আমার দেখা আবুল বারাকাত

barakatসৌমিত্র দেব
ড.আবুল বারাকাতের নাম আমি প্রথম শুনি আমার কাকা ড. বিজন বিহারী পুরকায়স্থের মুখে। ড.বিজন বিহারীর নাম অনেকের কাছেই অপরিচিত ঠেকতে পারে। তাই একটু ভূমিকা দিচ্ছি। তিনি বৃটিশ আমলে কমিউনিস্ট রাজনীতিতে দীক্ষা নিয়েছিলেন। ৫০এর দশকে পাকিস্তান সরকারের দমন নিপীড়ণের শিকার হয়ে এক পর্যায়ে তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হন। ভারতের বিভিন্ন কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এক পর্যায়ে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকুরিতে থিতু হন। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে এসে বুদ্ধিজীবী মহলে প্রচুর ঘোরাঘুরি করেন। ভ্রাতুষ্পুত্র হিসেবে তিনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। আমি তখন কলেজের ছাত্র। তিনি আমাকে বলেন ড.আবুল বারাকাত এদেশের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি শুধু মেধাবী নন, একজন সাহসী গবেষকও বটে। অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে তার গবেষণা এর এক দৃষ্টান্ত। পরবর্তীকালে ঢাকায় সাংবাদিকতা করতে এসে বিভিন্ন সেমিনারে বারাকাত স্যারের বক্তব্য শুনি। তার গবেষণা কর্মের সঙ্গে পরিচিত হই। একাধিকবার তার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তার পান্ডিত্যে মুগ্ধ হই। তার একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে আমি একবার একটি ছোট গ্রন্থ প্রকাশ করি। বইটির নাম ছিল ‘জরুরীআইন ২০০৭ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি।’
এ বছর বই মেলায় আমার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নাম-বিষয় গণমাধ্যম। বইটি আমি উৎসর্গ করেছি ড.আবুল বারাকাতকে। কারণ ড.আবুল বারাকাতকে আমার মনে হয়েছে গণমানুষের অর্থনীতিবিদ।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক অধ্যাপক বারকাত বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক-অর্থনীতিবিদ হিসেবে উচ্চমানসম্পন্ন এবং গরীব-হিতৈষী নির্মোহ গবেষণাকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র ও বঞ্চনা, অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ, বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ, মানবউন্নয়ন, মানবাধিকার, ভূমি-কৃষি-জলা সংস্কার, মৌলবাদের অর্থনীতি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান সর্বজনস্বীকৃত। এই ধী-মান গবেষকের সমষ্টিক অর্থনীতি এবং উন্নয়নের রাজনৈতিক-অর্থনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণের বিস্ময়কর ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জীবনে নির্মোহ বস্তুনিষ্ঠ সত্য-সংশ্লিষ্ট শ্রমসাধ্য অনুসন্ধানের জন্য দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আবুল বারাকাত দেখিয়েছেন এশিয়ার সর্ববৃহত পাট কল আদমজী জুটমিল যখন বন্ধ করে দেয়া হয় গণমাধ্যম তখন সঠিক ভূমিকা পালন করেনি। শুধু গবেষণাতেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না। আদমজী জুটমিলের বেকার শ্রমিকদের সঙ্গে এখনও তিনি যোগাযোগ রাখেন। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনলাইন সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা রেডটাইমস বিডি ডটকমের পক্ষ থেকে পাট শিল্পের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সভাপতি ছিলেন ড.আবুল বারাকাত। ‘পাট শিল্পের উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক  মূল প্রবন্ধটি পাঠ করেছিলাম আমি। প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্ত দিয়ে তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন। আদমজীর বেকার শ্রমিক নেতাদেরকেও তিনি নিয়ে এসেছিলেন পরম মমতায়। আমরাও অন্ষ্ঠুানে সেই শ্রমিকদের বক্তব্য শুনেছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন প্রথিতযশা অধ্যাপক ড. বারকাত অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রথাবিরোধী, শেকড়-সন্ধানী এবং জন-হিতৈষী গবেষণার জন্য একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বিচারপতি ইব্রাহীম স্মারক স্বর্ণ পদকে ভূষিত হন। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বাংলাদশে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই কৃতি অর্থনীতিবিদের জন্ম ১৯৫৪ সনের ২৭ সেপ্টেম্বর। লালন-রবীন্দ্রনাথ-মশাররফ-কাঙ্গাল হরিনাথের পুণ্যভূমি পদ্মা-গড়াই বিধৈত কুষ্টিয়া শহরে। বাবা প্রয়াত ডা. আবুল কাশেম ও মাÑ প্রয়াত নূরুন নাহার-এর তৃতীয় সন্তান আবুল বারকাত। ১৯৭০ সনে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৭৩ সনে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে  এইচ এস সি পরীক্ষায় উচ্চমান প্রথম শ্রেণীসহ উত্তীর্ণ হন। মেধাবী ছাত্র আবুল বারকাত ঐ বছরই বাংলাদেশ সরকারের মেধা বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান মস্কো। Moscow Institute of National Economy (MINE, Plekhanov Institute)   থেকে অর্থনীতি বিষয়ে এমএসসি-তে সকল বিষয়ে সর্ব্বোচ্চ গ্রেডসহ অনার্সসহ প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৮২ সনে উন্নয়নের রাজনৈতিক-অর্থনীতি বিষয়ে সফলতার সাথে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ঐ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে আবুল বারকাত কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধে আবুল বারকাত সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং সাহসী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
ড. বারকাত মানুষের অধিকার-ভিত্তিক উন্নয়ন-সংশিষ্ট অসংখ্য মৌলিক গবেষণা গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর Development as Concientization (প্রকাশ ২০০৮)  Deprivation of Hindu Minority in Bangladesh: Living with Vested Property (ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় প্রকাশিত ২০০১,২০০৬), ,Development as Concientization (cÖKvk 2008), Deprivation of Hindu Minority in Bangladesh: Living with Vested Property (ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় প্রকাশিত ২০০১,২০০৬), Land Litigation in Bangladesh: A Case of Colossal National (বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রকাশিত 2008,2009), Land Litigation in Bangladesh: A Case of Colossal National Wastage (ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় প্রকাশিত ২০০১,২০০৬), Charland in Bangladesh: Political Economy of Ignored Resources (2007),  Political Economy of Khas Land in Bangladesh ((ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় প্রকাশিত 2001, 2009), Economics of Fundamentalism in Bangladesh  (2005, 2008, 2012, 2013), An Inquiry into Causes and Consequences of Deprivation of Hindu Minorities in Bangladesh through the Vested Property Act: Framework for a Realistic Solution (2000),Life and Land of Adibashis: Land Dispossession and Alienation of  Adibashis in the Plain Districts of Bangladesh (2009), “Social Protection Measures in Bangladesh: As Means to Improve Child Well-being” (2011), “Political Economy of Madrassa Education in Bangladesh: Genesis, Growth, and Impact (2011)”,  ইত্যাদি মৌলিক গবেষণাগ্রন্থ দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে।
উদীয়মান বা সাম্প্রতিক বিষয় এবং দূরাগত পরিণতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আবুল বারকাতের অন্তস্থিত ক্ষমতা তাঁকে সর্বজনগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনিই এদেশের প্রথম অর্থনীতিবিদ যিনি খাবার পানিতে আর্সেনিক দূষণের সামাজিক-অর্থনৈতিক অভিঘাত নিয়ে নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, ‘আর্সেনিকোসিস দারিদ্রের রোগ।’ অধ্যাপক আবুল বারকাত খাবার পানি থেকে আর্সেনিক দূরীকরণে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী বিষ্ময়কর গ্রেইঞ্জার চ্যালেঞ্জ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার (এনএই, যুক্তরাষ্ট্র) প্রাপ্ত ‘সনো ফিল্টার’ আবিষ্কারের সহকর্মী। অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত-ই প্রথম এদেশে মৌলবাদের অর্থনীতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করেছেন। অন্যত্র তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ‘বাংলাদেশে নগরায়ন হচ্ছে আসলে বস্তিয়ায়ন প্রক্রিয়া, ‘খানায় বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব।’ তিনিই প্রথম গভীর বিশ্লেষণপূর্বক দেখিয়েছেন যে পদ্মা সেতুসহ অনেক জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ অবকাঠামো বিনির্মাণ নিজস্ব অর্থায়নেই সম্ভব।
পরিশ্রমী গবেষক আবুল বারকাতের কৃতির ভা-ারে রয়েছে ৩৫০টির অধিক গবেষণা কর্ম। তিনি ১৬টি গবেষণাগ্রন্থ, ৮১টি জার্নাল প্রবন্ধ, ১৫৪টি গবেষণা মনোগ্রাফ রচনা করেছেন এবং ১১৫টি গবেষণাপত্র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন। আবুল বারকাতের গবেষণা, চিন্তা ও লেখার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ হচ্ছে: অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বিনিয়োগসহ বিনিয়োগ আবহ, শিল্প অর্থায়ন, মানব উন্নয়ন, মানব উন্নয়ন এবং নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের অধিকার, জমি-জলা অধিকার, বিশ্বায়ন এবং উন্নয়ন, জ্বালানী-বিদ্যুৎ এবং দারিদ্র বিমোচন, জাতীয় বাজেট এবং দারিদ্র, দারিদ্রের রোগ, কল্যাণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ঋণ এবং উন্নয়নের অধিকার, ভূমিহীনতা এবং গ্রামীণ দারিদ্র, জনসংখ্যা প্রক্ষেপণ, শিশু দারিদ্র, যুব দারিদ্র, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য ইত্যাদি। অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত প্রতিনিয়ত গভীরভাবে আরো যেসব বিষয়ে গবেষণা করে চলেছেন, তা’হল: উন্নয়ন এবং মানব উন্নয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং দারিদ্র বিমোচন, ভূমি-পানি-জ্বালানী এবং উন্নয়ন প্রসঙ্গ, মানবাধিকার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নের অধিকার, টেকসই উন্নয়ন বিশ্লেষণ, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মূল্যায়ন এবং বিশ্লেষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, মানব সম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক ক্ষেত্রের বিশ্লেষণ-ভিত্তিক গবেষণা, উন্নয়নে নারী, আঞ্চলিক জ্বালানী নিরাপত্তা, চেতনায়ন এবং কল্যাণমুখী মানসকাঠামো বিনির্মাণ প্রক্রিয়া, দুর্ভিক্ষ, জনমিতিক বিশ্লেষণ, মানব উন্নয়নে বৈষম্য, বিশ্বায়নের অধীন কৃষি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, উৎপাদন পদ্ধতি বিতর্ক, বাংলাদেশে আত্ম কর্মসংস্থান, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ ও অভিঘাত, অর্পিত সম্পত্তি আইনের রাজনৈতিক-অর্থনীতি, খাসজমির রাজনৈতিক-অর্থনীতি, মানব বঞ্চনার রাজনৈতিক-অর্থনীতি, ভূমি মামলার রাজনৈতিক-অর্থনীতি, সংবিধান ও উন্নয়ন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নিমার্ণ ইত্যাদি।
ড. আবুল বারকাত দেশ-বিদেশের অনেক পেশাজীবী সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির একটানা চারবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সমিতির মূখপাত্রের দায়িত্ব পালন  করেছেন। বর্তমানে (দুই মেয়াদে- ২০১০-২০১২ও ২০১২-২০১৪) তিনি ঐ সমিতির নির্বাচিত সভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১০-২০১২)। আবুল বারকাত ২০০৯ সালে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের  চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। অর্থনীতির প্রায়োগিক ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য প্রণিধানযোগ্য।  জনতা ব্যাংকে তাঁর সাফল্য অনেক, যার মধ্যে পরিচালন মুনাফা সর্ব্বোচ্চকরণের পাশাপাশি আছে দীর্ঘদিনের অস্থায়ী (ক্যাজুয়াল) কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ, কর্পোরেট সোশাল রেসপনসিবিলিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডর দেশব্যাপী সম্প্রসারণ, ভূমিহীন-প্রান্তিক কৃষকদের জন্য স্বল্পমেয়াদী সুদমুক্ত ঋণ ইত্যাদি।
ড. বারকাতের কল্যাণকামী গবেষণায় সচেতন দেশবাসী বারবার আন্দোলিত হয়। তাঁর কথায় ও কাজে ফলপ্রসূ দিক নির্দেশনার স্পষ্ট ছাপ আমরা পাই। অলীক আর অন্ত-সারশূন্য গবেষণার স্রোতধারায় আমরা আবুল বারকাতকে পাই একজন সত্যানুসন্ধানী, কার্যকর উন্নয়ন চিন্তা মানুষ হিসেবে।
রেডটাইমস বিডি ডটকম/ই এইচ/আই এইচ/এস ডি