর ওপর আল্লাহর গজব পড়বে l

নিউইয়র্কে বসবাসরত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কেউই মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করছেন না l বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে তাঁরা ক্ষুব্ধ l

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা কাজী কয়েস রেডটাইমস বিডি ডটকমকে জানান, সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারি মনে করি l মন্ত্রী ‘জয় কে?’ বলে যে প্রশ্ন তুলেছেন, এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন l

আওয়ামী লীগের নেতা শেখ আতিক বলেন, কয়েকজন নেতার লাগামহীন বক্তব্যের মাশুল দিতে হয় আওয়ামী লীগকে l মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কী অর্জন করতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন  l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

হাসিনা-মোদী বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:
Hasina-Modi-(1)
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী l

তিনি বলেন, বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও স্থল সীমান্ত চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন l

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরেন মন্ত্রী l

এ বছরের মে মাসে মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক l

মন্ত্রী বলেন, প্রথম বৈঠক হলেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ, উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ l এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন l

এ প্রসঙ্গে মোদীর মন্তব্য উদ্ধৃত করেন মাহমুদ আলী, “বঙ্গবন্ধু নে বাংলাদেশ বানায়া, আউর উনকো বেটি নে বাংলাদেশ কো বাঁচায়া l

এটা নরেন্দ্র মোদির এসেসমেন্ট। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরেকটা কথা বলেছেন, ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে l বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ l

বৈঠকে ১৯৭৪ সালের স্থলসীমানা চুক্তির অনুসমর্থন ও তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি শেখ হাসিনা মোদীর কাছে বিশেষভাবে তুলে ধরেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী l

ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান যে, তার সরকার এ বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে l

মন্ত্রী জানান, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী l জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সার্ক স্যাটেলাইট স্থাপনের বিষয়ে তার সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন l

এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ আলী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে বেশ আগ্রহী l দুদেশের সর্বোচ্চ পর‌্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সফরের দিন নির্ধারণ করা হবে l

তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার সব রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন মোদী l এসময় শেখ হাসিনাও এবিষয়ে একই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন l

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী l

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে পারার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানা l

জাতীয় ও  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী ও মেয়ে শিশুদের সাক্ষরতা, শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সম্প্রতি বাংলাদেশের শীর্ষ স্থান অর্জনেরও প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব l

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক/আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন সভায় বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

সাভারে হকারদের টাকায় মন্ত্রীর অভ্যর্থনার আয়োজন :লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী

সাভার, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

sabarসড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এলেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিশেষ জায়গায় সংস্কারের প্রলেপ পড়ে। শুধুমাত্র মন্ত্রীকে সন্তষ্ট করার কারণে রাস্তা সংলগ্ন ফুটপাত এর কিছু অংশ দখলমুক্ত করা হয়। তাও আবার বুলডোজার ভাড়া করে। অথচ কথা ছিল সকাল থেকে বুলডোজারটি কাজ করবে এবং বাজার বাসস্ট্যান্ডের ৫ শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করবে। কিন্তু ঘটনাটি রহস্যের জাল বুনে যখন সময় দিয়েও বুলডোজারের দেখা পাওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার  বেলা ১২ টায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সিটি সেন্টারের সামনে নির্মিত দ্বিতীয় ফুটওভার ব্রীজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। আর সেই ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশেই হকার্স লীগের সৌজন্যে মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ঝুলছে বিশাল আকৃতির ব্যানার। মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফুটপাত দখলে রাখা হকারদেরদের নিকট থেকে   চাঁদা তুলে তৈরী করা হয়েছে এ ব্যানার ফ্যাস্টুন। মন্ত্রীর আগমণকে দৃষ্টি নন্দন ও সফল করতে তারাই মন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দিবে। হকারদের উচ্ছেদ না করতেই এই চাঁদাবাজীর আয়োজন বলে মন্তব্য করেন হকার দোকান মালিকদের এক নেতা। এ ছাড়াও হকারদের মহাসড়কের পাশ থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ না করতেও মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের সাথে। জানা যায়, মন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে লাখ টাকার চাঁদাবাজী হয়েছে ভাসমান হকারদের কাছ থেকে। যদিও অবৈধভাবে সড়ক ও জনপথের জায়গায় ভাসমান হকাররা টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।

> কলেজ ছাত্র রবিউল ইসলাম ব্যানারটি দেখিয়ে বললেন, যারা ফুটপাত দখল করে আমাদের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে রাখেন তারাই বিশাল ব্যানার টানিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন মন্ত্রীকে। এ কারণেইতো দেশে আসলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। হবেই বা কি করে! শেয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়ে মুরগি চেয়ে যা হয় তাই হবে এখানে, এভাবেই নিজের ক্ষেদোক্তি প্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ইব্রাহিম। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের বুলডোজার দেখিয়ে এমনটাই বলছিলেন অফিস ফেরত কর্মজীবী ইয়াসিন সিকদার। তিনি বললেন, মন্ত্রী এতো দৌঁড়ঝাঁপ করেন। একদিন তো গণপরিবহনে উঠতে পারেন। কিংবা কোনো প্রটোকল না নিয়েই আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পারেন সড়কের হাল। তবেই না বুঝতেন, আমরা কতোটা দুর্ভোগ আর কষ্ট নিয়ে নিত্য চলাফেরা করি। তার এ কথার সঙ্গেই সুমন পাটোয়ারি, হাসান মুন্সীর মতো কর্মজীবীদের আরো অনেকেই দাঁড়িয়ে যান আশ্বিনের বিকেলের কড়া রৌদ্রের মধ্যে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে। সবাই সমস্বরে বলতে থাকেন, মন্ত্রী এলেই সব সাজানো গোছানো, চকচকে ঝকঝকে! আর চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে আসে আগেকার নিত্য দুর্ভোগ। দখল হয়ে যায় পথচারী চলাচলের ফুটপাত। কর্মজীবী এসব মানুষের বক্তব্যের মিল পেতে বেশিদূর যেতে হয় না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভাড়া করা বুলডোজারই বলে দেয়, মন্ত্রীর আগমনী বার্তা। আর এ বার্তার জন্যেই যেন পথচারীরা প্রতিদিন মন্ত্রীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ব্যস্ততম সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে। গতকাল সোমবার বাসস্ট্যান্ডে ভাসমান উচ্ছেদ অভিযানের বিষয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সময় দিয়েও শেষ বিকেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মতৎপরতার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের চেষ্টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডের আংশিক ভাসমান বাজার উচ্ছেদ এর পর এখন যানজটমুক্ত। বুলডোজারের আঁচড়ে মুক্ত হয়েছে নবনির্মিত ফুট ওভার ব্রিজ সংলগ্ন ফুটপাত। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ মাছের বাজার।

> ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, আমরা সড়ক পরিচ্ছন্ন করতে চাই। ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে চাই। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন যেভাবে বলেন তার বাহিরে তাদের করণীয় কিছুই থাকে না। ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধনকে ঘিরে আমরা বাজার বাসস্ট্যান্ডকে পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত করতে চাই। কিন্তু  হকার লীগ যুবলীগ ও বিভিন্ন লীগদের দখলে থাকা ফুটপাতের অংশ দখল মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

> এ ব্যাপারে হকার সমিতির সূত্রে জানা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময় সড়ক ও জনপথ ভাসমান বাজারকে তাদের (সড়ক ও জনপথের) স্থানে থাকার বৈধতা দিচ্ছে। কতোদিন এ পরিস্থিতি বজায় থাকবে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেবলমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর প্রশাসনিক তদারকি হলেই এটা সম্ভব। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজের তদারকিতে ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান মোল্যা। তিনি বলেন, সদ্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ ঘিরে ৬০টির মতো ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা আমরা উচ্ছেদ করেছি। বাজারের ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি এ পরিস্থিতি বজায় রাখতে। নইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে তাদের। তিনি বলেন, বুলডোজারের আঘাতে অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর রুটি রুজিতে আচঁড় লেগেছে। বিষয়টি অমানবিক। তবে তাদের কাছে যারা এই ফুটপাত অবৈধভাবে ইজারা দেন তারা কিন্তু থাকছেন পর্দার বাইরে। হয়তো পর্দার বাইরে থাকা এসব লোকরাই থাকবেন মন্ত্রীকে ঘিরে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করবেন মন্ত্রীর উদ্বোধনস্থল। আর এ দৃশ্যই চলবে দিনের পর দিন। মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ফিরে যাবে চিরচেনা বাজার বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাত দখল আর ময়লা আবর্জনার জঞ্জাল-এমনটাই আক্ষেপ করছিলেন সোহরাব হোসেন নামের নাগরিক কমিটির এক নেতা।

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

জোটের বৈঠক ডেকেছেন খালেদা জিয়া

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

4141414২০ দলীয় জোটের নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া l

বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম জানান, গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ২০ দলীয় জোট নেতাদের এই বৈঠক হবে l

হজ নিয়ে মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর আপত্তিকর মন্তব্য এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে l

গত রোববার নিউ ইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী l

লতিফ সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় l

ওই ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, এ হজে যে কতো ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয় l এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন l এদের কোনো কাজ নাই l কোনো প্রডাকশ নাই l শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে l

ওই মন্তব্যের জন্য বিএনপি ইতোমধ্যে লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ দাবি করেছে l তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতও মন্ত্রীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

শুক্রবারের মধ্যে চামড়ার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

baniljo
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

আগামী শুক্রবারের মধ্যেই চামড়ার মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ l আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন l

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কোরবানির ঈদেই আমরা সবচেয়ে বেশি চামড়া পেয়ে থাকি l এ চামড়ার যাতে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায়, সে দিকটা খেয়াল রেখে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে l আমরা সরকারের পক্ষ থেকে মূল্য নির্ধারণ করতে চাই না l

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ দিন যাতে চামড়া পাচার না হয়, এ ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে l চামড়া যাতে পাচার না হয়, এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশকে (বিজিবি) জানানো হয়েছে l

মন্ত্রীর কথা শেষ হওয়ার পর একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘ব্যবসায়ীরা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করতে চান না l তখন তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদকে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে বলেন l এ সময় শাহীন আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁরা চামড়ার সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করবেন l

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে ৬৫ লাখ ৩৯ হাজার গবাদিপশু জবাই হয় l

সভায় বাংলাদেশ প্রস্তুত চামড়া, চামড়াপণ্য ও জুতা রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএলএলএফইএ), বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি

আইএস সন্দেহে ব্রিটিশ নাগরিক আটক

ISডেস্করিপোর্ট, ২৯ সেপ্টেম্বর রেডটাইমস বিডি ডটকম:

মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ l

সোমবার সকালে কমলাপুর থেকে সামিউল রহমান ওরফে ইবনে হামদানকে আটক করা হয় বলে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানান l

তিনি বলেন, সামিউলের অরিজিন বাংলাদেশি l তবে সে ব্রিটিশ নাগরিক l

আইএস ও নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে সে যোগাযোগের চেষ্টা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে l

বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে l

রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/সু জ/এস ডি